স্বাস্থ্য

বিক্রির জন্য ১০ লাখ ভ্যাকসিন চায় বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে বেসরকারিভাবে বিক্রির জন্য সরকারের কাছে করোনাভাইরাসের ১০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন চেয়েছে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)। আর্থিক মূল্যের বিনিময়ে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যাকসিন দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। বিপিএমসিএ সভাপতি এম এ মুবিন খান বলেছেন, সরকারের কিনে আনা ভ্যাকসিন থেকে ১০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন টাকার বিনিময়ে সম্পদশালীদের কাছে দিতে চান বলে তারা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জাতীয় কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম: বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন বিপিএমসিএ সভাপতি এম এ মুবিন খান। আলোচনা সভাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রমে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা হবে।

ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রমে বেসরকারি হাসপাতালে বিক্রির জন্য প্রাথমিকভাবে সরকারের কাছে ১০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন চেয়ে এম এ মুবিন খান বলেন, সরকারের হাতে ৭০ লাখ ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে। তবে যেভাবে ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে এতে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সব ভ্যাকসিন দেয়া সম্ভব হবে কি না এ নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।  আমরা ১০ লাখ ডোজ চাই বেসরকারি হাসপাতালে বিক্রির জন্য।

বিজ্ঞাপন

এম এ মুবিন খান বলেন, করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা, চিকিৎসা সেবা দেওয়া- সব ক্ষেত্রেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে। তাহলে ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন তাদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের অনুমোদন ও মূল্য নির্ধারণ করবে সরকার। এখন বেসরকারি হাসপাতালে টাকার বিনিময়ে কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষা করা যায়। ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও কেউ চাইলে সরকারি বিনা মূল্যের ভ্যাকসিন নিতে পারবেন, যারা সামর্থ্যবান তারা চাইলে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন কিনে নিতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাতে ভ্যাকসিন দিলে মানুষ ঘরের কাছের কেন্দ্র থেকে ভ্যাকসিন পাবেন একই সঙ্গে ভ্যাকসিন সংরক্ষণে একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।

ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রমে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) সাধারণ সম্পাদক ডা. আনোয়ার হোসেন খান বলেন, কোভিড মহামারির শুরু থেকেই সরকারি নির্দেশে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো ২৪ ঘণ্টা চালু রেখে নিরলসভাবে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। তাছাড়া আরটি-পিসিআর ল্যাবের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালগুলো লাখ লাখ কোভিড রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যভুক্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিডমুক্ত সনদ দিচ্ছে। কিন্তু গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি পর্যায়ে কোভিড টিকাদান কার্যক্রম শুরু হলে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এটা দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, সর্বসাধারণের সুবিধার্থে অ্যাসোসিয়েশন থেকে ২০টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভ্যাকসিন প্রয়োগ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে যৌক্তিক মূল্যমান সরকার থেকে নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য প্রস্তাবও উপস্থাপন করেন আনোয়ার খান।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, এফবিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, স্বাচিপের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া, আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনোয়ার খান।

সারাবাংলা/এসবি


Source link

আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button