জাতীয়

‘জাতির অর্জনের কথা প্রজন্মের পর প্রজন্মের জানা উচিত’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা বিজয়ী জাতি। যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি। স্বাধীন জাতি হিসেবে অনেক সুযোগ সুবিধা আমাদের সামনে এসেছে। একসময় এই জাতি ছিল শোষিত-বঞ্চিত, নির্যাতিত-নিপীড়িত। আজ সেই জাতি বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই অর্জনটা কেন, কীভাবে পেলাম? সেই কথা প্রজন্মের পর প্রজন্মের জানা উচিত।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা প্রান্তে যুক্ত হয়ে মতবিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গাজীপুর কালিয়াকৈর, কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ী খুলনা পাইকগাছা, চাঁদপুর হাইমচর, মৌলভীবাজার বড়লেখার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

বিজ্ঞাপন

তার আগে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি গণভবন থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টিবোর্ডের ৬৬তম সভায় অংশ নেন।

ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতি সংরক্ষণে তার সরকারের মেয়াদে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এই কাজগুলো যাতে ভালোভাবে বাস্তবায়ন হয় সেদিকেও সবাইকে দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আগামী প্রজন্ম যেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগুলো জানতে পারে, দেখতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমরা এই ব্যবস্থাগুলো নিচ্ছি।’

অতীতে বিভিন্ন সরকারের মেয়াদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবহেলা-দুর্দশায় দিন কাটানোর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চরম অবহেলায় দিন কাটাতে হয়েছে। তখনকার অবৈধ সরকারের সাথে যারা হাত মেলাতে পেরেছিল তাদের কেউ কেউ হয়তো ভালো ছিল। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই কষ্টে ছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধারা ভিক্ষা করে খাবে, ঘর থাকবে না, তাদের ছেলেমেয়েরা অবহেলিত হবে- এটা অন্তত আমি যতদিন বেঁচে আছি ততদিন হতে দেবো না। কারণ তাদের অবদানেই তো আমাদের আজকের স্বাধীনতা। আজকে আমরা যে যা কিছু হচ্ছি, যত সম্পদ কামাচ্ছি, সবই তো তাদের অবদানের জন্য। সেই কথাটা সবাইকে মনে রাখতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

তাই প্রধানমন্ত্রী সমাজের বিত্তশালীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘বিত্তশালী কোনোদিন হতে পারতেন না যদি বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন না করতো। কাজেই আপনাদের এলাকায় যদি কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা এরকম অবহেলিত থাকে, তাহলে নিজ উদ্যোগে তাদের সমস্যা দূর করে জীবনটা যাতে ভালোভাবে চলে সে ব্যবস্থাও নেবেন। আর সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় অবশ্যই আমি তা করে যাচ্ছি এবং করে যাব।’

ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটাল সেবা মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা দিতে পারার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের ভাতাটা আর কারও কাছে হাত তুলে নিতে হবে না; সেটা যেন তাদের হাতে সরাসরি পৌঁছে যায়, সেই ব্যবস্থাই নিচ্ছি। আর এ জন্য আজ আমি খুবই আনন্দিত।’

বিজ্ঞাপন

মুজিববর্ষে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘২০২০ থেকে ২০২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই উৎসব চলবে। যদিও করোনাভাইরাসের কারণে আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু করতে পারছি না।’ সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থেকে মুজিববর্ষ উদযাপন করার সৌভাগ্যের জন্য সৃষ্টিকর্তা ও দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী।

মুজিববর্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের সাধারণ সম্মানী ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণার কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও গৃহহীন থাকবেন না। বাংলাদেশের কোনো মানুষ-ই গৃহহারা থাকবে না। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। যারা গৃহহীন-ভূমিহীন মুজিববর্ষে তাদের ঘর দেবো। আর যাদের জীর্ণশীর্ণ ঘর তাদের নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। তাদের জীবনটা সুন্দরভাবে বাঁচুক, তাদের পরিবার ভালোভাবে থাকবে, সেটাই আমরা চাই। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘর আলোকিত হবে, প্রত্যেক মানুষ উন্নত জীবন পাবে।’

একই অনুষ্ঠানে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রান্তে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button