রাজনীতি

‘জনগণ ফুঁসে উঠছে, স্বৈরশাসকের পতন ঘটবে’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘জনগণ ফুঁসে উঠছে’ দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘স্বৈরশাসকের মতো বর্তমান সরকারেরও পতন ঘটবে।’

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নড়াইলের এক আদালতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাতক্ষীরার এক আদালতে দলের প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ১০ জন এবং পাবনার এক আদালতে দলের ৪৭ জন নেতাকর্মীকে সাজা প্রদান এবং দলের বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর যৌথভাবে এ সমাবেশ আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আপনারা (সরকার) তারেক রহমানসহ নেতাকর্মীদের সাজা দিচ্ছেন। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের খেতাব ছিনতাই করতে চাচ্ছেন। এসব করে কোনো লাভ হবে না। দেশের জনগণ ফুঁসে উঠছে। এই জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে, এই জনগণের আন্দোলনে একদিন স্বৈরশাসকের মতো এই সরকারেরও পতন হবে।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার পদক আপনারা ছিনতাই করবেন। আমাদের কথা হলো- এটা একটা সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের অংশ। এই পদক এই সরকার দেয়নি। এই পদক স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের জনগণ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে দিয়েছিল।’

বিজ্ঞাপন

‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আপানারা মামলা দিলেন, আবার দুইবছর সাজাও দিলেন। আরও দুই’শ বছর দেন, কোনো লাভ হবে না। তারেক রহমান যখন দেশে ফিরে আসবেন, তখন আপনাদের হাজার বছরের সাজা মানুষ পাত্তা দেবে না’— বলেন মির্জা আব্বাস।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আল-জাজিরা দেখে মাথা খারাপ হওয়ার কী আছে? এই তো একটা ছোট-খাটো জিনিস দেখিয়েছে। আজকে ঘরে ঘরে ডন, ঘরে ঘরে মাফিয়া, ঘরে ঘরে দখলদার, ঘরে ঘরে খুনি, নারী ধর্ষণকারী। তাদের নিয়ে শেখ হাসিনার বসত। এই বসত বেশিদিন টিকে থাকবে না। কাচের ঘরে বসে অন্যের ঘরে ঢিল মারার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিন, গণতন্ত্র বন্ধ করলে, গণতন্ত্র রুদ্ধ করলে কী পরিণতি হয় তার ইতিহাস আছে। এজন্য এত লম্ফ-জম্ফ করে লাভ হবে না।’

বিজ্ঞাপন

দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘জেনারেল জিয়াউর রহমান খেতাব অর্জন করেছেন, এই অর্জিত খেতাব নিয়ে যাওয়া যায় না। তিনি পল্টন ময়দানের বক্তৃতা মাধ্যমে কোনো খেতাব পাননি। তিনি খেতাব পেয়েছেন বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ এবং সংগ্রাম করে, বাংলাদেশকে স্বাধীন করে। অতত্রব এসব কথা বলে কোনো লাভ নেই।’

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘এই প্রধানমন্ত্রী ভোট চোর, এই প্রধানমন্ত্রী নিশিরাতের ভোটের প্রধানমন্ত্রী। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের খেতাব যদি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্ব জনগণ কেড়ে নেবে, শেখ হাসিনা আর প্রধানমন্ত্রী থাকবে না।’

বিজ্ঞাপন

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘করোনাভাইরাসে বিশ্ববাসী আতঙ্কগ্রস্ত আর শেখ হাসিনা বর্তমানে আতঙ্কগ্রস্ত আল-জাজিরা ভাইরাসে। এই আল জাজিরা ভাইরাসকে কাউন্টার করার জন্য নতুন নাটক জিয়াউর রহমানের খেতাব কেড়ে নেওয়া এবং তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবীব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের পরিচালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিরিন সুলতানা, আজিজুল বারী হেলাল, নাজিম উদ্দিন আলম, আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, রাজীব আহসান, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, ইউনুস মৃধা, হাবিবুর রশীদ হাবিব, সুলতান সালাহ্উদ্দিন টুকু, এসএম জাহানঙ্গীর, রফিকুল আলম মজনু, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, ফখরুল ইসলাম রবিন, নজরুল ইসলাম, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, হাসান জাফির তুহিন, ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মীর সরাফত আলী সপু, আমিনুল হক, শামীমুর রহমান শামীম, ইশরাক হোসেন, রফিক শিকদার, সাইফুল ইসলাম নিরব, মোরতাজুল করীম বাদরু, হেলেন জেরিন খান, মোস্তাফিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, তানভীর আহমেদ রবিন, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তালুকদার, জাকির হোসেন রোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম


Source link

আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button