রাজধানী

প্রভাত ফেরিতেও করোনার থাবা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: এ বছর মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রভাব পড়েছে একুশের প্রভাত ফেরিতেও। অন্যান্য বছর ফজরের নামাজের পর থেকেই প্রভাত ফেরির জন্য লাইনে দাঁড়াত সাধারণ মানুষ। খালি পায়ে নিঃশব্দে এগিয়ে চলার সারিতে ঢল নামত মানুষের। মাথায় একুশের চেতনা, বুকে শোক সম্বলিত এক টুকরো কালো কাপড় আর শোকগাথা পোশাক পড়া নারী-পুরুষ আর বয়স্ক লোকের সমারোহ থাকত চোখে পড়ার মত। কিন্তু এবার সকাল ৭টা বাজলেও তার কোনো কিছুরই দেখা মেলেনি।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রভাত ফেরির দেখা মেলেনি।

তবে যারা একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসতে পারেননি কেবল তারাই দ্বিতীয় প্রহরে অর্থাৎ সূর্য ওঠার আগেই ফুল নিয়ে এসেছেন। তারা প্রভাত ফেরিতেই অংশ নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। কারণ দুয়েকটি দল ছিল ফুল আর ব্যানার নিয়ে, এছাড়া অন্য কেউ ছিল না।

বিজ্ঞাপন

করোনার কারণে এবার প্রথম প্রহরেও আগের বারের তুলনায় তেমন একটা লোক সমাগম হয়নি। নির্দিষ্ট কিছু সংগঠন এবং কিছু ব্যক্তি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। রাত ১২টা ১ মিনিটে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো শুরু হয়ে চলে রাত ৩টা পর্যন্ত। ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আর কাউকে ফুল দিতে দেখা যায়নি। সকাল ৬ টার দিকে দুয়েকজন আর ৭টার দিকে কয়েকজন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এ সময় কয়েকটি সংগঠনও ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

আয়োজক কমিটি বলছে, করোনার কারণে সাধারণ মানুষকে আগে থেকেই কিছুটা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তাই অনেকেই শহীদ মিনারে আসেননি। তাছাড়া যারা আসবেন তারা প্রথম প্রহরে কিছুটা আর ৮টা বা ৯টার দিকে শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন। তবে এ কথা সত্য যে, প্রভাত ফেরিতে যেভাবে অন্যান্যবার মানুষের ঢল নামত, সেটি এবারে নেই। ওইসব প্রভাত ফেরিগুলোতে নারী-পুরুষ, শিশু-বয়স্ক সকলেই অংশ নিত। বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পোশাকে শোকের চিহ্ন নিয়ে শহীদ মিনারে চলে আসতেন। এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে করোনায় এবার প্রভাত ফেরিতে ভাটা পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/ইউজে/এসএসএ


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button