জাতীয়

কারিগরি শিক্ষার্থীদের নার্সের লাইসেন্স: শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পেসেন্ট কেয়ার টেকনোলজিস্টদের নার্স হিসেবে নিবন্ধন/লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে নার্স ও মিডওয়াইফারিদের সাতটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত নার্সেস সংগ্রাম পরিষদ। নিবন্ধন দেওয়ার প্রতিবাদে আগামী তিনদিন সারাদেশের স্বাস্থ্য ও নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবে।

বিজ্ঞাপন

নার্সদের সাতটি সংগঠন হলো- বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন, স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ, বাংলাদেশ বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সেস সোসাইটি, বাংলাদেশ স্টুডেন্ট নার্সেস এন্ড মিডওয়াইফস সম্মিলিত পরিষদ, সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি এন্ড রাইটস, বাংলাদেশ ইন্টার্ন নার্সেস এসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট নার্সেস এসোসিয়েশন।

শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে সারাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নার্সিং ইনস্টিটিউটের হাজারো শিক্ষার্থী এ বিক্ষোভ-সমাবেশ অংশগ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বলা হয়, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের সেবায় সরাসরি সম্পর্কযুক্ত পেশা হচ্ছে- নার্সিং পেশা। যা আন্তর্জাতিকভাবে পেশা হিসেবে স্বীকৃত একটি পেশা। ১৯৩৪ সাল থেকে তৎকালীন বেঙ্গল নার্সিং কাউন্সিল- বাংলাদেশ নার্সিং ও বর্তমানে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আন্তর্জাতিক মান বিচার বিবেচনা করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অদ্যাবদি বিভিন্ন কোর্স পরিচালনা, ছাত্র-ছাত্রী নিবন্ধন কার্যক্রম, নার্স প্র্যাকটিশনার নিবন্ধন ও সনদ প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের সকল শর্ত (নির্ধারিত বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জেলা কোটা, শারীরিক যোগ্যতা) পূরণ সাপেক্ষে মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নার্সিং কোর্সে অধ্যায়নের সুযোগ লাভ করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রণীত কোর্স কারিকুলাম ও সিলেবাস অনুযায়ী কোর্স সম্পূর্ণ শেষে চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণগণই কাউন্সিলের কম্প্রিহেন্সিভ (লাইসেন্সিং/প্রিরেজিস্টেশন) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করে একজন বৈধ নার্স হিসেবে বিবেচিত হয়।

কিন্তু অত্যান্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে বাংলাদেশে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আইন ২০১৬ দ্বারা বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রণীত আইন অনুসরণপূর্বকসব শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী কোর্স কারিকুলাম, প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে আসছে। এ ছাড়া, ছাত্র-ছাত্রী নিবন্ধন কার্যক্রম, নার্স প্র্যাকটিশনার নিবন্ধন ও সনদ প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তবে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে চতুরতার মাধ্যমে নার্সিং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এতে দেশের জনগন চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। অন্যদিকে নার্সিং শিক্ষা ও সার্ভিসের মান বিনষ্টের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড পরিচালিত প্যাশেন্ট কেয়ার টেকনোলজি কোর্স বন্ধ করা হয়।

কিন্তু কারিগরি বোর্ডের পেসেন্ট কেয়ার টেকনোলজিষ্টরা নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল থেকে নার্স হিসেবে পেশাগত নিবন্ধন/লাইসেন্স দাবি করে। এর বিরুদ্ধে আজ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করে বিভিন্ন নার্সিং ইনন্সিটিটের হাজারো শিক্ষার্থী।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশে বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে অধ্যয়ন করা শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন পাওয়ার কোন যোগ্যতা নাই। তার কারণ হলো- নার্সিং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি পেশা। এটি বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আইন, ২০১৬ দ্বারা পরিচালিত। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, এইচএসসি, ব্যাকগ্রাউন্ড, জিপিএ, বয়স, সেশন, জেলা কোটা ও পুরুষ-মহিলা কোটা বিবেচনা করা হলেও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এর কোনোটাই মানা হয় না। এসব কারণে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্যাশেন্ট কেয়ার টেকনোলজিষ্টরা কখনোই নার্স হিসেবে লাইসেন্স দাবি করতে পারে না।’

সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি এন্ড রাইটসের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির মাহমুদ তিহান বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় ও করোনা ভ্যাকসিন কার্যক্রমে নার্সদের ভূমিকা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু নার্সদের যৌক্তিক তিন দফা দাবি এখনো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। খুব দ্রুত কারিগরি পেসেন্ট কেয়ারদের লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল ও মিডওয়াইফদের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ বেকার নার্সেস এসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. মামুন হাসান বলেন, ‘আমাদের তিন দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য গত ৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়কে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের দাবি মেনে নেয়নি। এর প্রতিবাদে আজ আমরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছি। অবিলম্বে আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া হলে পরবর্তীতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সমাবেশে বেকার নার্সেস এসোসিয়েশনের সভাপতি লিজা আক্তার বলেন, ‘জনগনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি রোধ করতে এবং নার্সিং শিক্ষা ও সার্ভিসের মান অক্ষণ্ন রাখতে আমাদের তিন দফা দাবি কর্তৃপক্ষকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবিগুলো মেনে না নেওয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

নার্সদের সাতটি সংগঠনের পক্ষ থেকে যে তিন দফা দাবি জানানো হয়। আগামী তিন দিনের মধ্যে যদি দাবি মানা না হয়, তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সমাবেশ থেকে জানানো হয়েছে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন- কামাল পাটোয়ারি, আনিসুল হক, মুন্নী আক্তার, সবুজসহ অন্যরা।

সারাবাংলা/কেআইএফ/এমও


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button