লাইফস্টাইল

যত্নে থাকুক ঘরের গাছগুলো

আহসান রনি

আধুনিক মানুষের শহরমুখী প্রবণতা যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবেশ নিয়ে তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে সচেতনতা। সৌন্দর্য্য সচেতনতা ও রুচিবোধে যুক্ত হচ্ছে সবুজ। আধুনিকতা আর আভিজাত্যেও ঘটছে সবুজের সংযোগ। তাইতো এখন ঘরেও থাকে সবুজের ছোঁয়া।

বিজ্ঞাপন

ঘরের ভেতর যে গাছগুলো বেঁচে থাকে তাদের বলা হয় ইনডোর প্ল্যান্ট। এসব গাছে খুব বেশি আলো বাতাসের প্রয়োজন হয় না। তবে গাছগুলোকে প্রাণবন্ত রাখতে মৌলিক পাঁচটি বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি।

সঠিক স্থান নির্বাচন

বিজ্ঞাপন

যত্নে থাকুক ঘরের গাছগুলো

সাধারণত কোন গাছই দীর্ঘদিন আলো বাতাস ছাড়া বাঁচতে পারে না। তবে ইনডোর বা ছায়াবান্ধব গাছগুলো সামান্য আলো বাতাস পেলে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে। তাই ঘরের ভেতরে এমন জায়গায় গাছগুলো সাজিয়ে রাখুন যেখানে সামান্য হলেও আলো বাতাস ও রোদ আসে।

বিজ্ঞাপন

গাছ রাখার সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান ঘরের পূর্ব ও পশ্চিম দিক বরাবর। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে এসব দিকে জানালা বা গ্রিল বা ফাঁকা অংশ থাকে যার মাধ্যমে রোদ, আলো বাতাস গাছ পর্যন্ত পৌছাতে পারে।

যত্নে থাকুক ঘরের গাছগুলো

বিজ্ঞাপন

বাসার দক্ষিণ ও উত্তর দিক বরাবর সাধারণত সূর্যের সরাসরি আলো বাতাস কম পৌঁছে। তাই সেসব অংশে গাছ রাখলে তা অন্তত ১৫ দিন পর পর সূর্যের আলোর সংস্পর্শে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা রেখে দিতে হবে। এতে আপনার ইনডোর প্ল্যান্টগুলো থাকবে সজীব ও প্রাণবন্ত।

যত্নে থাকুক ঘরের গাছগুলো

বিজ্ঞাপন

আবার ঘরের যেসব অংশ দিয়ে সবসময় গরম বা ঠান্ডা বাতাস যাওয়া আসা করে সেসব জায়গায় গাছ না রাখাই ভালো। যেমন, পর্দার সামনে বা আড়ালে, এয়ার কন্ডিশনার বা এয়ারকুলার, রেডিয়েটর, ফ্রিজ, টিভি ইত্যাদি।

পরিমিত পানি দেওয়া

ইনডোর প্ল্যান্টগুলো খুব কম পানিতে বেঁচে থাকতে পারে। আবার বেশি পানিতে গাছগুলো মরেও যেতে পারে। তাই পরিমিত পরিমানে পানি দেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

যত্নে থাকুক ঘরের গাছগুলো

ইনডোরের গাছগুলো ছোট বা মাঝারি আকারের টবে বা পাত্রে লাগানো থাকে। তাই নিয়মিত বিরতিতে এগুলোতে পরিমিত পরিমানে পানি দিতে হয়। কম পানিতে যেমন গাছগুলো দ্রুত নেতিয়ে পড়ে, আবার বেশি পানি দিলে টবের তলায় পানি জমে গাছের শেকড় পচিয়ে ফেলে। তাই টব ভেদে প্রতিদিন এমন ভাবে পানি দিতে হবে যেন দশ মিনিটের মধ্যে গাছের গোড়ায় বা মাটির উপরিভাগে আর কোন পানি জমে না থাকে।

তবে যারা নিয়মিত গাছে পানি দিতে ভুলে যান বা সময় পাননা তারা কোকোডাস্ট বা নারিকেলের খোসার গুঁড়া ব্যবহার করতে পারেন। গাছের গোড়ায় বা মাটির উপরিভাগে এক ইঞ্চি পুরু করে কোকোডাস্ট দিয়ে রাখলে এটি অতিরিক্ত পানি ধরে রাখবে। আবার ভিন্ন ভিন্ন গাছ তার চাহিদা অনুযায়ী কোকোডাস্ট থেকে পানি শুষে নিতে পারে। দুই তিন মাস পর এই কোকোডাস্ট আবার পঁচে গিয়ে মাটিতে মিশে যায় এবং গাছের জন্য প্রাকৃতিক সারে পরিনত হয়। তার মানে হলো এটি গাছের পুষ্টির চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করছে। তাই দুই তিন মাস পর পর আবার নতুন করে কোকোডাস্ট প্রয়োগ করলে অনেক বেশি সুফল পাওয়া যায়।

আপনি যদি বুঝতে না পারেন, কোন গাছে কি পরিমাণ পানি দিবেন, তাহলে সব গাছের গোড়াতেই এক ইঞ্চি পুরু করে কোকোডাস্ট দিয়ে রাখতে পারেন।

গাছ রোগজীবাণু ধুলামুক্ত রাখা

যত্নে থাকুক ঘরের গাছগুলো

ইনডোর প্ল্যান্টগুলো খুব সংবেদনশীল হয়। বিশেষ করে ধুলাবালির মাধ্যমেই এগুলো ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াজনিত নানা রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তাই দুএকদিন পরপর গাছ ও পাতাগুলোকে মুছে দিতে হবে। পাতা পরিস্কার করতে শক্ত ব্রাশ ব্যবহার না করে নরম সুতি কাপড় ব্যবহার করাই উত্তম। তবে একই কাপড় সব গাছে ব্যবহার করলে এক গাছের রোগ অন্য গাছে ছড়াতে পারে। তাই সেটি পরিস্কার করে নিয়ে অন্য গাছে ব্যবহার করুন কিংবা ভিন্ন ভিন্ন গাছে আলাদা কাপড় ব্যবহার করুন।

ইনডোর গাছের পাতা পরিস্কারের জন্য বাজারে বিভিন্ন এন্টিসেপ্টিক সোপ, জেল ও লোশন পাওয়া যায়। সেগুলোর ব্যবহারেও সুফল পাওয়া যায়।

ইনডোর প্ল্যান্ট কোন রোগে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক অবস্থাতেই গাছটি দ্রুত অন্য জায়গায় সরিয়ে নিন যাতে করে অন্য গাছগুলো আক্রান্ত হতে না পারে। গাছের শুকনো ও মরা পাতা কেটে দিন।

যত্নে থাকুক ঘরের গাছগুলো

তবে যেহেতু ইনডোরের গাছগুলো ঘরের ভেতরে থাকে, তাই পোকা বা বালাই দমনের জন্য কোন বিষ বা রাসায়নিক কীটনাশক স্প্রে না করে জৈব পদ্ধতিতে কীটনাশক প্রস্তুত করেই গাছের রোগবালাই দমন করুন। আদা, রসুন, মরিচ, নীমপাতা, ফিটকিরি, এলোভেরা, দারুচিনি, গাছের বালাইনাশক হিসেবে বেশ কার্যকর।

গাছের পুষ্টি খাবার

মাটিতে রোপণ করা একটি গাছ তার ইচ্ছেমত শেকড় ছড়াতে পারে। কিন্তু ছোট টব বা পাত্রে লাগানো গাছকে সামান্য মাটিতেই বেড়ে উঠতে হয়। সেখান থেকেই খাবার ও পুষ্টি যোগাড় করতে হয় গাছকে। ফলে একটা সময় পর সেই মাটিতে আর প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পুষ্টি উপাদান থাকে না। তাই গাছের খাদ্য ও পুষ্টির জন্য কয়েকমাস পরপর টবের মাটিতে পরিমিত পরিমাণে নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, লৌহসহ মৌলিক পুষ্টি উপাদানগুলোর যোগান দিতে হয়। এতে গাছ আরো সবুজ ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

রান্নাঘরের পরিত্যক্ত কিছু বর্জ্য দিয়েই খুব সহজে গাছের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা যায়। যেমন, ব্যবহার করা চা পা্তা, কলার খোসা, ডিমের খোসা, পঁচা পেয়াজের পাতা ইত্যাদি। এছাড়া খৈল ও গোবরও গাছের জন্য খুব উপকারি। এগুলো একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে মিশিয়ে মাটির পুষ্টিগুণ অনেকাংশে বাড়ানো সম্ভব।

প্রুনিং ট্রিমিং

যত্নে থাকুক ঘরের গাছগুলো

ইনডোরের একটি চারাগাছ বা ছোট গাছ নতুন মাটি পেলে দ্রুত বাড়তে থাকে। এভাবে গাছকে বাড়তে দিলে গাছ একসময় এটি শুধু লম্বাই হতে থাকে। কিন্তু চারপাশে ডালপালা ছড়ায় না। চারপাশে ডালপালা না ছড়ালে ইনডোরের গাছগুলো দেখতে তেমন একটা ভালো লাগে না। তাছাড়া গাছ লম্বা ও বড় হয়ে গেলে তার বেঁচে থাকার জন্য বেশি খাবার ও পুষ্টির দরকার হয় যা ছোট টবের মাটিতে থেকে নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে করে একপর্যায়ে গাছটি পুষ্টিহীনতায় ভুগতে থাকে এবং নানান রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করে। তাই কিছু দিন পর পর অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় ও পুরাতন কিংবা মরা ডালপালা ও পাতা ছেটে দিন। এতে বাকি পাতা, ডালপালাগুলো বেশি পুষ্টি নিতে পারে ও গাছের গোড়া থেকে নতুন নতুন শাখা প্রশাখা ছড়াতে থাকে। এটি একদিকে গাছের সৌন্দর্য বাড়ায়, অন্যদিকে গাছটি সবসময় সতেজ থাকে।

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা, গ্রিন সেভার্স

সারাবাংলা/এসএসএস


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button