খেলা

টিম ম্যানেজমেন্টের বোধোদয় আর কবে হবে?

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা টেস্টে স্পিনাররা দারুণ টার্ন পাচ্ছেন। তাইজুল ইসলাম, মেহেদি হাসান মিরাজ আর নাঈম হাসানের বল কখনো কখনো আট ইঞ্চি বেঁকে গিয়েও ব্যাটসম্যানের স্ট্যাস্পে চুমু খাচ্ছে! সমান দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন পেসাররাও। আবু জায়েদ রাহি তো বটেই (দুই ইনিংসে ৬ উইকেট) পার্ট টাইমার পেসার হিসেবে সৌম্য সরকার উইকেটের দেখা পেয়েছেন (১)। অথচ এমন ট্র্যাকে কিনা মাত্র একজন নিয়মিত পেসার নিয়ে খেলছে বাংলাদেশ!

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম টেস্টের উইকেটে কন্ডিশনও অনুরূপ ছিল। তাহলে কেন একাদশে দুইজন পেসার রাখা হলো না? জানতে ইচ্ছে হয়, স্বাগতিক টিম ম্যানেজমেন্ট কী উইকেট পড়তে ভুল করেছেন, নাকি উপমহাদেশের কন্ডিশন বলে আজও সেকেলে মতাদর্শেই পড়ে রয়েছেন?

টেস্ট সিরিজ এলেই যেন বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট সংকুচিত হয়ে যায়। ভীত, সন্ত্রস্ত, থরোথরো। এবং তাদের প্রতিটি পরকল্পনায় সেই প্রতিফলন দেখা যায়। আর সেটা যদি হয় দেশের মাটিতে তাহলে তো কথাই নেই। স্পিন বান্ধব বান্ধব উইকেট তৈরি করে রাজ্যের স্পিনার দলে ডেকে প্রতিপক্ষ বধের ছক আঁকে। পক্ষান্তরে বিদেশের মাটিতে বিশেষ করে ইংলিশ কন্ডিশনে খেলতে গেলে তো কথাই নেই। হারকে পূর্ব নির্ধারিত ধরেই বিমানে চেপে বসে!

বিজ্ঞাপন

তারা সম্ভবত ভুলেই যান, বিশ্ব ক্রিকেট আর আগের মতো নেই। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন উপমহাদেশের কন্ডিশনে সিদ্ধহস্ত।

চট্টগ্রাম টেস্টের কথাই ধরুন না। সাগরিকায় চার তিন স্পিনারের (সাকিব আল হাসান দ্বিতীয় দিনে ইনজুরি) বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯৫ রান তাড়া করেও জিতেছে সফরকারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যা বাংলাদেশে তো বটেই এশিয়া অঞ্চলের যেকোনো ভেন্যুতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের এই হারের পেছনে কারণ স্রেফ বোলারদের অদূরদর্শিতা। বিশেষ করে স্পিনারদের। টাইগার ট্রায়ো’র কেউই সিরিজের প্রথম টেস্টে এক জায়গায় ধারাবাহিক বল ফেলে অতিথিদের কঠিন সময় উপহার দিতে পারেননি। পারেননি একমাত্র পেসার মোস্তাফিজুর রহমানও। প্রথম ইনিংসে কাটার, স্লোয়ার, বাউন্সার ও ইয়র্কারের পসরা সাজিয়ে সফরকারি ব্যাটসম্যানদের অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে থেকেছেন নিজের ছায়া হয়ে। সেখানে আর একজন পেসারের অভাব ফুটে উঠেছিল প্রকটভাবে। অথচ ওই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে আগুনের গোলা ছুড়েছেন কেমার রোচ ও শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।

পরিতাপের বিষয় হলো, চট্টগ্রাম টেস্ট দেখেও টিম ম্যানেজমেন্টের বোধোদয় হলো না! তারা খুব ভালো করেই জানেন উইকেট অতিমাত্রায় স্পিনবান্ধব তৈরি করা হলে আইসিসি থেকে ডিমেরিট পয়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। আবার রোচ, গ্যাব্রিয়েল ও আলজারির মতো পেসার প্রতিপক্ষের ড্রেসিংরুমে মজুদ থাকায় পুরোদস্তুর সিমিংও করা যাবে না। তাহলে আর কী বাকি থাকে, স্পোর্টিং? সেটা করতে হলে তো ন্যূনতম দুই পেসারের আক্রমণ আদর্শ। কিন্তু তা আর হলো কই? সেই তিন স্পিনার নিয়েই ঢাকা টেস্টে নামতে হয়েছে অধিনায়ক মুমিনুল হককে।

বিজ্ঞাপন

একজন পেসার বেশি নিলে হয়তো একজন ব্যাটসম্যান কম খেলাতে হত। তাতে কী খুব সমস্যা হত? মোটেই নয়। বরং সাত ব্যাটসম্যান নিয়ে নামলে আরও একজন পেসারকে অনায়াসেই একাদশে জায়গা দেওয়া যেত এবং তা মোটেও অবিমৃশ্যকারী কোনো সিদ্ধান্ত হত না।

অদূরদর্শিতার শেষ এখানেই নয়, সাইফ হাসানকে দলে রেখেও চোটে ছিটকে যাওয়া সাদমান ইসলাম অনিকের বদলি হেসেবে ডাকা হল সৌম্য সরকারকে! যিনি এই সিরিজের প্রাথমিক স্কোয়াডেই ছিলেন না! ফলে অনুশীলনও করেননি। ঢাকা টেস্টের আগে মাত্র এক বেলা অনুশীলন করেছেন। এক বেলা অনুশীলন করে টেস্ট ক্রিকেটে নামার এমন ঘটনা হয়তো ক্রিকেটের ইতিহাসেই বিরল। কেননা টেস্ট ক্রিকেটে নামার আগে ন্যূনতম চার সপ্তাহের অনুশীলন বাধ্যমুলক। সেই প্রমাণ অবশ্য তিনি হাতেনাতেই পেয়েছেন। প্রথম ইনিংসে শূণ্যহাতে ফেরা এই বাঁহাতি দ্বিতীয় ইনিংসে নামের পাশে যোগ করেছেন মাত্র ১৩ রান।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট চিরাচরিত সেই নিয়মের তার ধারও ধারল না। ধর তক্তা মার পেরেক এই নীতি অনুসরণ করে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি হলেও যে টেস্ট হয় না তারা বোধ হয় তা বেমালুম ভুলে বসে আছেন!

সারাবাংলা/এমআরএফ/এসএস


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button