রাজনীতি

‘নির্বাচিত হলে বউ-শালা-শালী-ভাগ্নেদের মাতব্বর হতে দেবেন না’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিবার-আত্মীয়ের মাতব্বরির লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন। তিনি চেয়ারম্যান ও এমপিদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচিত হওয়ার আগে দলের কর্মীদের মূল্যায়ন করেন। কিন্তু চেয়ারম্যান-এমপি হওয়ার পর আপনাদের বউ-শালা-শালী-ভাগ্নেরা মাতব্বর হয়ে যায়। তাই আপনারা নৌকার নমিনেশন পেলেও পরবর্তীতে জয়ের জন্য ভয় ও আতঙ্কে থাকেন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সরকারের গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষকে ঘর উপহার দেওয়াসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকারভিত্তিক মেগাপ্রকল্প ও জনমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এসএম কামাল।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘সংকটে আপনাদের শেখ হাসিনা ঘুমান না। তার প্রমাণ আমরা দেখেছি অনেকবার। ২০২০ সাল আমাদের কাছে ছিল সংকটের বছর, দুর্যোগের বছর, মহামারির বছর। আজও মহামারি যায়নি। বিশ্ব নেতৃত্ব যখন হিমশিম খাচ্ছে, উন্নত দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা হিমশিম খাচ্ছে, তখন আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা শক্ত হাতে সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি সারাদেশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছেন। দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন সংকটে মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর জন্য।’

করোনাকালে জনগণের জীবন-জীবিকার চাকা সচল রাখার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন সাহসী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন এসএম কামাল। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা এই কাজগুলো কেন করেন? তিনি করেন বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। বাবা যেমন- ক্ষমতা নয় জনতায় বিশ্বাসী ছিলেন; তেমনি বাপের বেটী শেখ হাসিনার কাছেও বাংলার জনগণ আগে।’

বিজ্ঞাপন

নৌকার নমিনেশন পেলে জয়ের জন্য কেন আতঙ্ক-ভয়ে থাকেন? স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে এসএম কামাল বলেন, ‘কিছু সুবিধাবাদী আপনাদের ছত্রছায়ায় ঢুকে চাঁদাবাজি করেন, মাদকের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেব, উপজেলার চেয়ারম্যান সাহেব, এমপি সাহেব- এক বার নির্বাচনে জয়লাভ করলে দ্বিতীয়বার কেন জেতা কঠিন হয়ে যায়? কারণ কি? কারণ একটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়ার আগে আপনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকেন, দলীয় কর্মীদের মূল্যায়ন করেন। কিন্তু চেয়ারম্যান হওয়ার পর আপনার বউ আর শালা হয়ে যায় মাতব্বর। এমপি সাহেবও জয়ী হওয়ার পর বউয়ের কথা মতো চলেন। নইলে শালা-শালী, ভাগ্নের কথা মতো চলেন।’ এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কেউ যাতে মন খারাপ না করেন সে অনুরোধও জানান তিনি।’

স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারাই হচ্ছেন ভোটের মালিক। কিন্তু আপনারা যদি টিআর-কাবিখা দেওয়ার জন্য কমিশন নেন তাহলে আপনারা জনগণের কাছে যেতে পারবেন না।’ তাই এ বিষয়গুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের মনে রাখার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।

বিজ্ঞাপন

তিনি স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি হওয়ার জন্য টাকা খরচ করতে হয় কেন? আপনারা শেখ হাসিনার কর্মী। আপনাার হাছান সাহেবে বা সামাদ সাহেবের কর্মী নন। আপনারা শেখ হাসিনার কর্মী। শেখ হাসিনা আপনাদের বিশ্বাস করেন, আপনাদের ওপর ভরসা রাখেন। আমি এসএম কামাল কামাল শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রতারণা করতে পারি। কিন্তু আপনাদের বিশ্বাস করেন শেখ হাসিনা। আপনারা কারও কাছে টাকায় বিক্রি হবেন না।’

এদিন সম্মেলনের উদ্বোধক ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কেএম হোসেন আলী হাসান এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছামাদ তালুকদার। বিশেষ অতিথি ও সম্মানিত অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক বেগম রোকেয়া সুলতানা, কার্যনির্বাহী সদস্য মেরিনা জাহান কবিতা, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রতু, সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবে মিল্লাত এমপি, তানভীর শাকিল জয়, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ সূর্য, বিমল কুমার বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. জান্নাত আরা হেনরী। সভায় সভাপতিত্ব করেন কামারখন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মতিন চৌধুরী এবং সভা পরিচালনা করেন আনোয়ার হোসেন শেখ।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button