লাইফস্টাইল

শীতকালীন রোগব্যাধি এবং ন্যাচারোপ্যাথি ব্যবস্থাপনা

ডা. ঐন্দ্রিলা আক্তার

বাঙালির প্রিয় ঋতু শীত। নানা ধরণের সুস্বাদু পিঠা-পায়েস খাওয়ার জন্য শীতের অপেক্ষায় থাকি আমরা সারা বছর। আবার ঘোরাঘুরি এবং উৎসব অনুষ্ঠানের ঋতুও শীত। শীত ফ্যাশন আর স্টাইলেও আনে বৈচিত্র্য। নানা রঙ, সুতা আর কারুকাজের পশমি, উলের ভারি পোশাকে আমরা নিজেদের সাজাতে পছন্দ করি আর শীতের আমেজকে উপভোগ করি। আকাঙ্খিত আর প্রত্যাশিত এই ঋতুতে আমাদের শরীর এবং মনের উপরও রয়েছে ভিন্ন প্রভাব।

বিজ্ঞাপন

শীতে আমাদের শরীরের তাপমাত্রার চেয়ে জলবায়ুর তাপমাত্রা কম থাকায় ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। এছাড়াও এই সময় আবহাওয়া শুষ্ক-রুক্ষ থাকে। ধুলাবালি আর শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ত্বক এবং শ্বাসতন্ত্রের অ্যালার্জি দেখা দেয়। আবার শীতকালে শৈতপ্রবাহের কারণে সূর্যের তাপও কম থাকে আবার কোন কোন দিন কুয়াশার কারণে সূর্যের তাপ বিকিরণও কম হয়। সূর্য হলো শক্তিশালী প্রাকৃতিক শক্তির ভান্ডার। সূর্যের তাপে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু যেমন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস, প্যারাসাইট ইত্যাদি ধ্বংস হয়। শীতকালে সূর্যের তাপ কম থাকায় রোগ জীবাণুর বংশ বিস্তার এবং বৃদ্ধি ঘটে দ্রুত। ফলে আমরা নানান ধরনের জীবাণুবাহিত অসুখ যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া, টনসিলাইটিস, সাইনোসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ গলাব্যথা, হাঁচি-কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, কানে ব্যথা, মাথা ব্যথা, চোখের প্রদাহ, কানের প্রদাহ, চর্মরোগসহ হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিসের মতো ফুসফুসের রোগব্যধিতে ভুগে থাকি। এই সময়ে শীতের সাধারণ রোগব্যাধি থেকে সুস্থ থাকার জনয় চাই সচেতনতা। আসুন দেখে নেই ন্যাচারোপ্যাথি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কীভাবে শিতকালীন রোগব্যাধি থেকে সুস্থ থাকা যায়।

শীতের রোগব্যধি

বিজ্ঞাপন

সর্দি, হাঁচি-কাশি, জ্বর 
শীতের সময় ভাইরাসজনিত জ্বর, হাঁচি-কাশি, সর্দিতে আক্রান্ত হন অনেকেই। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা। কারণ শিশু এবং বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তরুণদের তুলনায় কম থাকে। তবে আজকের আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় খাদ্যাভ্যাস আর জীবনযাপন ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক তরুণদেরও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় কম আছে। ভাইরাস বা জীবাণুর সংক্রমণ ছাড়াও এসময়ে প্রকৃতিতে ধুলাবালি বেশি থাকার কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ধুলাবালি শ্বাসনালী এবং ফুসফুসে চলে যায়। ফলে অ্যালার্জি ও ব্রঙ্কাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার হারও বেড়ে যায়। পরিবর্তিত আবহাওয়ার প্রকোপে সর্দি, হাঁচি-কাশি, জ্বরে ভোগেন অনেকেই।

টনসিলাইটিস
শীতের সময় পর্যাপ্ত গরম কাপড় না পরলে ঠাণ্ডা বাতাস এবং আবহাওয়ায় আমাদের সংবেদনশীল অঙ্গগুলো যেমন নাক, কান ও গলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মুখ গহবরের দুইপাশে টনসিল নামে যে লসিকা গ্রন্থি রয়েছে আমাদের শরীরে প্রতিদিন প্রবেশ করা রোগজীবাণুর সংক্রমণ ঠেকাতে এগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শীতের হিম বাতাসে গলা, কান খোলা রেখে ঘুরে বেড়ালে টনসিল গ্রন্থির ক্ষতি হয় ফলে তাতে প্রদাহ হয়ে ফুলে ওঠে। এর ফলে আমরা গলা ব্যথা, ঢোঁক গিলতে অসুবিধাসহ খাওয়ার সমস্যা দেখা যায়। আবার টনসিল গ্রন্থিতে যদি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ফাঙ্গাস দ্বারা ইনফেকশন হয় তখনও টনসিল গ্রন্থি ফুলে ওঠে, প্রচন্ড ব্যথা হয় আবার এতে পুঁজও হয়। ইনফেকশনজনিত টনসিলাইটিস খুবই কষ্টকর একটি অবস্থা। এতে পানি গিলে খেতেও ভীষণ যন্ত্রণার অনুভূতি হয়। ঢোঁক গিলতে গেলে ব্যথায় দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়। অনেকসময় নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।

বিজ্ঞাপন

সাইনোসাইটিস
সাইনোইটিস হলো সাইনাস গ্রন্থির প্রদাহজনিত অসুখ। মুখের সামনে নাকের চারপাশে ফাঁপা জায়গাগুলোকে সাইনাস বলে। এরা মূলত নিঃশ্বাস গ্রহণের সময় বাতাস ফুসফুসে যাওয়ার আগে তাকে আর্দ্র করতে সাহায্য করে। এছাড়াও জীবাণুর সংক্রমণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সাইনাস গ্রন্থিগুলি। অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগলে এবং জীবাণুর সংক্রমণে সাইনোসাইটিস হয়। এতে সাইনাস গ্রন্থিগুলিতে শ্লেষ্মা জমে বাতাস চলাচলের রাস্তা ব্লক হয়ে যায়। ফলে শ্বাসতন্ত্রের স্বাভাবিক কাজ বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। সাইনোসাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি বন্ধ নাক, মাথাব্যথা, চোখব্যথা, মুখ ফুলে যাওয়া, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, গলার স্বর পরিবর্তন ইত্যাদি কষ্টকর যন্ত্রণা ভোগ করেন।

অ্যালার্জি
শীতে ধুলাবালির কারণে যাদের ডাস্ট অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে তাদের ভীষণ কষ্টে পড়তে হয়। আবার যাদের কোল্ড অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে তারাও শীতে বাড়তি কষ্টে ভোগেন। কোল্ড বা ডাস্ট অ্যালার্জির সমস্যা ছাড়াও শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বকের আর্দ্রতা কমে গিয়ে ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে কুটকুট করে ত্বক চুলকাতে থাকে অনেকেরই। এসময় জীবাণুর প্রাদূর্ভাব থাকার কারণে বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ যেমন একজিমা, দাদ, খোসপাঁচড়াও বেড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

নিওরোপ্যাথি
শীতের সময় হাত পা ঠান্ডা থাকে। ঠান্ডা অবস্থায় রক্ত চলাচল কম হয়। এতে নার্ভ ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হাত পায়ে আঘাত লাগলে টের পান না। ফলে তাতে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে জটিলতা তৈরি করতে পারে। এছাড়াও অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি ও বৃদ্ধ মানুষরাও শীতে নার্ভের জটিলতায় ভুগে থাকেন। অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগালে নার্ভের পাশাপাশি মাংসপেশি এবং হাঁড়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে নার্ভ, হাঁড় এবং মাংসপেশির নানান অসুখ হয়।

টিনিটাস
শীতে ঠাণ্ডা লেগে নাক, কান এবং গলার প্রদাহ থেকে টিনিটাস নামক একটি কষ্টকর সমস্যা সৃষ্টি হয় অনেকেরই। এতে আক্রান্ত কানে অনবরত বাঁশির মত শব্দ হতে থাকে। টিনিটাস কানের টিস্যুর ক্ষতি বা মস্তিষ্কের নার্ভের সমস্যা থেকেও হয়।

বিজ্ঞাপন

শীতকালীন রোগ প্রতিকার, প্রতিরোধ এবং নিরাময়ে ন্যাচারোপ্যাথি ব্যবস্থাপনা

ভিটামিন ডি
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অন্যতম উপাদান হলো ভিটামিন ডি। আজকাল শহুরে জীবন ব্যবস্থায় আমরা ইলেকট্রনিকস ডিভাইস নিয়ে কক্ষবন্দী জীবনযাপনে অভ্যস্ত। ফলে সূর্যের তাপ শরীরে লাগে না বললেই চলে। আর সূর্যের আলো বা তাপ হলো ভিটামিন ডি তৈরির সবচেয়ে ভালো উৎস। শহরের শিশু, তরুণ, বৃদ্ধ প্রায় সব বয়সের মানুষের শরীরেই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি রয়েছে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও দুর্বল। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী থাকলে শীতে জীবাণুবাহিত রোগব্যধি প্রতিরোধ করা যায় সহজে। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বেলা বারোটার মধ্যে অন্তত বিশ থেকে ত্রিশ মিনিট শরীরে রোদ লাগালে ভিটামিন ডি-এর চাহিদা পূরণ হয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি হাঁড়, দাঁত ইত্যাদি মজবুত থাকবে।

ভিটামিন সি
ভিটামিন সি শরীরের জমা থাকে না বলে প্রতিদিনই এই ভিটামিন গ্রহণ করতে হয়। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান যা শরীরে জীবাণুর সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা দরকার।

হারবাল ড্রিঙ্কস
শীতের সময় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েকবার হারবাল লিউকওয়ার্ম ড্রিঙ্কস্ খেলে শরীর সতেজ থাকে। এতে শরীরের জমা টক্সিন এবং জার্ম প্রস্রাব-পায়খানার সাথে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। ফলে শরীরের কোষগুলো নবজীবন লাভ করে। আদা চা, তুলসী চা, লেবু-মধু চা, গ্রীণ টি, গরম মসলার চা, তেজপাতা চা সহ ঔষধি গুণসম্পন্ন বিভিন্ন হারবাল টি শীতের সময় দিনে তিন থেকে চার কাপ খেলে শরীর রোগমুক্ত থাকতে সাহায্য করে। এছাড়াও শীতের সময় ঠাণ্ডা পানির পরিবর্তে সবসময় হালকা গরম পানি পান করা ভালো।

স্টিম ইনহেলেশন
শীতের সময় সাইনোসাইটিসসহ সর্দি, হাঁচি-কাশির সমস্যায় খুবই কার্যকরি হাইড্রোথেরাপি হলো স্টিম ইনহেলেশন। গরম পানিতে দুই টুকরা মেনথল বা এক চা চামচ লবণ মিশিয়ে ভাপ নিলে সাইনাসের শ্লেষ্মা পাতলা হয়ে সর্দি আকারে বের হয়ে আসে এবং সাইনাস ক্লিয়ার হয়ে যায়। এই ইনহেলেশন হাঁচি কাশির সমস্যায়ও খুবই উপকারি।

হট ফুট বাথ
শীতকালিন নার্ভের সমস্যায় ইপসম সল্ট হট ফুট বাথ খুবই উপকারী একটি হাইড্রোথেরাপি। এছাড়াও হট ফুট এন্ড আর্ম প্যাক এই সময়ে নার্ভ, মাসল এবং জয়েন্ট পেইনের রোগিদের খুব আরাম দেয়।

স্টিম বাথ
চিকিৎসা বিজ্ঞানে শরীরের ত্বককে বলা হয় দ্বিতীয় ফুসফুস। কারণ চর্ম গ্রন্থির ছিদ্র দিয়ে প্রতিনিয়ত বাতাসের আসা যাওয়া চলছে। এছাড়াও ত্বক ঘামের মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীণ বর্জ্য বের করে দেয়। শীতে ঘাম হয় না বললেই চলে। ফলে শরীরে বর্জ্য জমা হতে থাকে। শীতের সময় মাসে একবার করে স্টিম বাথ নিলে রোমকূপ খুলে যায় এবং শরীর ঘর্মাক্ত হয়ে বর্জ্য বের হয়ে আসে। এতে করে শরীরের বাড়তি মেদও ঝরে যায়। ত্বকের মরা কোষ দূর হয়ে নতুন কোষ জন্মায় ফলে ত্বক লাবণ্য পায়। আর শরীর সতেজ আর বর্জ্যমুক্ত হওয়ার ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে জীবাণুর সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

মাসাজ
স্টিম বাথ নেয়ার ঠিক আগে একটি ফুল বডি হারবাল অয়েল মাসাজ নিয়ে নিলে বর্জ্য নিষ্কাশন প্রক্রিয়াটা আরও ভালোভাবে হয়।

গার্গল
গলাব্যথা, কাশি, টনসিলাইটিসের সমস্যায় প্রতিদিন সকাল-বিকাল দুইবার লবণ-গরম পানির গার্গল করলে আরাম পাওয়া যায়। এর সঙ্গে যদি হলুদ গুড়া মিশিয়ে নেয়া যায় তাহলে আরও ভালো কাজ করে। আর গার্গল শেষে গলার ভেতর হলুদ মাখা কিছু সময় লাগিয়ে রাখলে জীবাণু ধ্বংস হতে সাহায্য করে।

রুম হিটার
শীতের সময় বাসায় রুম হিটার ব্যবহার করলে ঘরের তাপমাত্রা শরীরের তাপমাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। ফলে অতিরিক্ত ঠান্ডার কষ্ট থেকে অসুস্থ হবার ঝুঁকি থাকে না।

গোল্ডেন মিল্ক
জ্বর এবং যে কোন প্রদাহ জনিত শারীরিক সমস্যায় গোল্ডেন মিল্ক মহৌষধ। অসুখ ছাড়াও নিয়মিত ঘুমানোর আগে গোল্ডেন মিল্ক খেয়ে ঘুমালে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী থাকে ফলে সহজে রোগ ব্যধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।

ডিককশন
ডিককশন হলো এক ধরনের হারবাল ক্বাথ। যে কোন জ্বর, সংক্রমণ এবং প্রদাহজনিত অসুখে এই ক্বাথ খুবই উপকারি। অসুখে আক্রান্ত না হলেও একজন সুস্থ মানুষ মাঝে মাঝে ডিককশন খেলে শরীর জীবাণুমুক্ত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়।

ওয়েট ফাস্টিং
রোগাক্রান্ত হলে শরীরের বিশ্রাম দরকার হয়। তাই এসময় হারবাল ড্রিঙ্কস এবং পানি পানের মাধ্যমে ফাস্টিং করলে শরীর বিশ্রাম পাওয়ার পাশাপাশি জীবাণুমুক্ত হতে পারে। রোগ না হলেও মাসে বা পনের দিনে একবার এই ফাস্টিং সুস্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ফাস্টিং করা উচিত।

ইয়োগা এক্সারসাইজ 
শরীর ফিট রাখতে নিয়মিত ত্রিশ মিনিট হলেও ইয়োগা করা ভালো। সপ্তাহে পাঁচদিন ত্রিশ মিনিট ইয়োগা করলে শরীর রোগমুক্ত থাকে। তবে শীতের সময় খুব ভোরে ইয়োগা না করে সূর্য উঠলে বা বিকেলে করলে স্বাচ্ছন্দ্যে করা যায়।

মেডিটেশন
শীতে তাপমাত্রা কম থাকে। মানুষ লেপ কম্বল মুড়িয়ে ঘরে থাকতে আরাম বোধ করে। অনেকে আবার ডাল ওয়েদারের প্রভাবে ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয়। মেডিটেশন বিষন্নতা, হতাশা কাটানোর উত্তম উপায়।

আকুপ্রেসার
কানের টিনিটাসের সমস্যা ভালো করতে ইয়ার আকুপ্রেসার খুবই উপকারী। আর কানের কয়েকটি এক্সারসাইজ নিয়ম করে করলে টিনিটাসের সমস্যা ভালো হয়।

নিউট্রিশন এন্ড ডায়েট
ইমিউন সিস্টেম ব্যালান্সড থাকলে অসুখবিসুখ হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। আর ইমিউন সিস্টেম ঠিক থাকে সঠিক ডায়েট গ্রহণ করলে। পুষ্টিকর খাবার আর ব্যালান্সড ডায়েট সুস্বাস্থ্যের অন্যতম চাবিকাঠি। শীতকালীন টাটকা বাহারি শাকসবজি, ফলমূল প্রকৃতির অকৃপণ দান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সুস্থতার উপাদান। তাই প্রতিদিন শাকসবজি ফলমূল, সবজী বীজ, বাদাম খেতে হবে।

ঘুম এবং বিশ্রাম
প্রতিদিন কমপক্ষে ছয় ঘন্টা গভীরভাবে ঘুমাতে হবে। এছাড়া দিনে এক বা দুই ঘন্টা বিশ্রাম নিতে হবে। ঘুমের সময় আমাদের শরীর রিপেয়ার হয়। তাই সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে গভীর ঘুম অপরিহার্য। আর অসুস্থ হলে পুরোপুরি বেড রেস্ট নিতে হবে কারণ এসময় শরীর হিলিং প্রসেসে থাকে।

ন্যাচারোপ্যাথি ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী জীবনযাপনে অভ্যস্থ হলে ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী থাকবে ফলে শরীর সহজে রোগব্যধিতে আক্রান্ত হবে না। শীতের সময় গরম কাপড় পরে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখার পাশাপাশি কান-গলা ঢেকে রাখলে এবং পায়ে মোজা-স্যান্ডেল পরে থাকলে শীতকালীন স্বাস্থ্য সমস্যা এবং রোগব্যাধি থেকে বাঁচা যায়। আর যারা শীতের অসুখবিসুখে ভুগছেন তারা উপরের নিয়মগুলো মেনে চলুন, সুস্থ থাকুন।

সারাবাংলা/আরএফ/


Source link

আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button