রাজধানী

৩ দিন ধরে নিখোঁজ নারীর সন্ধান মিললো ৫ টুকরো লাশের সামনে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর ওয়ারীর কে এম দাস রোডের বাসা থেকে সজীব (৩৪) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটি পাঁচ টুকরো করা হয়েছিল। এ সময় ওই যুবককে হত্যার অভিযোগে ৪৭ বছর বয়সী এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি তিনদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ওয়ারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সজীবের মরদেহ উদ্ধার করে। ওয়ারী জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার কামরুল ইসলাম সারাবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কামরুল ইসলাম জানান, ওই নারীর দাবি— সজীব নামে এক ছেলের সঙ্গে দীর্ঘদিন তার প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। পরিবার ছেড়ে গত তিনদিন আগে হঠাৎ করে সজীবের বাসায় ওঠেন ওই নারী। স্ত্রী নিখোঁজ ‍উল্লেখ করে এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় জিডিও করেছিলেন তার স্বামী।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার সকালে ওই নারী ছুরি দিয়ে ছেলের বুকে আঘাত করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হলে পরে দুই পা ও অন্যান্য অঙ্গ কেটে ফেলা হয়। এরপর স্বামীকে কল করেন ওই নারী। পরে স্বামীর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসা থেকে সজীবের পাঁচ টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে।

খুন করার অভিযোগে ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ এরইমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কামরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তের আগে এ বিষয়ে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।  ওই নারী যে সত্য বলছে, তদন্তের আগে তা বলা যাচ্ছে না। তদন্তে ভিন্ন কিছুও বের হতে পারে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর ধরে স্বামীবাগের কাছাকাছি কে এম দাস লেনের ১৭/১ এর ওই বাসায় গিয়ে সজীবের সঙ্গে কারচুপি (ড্রেসে পুঁথি বসানো) বসানোর কাজ করতেন ওই নারী। তার ছেলে-মেয়েরা বড় হয়েছে। বড় মেয়ে কলেজে পড়ে আর দুই ছেলে চাকরি করেন। স্বামীও ব্যবসা করেন। তাদের বাসা ওয়ারীর পাশাপাশি এলাকায়।

বিজ্ঞাপন

একপর্যায়ে সজীবের সঙ্গে ওই নারীর প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। কিছুদিন হলো সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সজীবের বাসায় সময় কাটাতেন ওই নারী। রাতের বেলা বাসায় ফিরলে পরিবারের লোকজন জিজ্ঞেস করলে তাদের বলতেন, তিনি পুঁথি বসানোর কাজ শিখছেন। কাজের প্রয়োজনে তিনি বাইরে ছিলেন।

ওই নারী পুলিশের কাছে অভিযোগ করে বলেছেন, ড্রেসে পুঁথি বসানো এবং বাসায় এসে কিছু ড্রেস দিয়ে যাওয়ার সুবাদে সজীব ওই নারীর বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। এ সুযোগে সজীবের সঙ্গে তার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে এর আগে সজীবকে বেশ কয়েকবার সতর্কও করেছেন ওই নারী। এরপরও সজীব থেমে থাকেননি। বরং তার মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের আশায় বারবার বাসায় যাওয়া-আসা করতেন।

বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি কাপড়-চোপড় ব্যাগে ভরে নিয়ে ওই নারী কাউকে না জানিয়ে সজীবের বাসায় ওঠেন। এরমধ্যে ওই নারীর স্বামী স্ত্রীকে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে থানায় জিডি করেন।

বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে ওই নারী তার স্বামীকে ফোন করে বলেন, ‘আমি কে এম দাস রোডের এই বাসায় আছি। এখানে মহাবিপদে আছি। তুমি এসে আমাকে নিয়ে যাও। ওই নারীর স্বামী থানায় আগেই জিডি করেছিলেন তাই তিনি থানা পুলিশকে জানান যে, তার স্ত্রী কল করে সহায়তা চেয়েছে। তখন পুলিশ তার স্বামীকে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে দেখেন, পাঁচ টুকরো মরদেহের সামনে ওই নারী বসে আছেন।’

বৃহস্পতিবার (১১ ফ্রেবুয়ারি) সন্ধ্যায় ময়নাতদন্তের জন্য সজীবের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মরদেহ উদ্ধারের সময় ছিলেন ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তরিকুল হাসান সোহাগ। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘আটক নারীর সঙ্গে সজীবের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। কে এম দাস লেনে তার বাসা। সজীবও কে এম দাস লেনে থাকতেন। বুটিকসের কাজের কথা বলে সজীবের বাসায় প্রায় ওই নারী আসতেন।’

এসআই বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি টাকা-পয়সা নিয়ে সজীবের সঙ্গে ওই নারীর ঝগড়া হয়। একইসঙ্গে ওই নারী ও তার মেয়ের সঙ্গে সজীবের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়েও সজীব ও ওই নারীর মনোমালিন্য দেখা দেয়। আজকে ঝগড়া এক পর্যায়ে সজীব প্রথমে ওই নারীকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ওই নারীর হাত কেটে যায়।

পরে ওই নারী সজীবের কাছ থেকে ছুরি কেড়ে নিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে সজীব ঘটনাস্থলে মারা যান। পরে তার দুই পা, দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে ফেলে।

সারাবাংলা/ইউজে/টিআর


Source link

আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button