জাতীয়

ভাষা দিবসের চেতনার বিশ্বায়নে সহায়তা চায় কানাডীয় প্রতিষ্ঠান

এমএকে জিলানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছে কানাডার সংগঠন মাদার ল্যাংগুয়েজেস লাভারস অব দ্য ওয়ার্ল্ড সোসাইটি (এমএলএলডব্লিউএস)। তাদের উদ্যোগেই মাতৃভাষার স্মৃতিস্তম্ভও স্থাপিত হয়েছে কানাডায়। কেবল কানাডা নয়, একুশে ফেব্রুয়ারি তথা ভাষা দিবসের চেতনা সারাবিশ্বেই ছড়িয়ে দিতে চায় সংগঠনটি। আর তার জন্য বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে এমএলএলডব্লিউএস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের কাছে বিষয়টি নিয়ে চিঠি লিখেছেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। চিঠি দুইটি কপি সারাবাংলার হাতে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চিঠি দুইটিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা আমাদের কার্যক্রম কানাডাকে অতিক্রম করে বহির্বিশ্বে সম্প্রসারিত করছি। এ পর্যায়ে আমাদের কোনো এক রাষ্ট্রের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। আমরা আশা করি, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশি দূতাবাসগুলো যদি আমাদের সামান্যতম লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়, তবে একুশকে বিশ্বায়ন নিতান্তই সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

বিজ্ঞাপন

ভাষা দিবসের চেতনার বিশ্বায়নে সহায়তা চায় কানাডীয় প্রতিষ্ঠান

চিঠিতে এমএলএলডব্লিউএস বলছে, প্রবাসে বাংলাদেশের সব মিশনকে সহযোগিতার জন্য নির্দেশ দিলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বিশ্বায়নের বিষয়টিকে তারা এগিয়ে নিতে যেতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

এমএলএলডব্লিউএস’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের চেতনাকে সারাবিশ্বে বাস্তবায়নের জন্য আমরা বেশকিছু নজির স্থাপন করেছি। একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পার্মানেন্ট রিমাইন্ডার হিসেবে কানাডায় প্রথম মাদার ল্যাংগুয়েজ মনুমেন্ট ‘লিংগুয়া অ্যাকুয়া’ সম্পূর্ণ সরকারি খরচে কানাডার সিটি অব স্যারিতে প্রতিষ্ঠা করেছি। বাংলাদেশি ভূখণ্ডের বাইরে পৃথিবীর মধ্যে কানাডার ভ্যানকুভারই একমাত্র জায়গা যেখানে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে একুশে ফেব্রুয়ারিকে ২০০৭ সালে ভাষা শহিদ দিবস (ল্যাংগুয়েজ মার্টার্রস ডে) হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ভাষা দিবসের চেতনার বিশ্বায়নে সহায়তা চায় কানাডীয় প্রতিষ্ঠান

তাদের প্রচেষ্টাতেই ২০১৫ সালে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রভিন্স সরকারিভাবে একুশে ফেব্রুয়ারিকে ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে ঘোষণা দিয়েছে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক ক্যালেন্ডারেও ২১ ফেব্রুয়ারিকে ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আমিনুল জানালেন, ভাষা দিবসের চেতনা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে ‘ব্রিটিশ কলাম্বিয়া মডেল’ সংক্ষেপে ‘বিসি মডেল’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তার সংগঠন এমএলএলডব্লিউএস। প্রকল্পটির কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এর আওতায় কানাডার স্যারি রাজ্যে এই দিবসটির তাৎপর্য ১৭২টি ভাষাভাষীর ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। অন্যদিকে ইউনেস্কোর সহকারী মহাপরিচালক কিয়ান ট্যাং এক পত্রে জানিয়েছেন, বিসি মডেলটি স্থানীয় ও বিশ্বময় পরিমণ্ডলে অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ফলপ্রসূ কর্ম প্রক্রিয়া হিসেবে ইউনেস্কোর কাছে বিবেচিত হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বিসি মডেল বাস্তবায়নে এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে ইউনেস্কো আমাদের বলেছে যে এই বিষয়ে কোনো রাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে অতীতের মতো সহযোগিতা করার আবেদন করেছি।’

ভাষা দিবসের চেতনার বিশ্বায়নে সহায়তা চায় কানাডীয় প্রতিষ্ঠান

কানাডীয় প্রতিষ্ঠানটির এই উদ্যোগ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সারাবাংলাকে বলেন, “এমএলএলডব্লিউএস সম্পর্কে আমি জানি। তারা ভাষার চেতনা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি গত ২০০১ সালে ‘একুশে পদকে’ ভূষিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এমন ভালো কাজে জন্য এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট মরহুম রফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগী আব্দুস সালাম ‘স্বাধীনতা পদক’ও পেয়েছেন।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তবে তারা সহযোগিতা চেয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি যে চিঠি লিখেছে, তা আমি এখনো পাইনি। চিঠিটা হাতে আসুক। অবশ্যই এমন ভালো কাজে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানো এমএলএলডব্লিউএস’র পাঠানো চিঠি পড়ুন এখানে—

সারাবাংলা/জেআইএল/টিআর


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button