খেলা

বেজায় চটেছেন পাপন, তদন্ত করবেন হারের কারণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঘরের মাঠেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সাঁড়ির দলের কাছে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সে বেজায় চটেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বললেন, এই হারের কারণ তিনি অনুসন্ধান করবেন।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচটি পঞ্চম দিন পর্যন্ত গড়িয়েছিল। কিন্ত হোম ভেন্যু মিরপুর শের ই বাংলায় দ্বিতীয় ম্যাচটি এক দিন বাকি থাকতেই গুটিয়ে গেল! টেস্ট মর্যাদার ২১ বছরের পথ চলায়ও ঘরের মাঠে ২৩১ রানের লক্ষ্য ছুঁতে ব্যর্থ ডোমিঙ্গো শিষ্যরা! দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল ২৩১ রান। হাতে ছিল দেড় দিনেরও বেশি সময়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে তারা শেষ সেশনেই গুটিয়ে গেলেন ২১৩। অর্থাৎ একটি সেশনও তারা উইকেটে টিকে পারেননি! বিষয়টি দারুণ আহত করেছে বিসিবি সভাপতিকে। এবং অনতি বিলম্বেই এই বিব্রতকর হারের কারণ তিনি খুঁজে বের করবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন।

রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ম্যাচ শেষে বিসিবি প্রাঙ্গনে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

বিজ্ঞাপন

বিসিবি বস বলেন, ‘আসলে এটা শুরু হয়েছে আফগানিস্তান সিরিজ থেকে। এর আগে কিন্তু আমরা এরকম কখরো দেখিনি। আফগান্তিান সিরিজ দেখে আমি খুবই হতাশ ছিলাম আপনারা জানেন। আমি বলেছি এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব না। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে দুটি টেস্ট দেখলাম। দুটি ম্যাচই আমরা অত্যন্ত খারাপ খেলেছি। এটা এমন না যে ভাগ্যের ব্যাপার, ভাগ্য খারাপ ছিল এমন কিছুই না। আমরা খুবই খারাপ খেলেছি এতে কোন সন্দেহ নেই। এবং দ্বিতীয় ম্যাচে যেটা হয়েছে এটাতেও… এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। এখানে অনেক বড় সমস্যা আছে। এমন না স্পিন বিশেজ্ঞ একটি দলের বিপক্ষে খেলছি। এবং একটি নতুন দল। এখানে অনেক সমস্যা। এখানে (ঢাকায়) প্রথম ইনিংসে মনে হয়েছে আমরা ম্যাচটি ছেড়ে দিচ্ছি। এখনে যেভাবে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এলো এটা আমি কোনো দলে দেখিনি। একাধিক প্লেয়ার বারবার উইকেট দিয়ে এসেছে সেটা দেখে খুবেই খারাপ লেগেছে। মুশফিক ছাড়া বাকিরা যেভাবে আউট হয়েছে এটা অন্তত কোনভাবেই আশা করা যায় না।’

ক্যারিবিয়দের বিপক্ষে দুই টেস্টেই ব্যাটে বলে অসাধারণ পারফর্ম করেছেনে মেহেদি হাসান মিরাজ। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১১৩ রানের পাশাপাশি বল হাতেও নিয়েছেন ৪ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটে নিস্প্রভতা (৭ রান) দেখা গেলেও ঘূর্ণি জাদুতে ঘায়েল করেছেন ৪ ক্যারিবিয়কে। ব্যাটিং ছন্দ দেখিয়েছেন ঢাকা টেস্টেও। প্রথম ইনিংসে ব্যাট থেকে এসেছে ৫৭ রান। বল হাতে নিয়েছেন ১ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে সমান সংখ্যক উইকেট পেলেও ২৩১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট হাতে একাই লড়েছেন। তাই মিরাজের উচ্ছাসিত না করে যেন পারলেনই না বিসিবি সভাপতি।

বিজ্ঞাপন

‘মিরাজের প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরি যদি বাদ দেন ও এই টেস্টেও ওর রান যদি বাদ দেন আমি তো কোন রানই দেখছি না। সমস্যাটা কোথায়? কিন্তু আমাদের প্লেয়ারতো আর আহামরি বদলায়নি। শুনতে খারাপ লাগবে হয়ত কিন্তু কোন কিছুই ঠিক হয়নি। প্রতিটি ম্যাচের আগে একটা পরিকল্পনা থাকে, কৌশল থাকে। কিন্তু আমাদের কিছুই ছিল না। এভাবে চলতে দেওয়া যাবে না। আবার রাতারাতি কোচিং স্টাফ ও অধিনায়ক বদলে ফেলব তাও না। কিন্তু এখন সময় হয়েছে দেখার। কারণ এর আগে এমন কখনো হয়নি। হারতে পারি কিন্তু একটা টিম আসবে আমরা নিশ্চিত হয়ে যাব যে ২৫০ রানই যথেষ্ট্ এটা তো হতে পারে না। অবশ্যই আমরা খারাপ বোলিং করেছি। এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

ক্রিকেটারদের মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পাপন, ‘ওদের মানসিকতা দেখে মনে হয়েছে এটা টেস্ট খেলা না। প্রথম ইনিংসে মনে হয়েছে কতো তাড়াতাড়ি ড্রেসিং রুমে যাব। ঠিক যখন সেট হয় তখনই আউট হয়ে চলে আসে। এগুলো কোচিং স্টাফদের দেখার কথা ছিল। সমস্যা হল, করোনায় বায়ো বাবলের কারণে গতকাল রাতে টিম মিটিংয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটাও জানতে পারিনি।’

বিজ্ঞাপন

টাইগার দলে কেন একজন পেসার খেলান হল সেটাও পাপনের বিবেচনা এড়িয়ে যায়নি, ‘একটা সময় ছিল যখন আমরা স্পিনে ভাল ছিলাম কারণ আমাদের পেসার ভালো ছিল না। কিন্তু গত তিন বছর ধরে আমরা চেষ্টা করেছি কীভাবে পেস ভালো করা যায়। ফলশ্রুতিতে ঘরোয়া ক্রিকেটে আমাদের পেসাররা ভালো করেছে। এবং আমাদের পেসারদের অপশনও আছে। ৫ জন পেসার থাকতে আমি কেন খেলাব না। আমার বলার কিছু নাই। আমার মনে হয়েছে এটার আমূল পরিবর্তন লাগগে। আমাদের ৫-৬ জন বিশ্বমানের ক্রিকেটার আছে। তাদের কী বলে দিতে হবে যে কীভাবে ব্যাটিং করতে হবে? এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। এটা অবশ্যই বদলতে হবে। কিন্তু আমাকে জানতে হবে কি হয়েছে?’

সারাবাংলা/এমআরএফ/এসএইচএস


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button