জাতীয়

শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত শহিদ মিনার, চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা বলয়

উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মহান মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জাতির সূর্য সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত করা হয়েছে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানানো শেষে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে শহিদ মিনার। কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের অনুষ্ঠান সুসম্পন্ন করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে নানা নির্দেশনা। নির্দেশনার মধ্যে কোনো সড়ক দিয়ে প্রবেশ করা যাবে আর কোন সড়ক দিয়ে বাহির হওয়া যাবে আর কোনো কোনো সড়ক বন্ধ থাকবে, তার জন্য ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ নির্দেশনা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও তার আশেপাশের এলাকা কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে রেখেছে র‌্যাব-পুলিশ। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও কাজ করছে।

শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঢাকাসহ সারাদেশে র‌্যাবের পক্ষ থেকে ব্যাপকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোথাও কোনো নাশকতার খবর নেই। তবে নাশকতার আশঙ্কা না থাকলেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকা ও বিভাগীয় শহর এবং জেলা শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যেকোনো বিশৃঙ্খলা ও অপতৎপতা এড়াতে ছদ্মবেশে ও সাদা পেশাকে র‌্যাব সদস্যদের নজরদারি থাকবে। সেই সঙ্গে যে কোনো অবস্থায় জরুরি মুভমেন্টের জন্য প্রস্তুত রয়েছে হেলিকপ্টার।’

বিজ্ঞাপন

র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে মহান শহীদ দিবস পালিত হচ্ছে। শহিদ মিনার এলাকায় আগতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিশৃঙ্খলা ও যে কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম এড়াতে র‌্যাবের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকাকে পাঁচটি সেক্টরে বিভক্ত করে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে র‌্যাবের তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। সারাদেশে বিশেষ করে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে র‌্যাব সদস্যদের ছদ্মবেশে ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘মুখে মাস্ক ছাড়া একজন ব্যক্তিকেও শহিদ মিনারে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’

কমিশনার বলেন, ‘করোনার কারণে দলবলসহ শহীদ মিনারে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সাংগঠনিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ জন ও ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ দুইজনকে আসতে বলা হয়েছে। এর বেশি কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শহিদ মিনারকেন্দ্রিক আলাদা আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দেহ তল্লাশি করে সকলকে প্রবেশ করানো হবে। এ জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। পুলিশ, ডিবি পুলিশ, বোম ডিসপোজাল ইউনিটসহ সকল গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর বাইরে শহীদ মিনারের প্রতি ইঞ্চি জায়গা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

জঙ্গিদের মনিটরিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণত এ ধরনের বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে জঙ্গিবাদী সংগঠনগুলো সুযোগ নেওয়ার অপেক্ষায় থাকে। তারা চায়, ছোট একটি ঘটনা ঘটিয়ে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তা বড় করে ফলাও করা। তবে তারা কোনোটাই করতে পারবে না। সেই সাহস নেই তাদের। আমরা তাদের নজরদারিতে রেখেছি। সাইবার টিম অনলাইনে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।’

পুলিশ জানিয়েছে, পুরো শহিদ মিনার এলাকা নিরাপত্তার জন্য র‌্যাব ও পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। ডগ স্কোয়াড, বোম ডিসপোজাল ইউনিট, রায়টকার মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সবকিছু মনিটরিং করা হচ্ছে। আধুনিক যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও মনিটরিং করছেন সবকিছু। সিসিটিভি কন্ট্রোলরুমে প্রতি ইঞ্চি মাটি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/ইউজে/একে


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button