রাজনীতি

একটি জাতির জন্য ১২ বছর কিছু না: প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি জাতির জন্য ১২ বছর কিছু না। কিন্তু তারপরও আমরা যেভাবে এই দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, পথ দেখিয়ে যাচ্ছি- যদি এই পথ ধরেই এগুনো যায় তাহলে এদেশ অবশ্যই উন্নত-সমৃদ্ধ হবে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে যুক্ত হয়ে যুবলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা সাড়ে তিন বছরের মধ্যে একটি যুদ্ধ বিধস্ত দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। এরপর ২১ বছর এদেশের মানুষের জীবন থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়। সাধারণ মানুষ হয় বঞ্চনার শিকার। কারণ এই ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা নিজেদের ভাগ্য গড়তেই ব্যস্ত ছিল। যদিও তারা ছেঁড়া গেঞ্জি আর ভাঙা সুটকেসের গল্প শুনিয়েছে। কিন্তু ভাঙা সুটকেসই যাদুর বাক্স হয়ে গিয়েছিল আর ছেঁড়া গেঞ্জি তো তখন ফ্রেঞ্চ শিফন।’

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের কথা বলি, এরশাদের কথা বলি, খালেদা জিয়ার কথা বলি; যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই নিজেদের ভাগ্য নিয়েই ব্যস্ত ছিল। ব্যস্ত ছিল অর্থ সম্পদ নিয়ে। মানুষের জন্য তারা কিছু করেনি। করলে যে করা যায়, সেটা আমরাই প্রমাণ করেছি।’

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সময় থেকে আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দুর্যোগ আসে, দুর্যোগ আসবে। কিন্তু সেই দুর্যোগের সময় আমাদের শক্ত থাকতে হবে। মানুষের পাশে থাকতে হবে। পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, কাজ করতে হবে। তবেই যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করা যাবে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ এজন্য দেশের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে যুবলীগের করোনাকালীন সময়ে বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের ভুয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি করোনার সময় কেউ অসুস্থ হলে, বাবা-মা অসুস্থ হলে নিজের সন্তানও পাশে দাঁড়ায়নি। কিন্তু আমাদের যুবলীগের কর্মীরা তাদের পাশে গেছে। হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা তারা করেছে। মৃতদের দাফন এবং সৎকারের ব্যবস্থা করেছে। ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী এবং ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে।’

কৃষদের আমন ধান কাটা, বন্যা দুর্গত, আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালনসহ শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য তিনি যুবলীগের নেতাকর্মীদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘তারা মানবতার জন্য এই কাজগুলো যে করেছে, এটাই হচ্ছে সব থেকে বড়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানুষকে সাহায্য করে, এটাই সব থেকে বেশি প্রয়োজন।’

বিজ্ঞাপন

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা নিয়ে সংগঠনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদককের আমন্ত্রণ জানানো হলেও বয়সজনিত জটিলতার কারণে সবাই উপস্থিত ছিলেন না।

তবে সাবেক চেয়ারম্যানদের মধ্যে আলোচনা সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বিতর্কিত ইস্যুতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে। সাবেক চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন প্রান্তে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সাবেক সাধারণ সম্পাদকজ হারুনুর রশীদ।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল গত ১১ নভেম্বর। ১৯৭২ সালের ১১নভেম্বর দেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ এ যুব সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ।

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম


Source link

আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button