আন্তর্জাতিক

মঙ্গলের বুকে নামল পারসিভিয়ারেন্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলগ্রহের বুকে অবতরণ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র নতুন রোবট পারসিভিয়ারেন্স। মঙ্গলের নিরক্ষরেখার কাছাকাছি ‘ইয়েজেরো’ নামের একটি গভীর খাদে এটি অবতরণ করেছে। অবতরণের পরপরই দুইটি ছবিও পাঠিয়েছে এই রোবটযান।

বিজ্ঞাপন

বিবিসি’র খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) গ্রিনিচ মান সময় রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে) পারসিভিয়ারেন্স অবতরণ করে মঙ্গলে। ছয় চাকার এই রোবটযানটি আগামী অন্তত দুই বছর মঙ্গলে অবস্থান করবে। আশপাশের এলাকা চষে এটি প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধান করবে।

পারসিভিয়ারেন্স মঙ্গলে অবতরণের পরপরই ক্যালিফোর্নিয়ার নাসা মিশনে প্রকৌশলীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। নাসা ক্যালিফোর্নিয়া মিশনের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার ম্যাট ওয়ালেস বলেন, ভালো খবর হচ্ছে, রোবটযানটি চমৎকার অবস্থায় সেখানে পৌঁছেছে। আমরা আশা করছি, এর কাছ থেকে দারুণ সব তথ্য পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলের বুকে নামল পারসিভিয়ারেন্স

বিজ্ঞাপন

ধারণা করা হয়, ইয়েজেরো খাদটির উৎপত্তি কয়েকশ কোটি বছর আগে। এই এলাকাতেই পানির অস্তিত্ব ছিল বলেও ধারণা করা হয়। আর পানির অস্তিত্ব মানেই প্রাণের সম্ভাবনা।

পারসিভিয়ারেন্স অবতরণের পরপরই দু’টি ছবি পাঠিয়েছে মঙ্গলের। ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যামেরায় তোলা অল্প রেজ্যুলেশনের ছবি দুইটি দেখলে বোঝা যায়, এর লেন্সে বেশ ধুলা জমেছে। তারপরও ছবিতে রোভার রোবটটির সামনে-পেছনের সমতল ভূমির অস্তিত্ব স্পষ্ট বোঝা যায়।

বিজ্ঞাপন

পারসিভিয়ারেন্স অবতরণ টিমের নেতৃত্বে থাকা অ্যালেন চেন বলেন, চমৎকার একটি সমতল স্থানে এটি অবতরণ করেছে। এটি মাত্র ১ দশমিক ২ ডিগ্রি নড়াচড়া করেছে। একে অবতরণের যে লক্ষ্য ছিল, সেটি মোটামুটি অনেকটাই অর্জিত হয়েছে। এর জন্য আমি আমার টিম নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত।

নাসা’র ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক স্টিভ জুরচিক বলেন, সব ধরনের প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে রোভার রোবটটি মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করতে পেরেছে। এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আমাদের টিমের। তারা অসামান্য কাজ করেছে।

বিজ্ঞাপন

পারসিভিয়ারেন্সের ওপরের দিকে বসানো আছে বিশেষ ক্যামেরা সিস্টেম। এর মাধ্যমে এটি আগামী সপ্তাহ থেকেই প্রচুর পরিমাণে ছবি তুলতে শুরু করবে। এসব ছবি দেখে প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীরা আশপাশের এলাকার পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পাবেন। এর সঙ্গে পারসিভিয়ারেন্সে একটি মিনি হেলিকপ্টারও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এটি ভূমিতে চলাচলে বাধা পেলে কিছুটা উড়তেও পারবে।

মঙ্গলে অবতরণ করা নতুন এই রোবটযানের অন্যতম কাজ হলো স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ‘ডেলটা’ তথা ব-দ্বীপের মতো দেখতে এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান চালানো। এগুলো সত্যি সত্যি ব-দ্বীপ হলে এখান থেকেই ইয়েজেরো এলাকায় অতীতের কোনো সময়ে প্রাণের অস্তিত্বের তথ্য মিলতে পারে।

পারসিভিয়ারেন্স এই ডেলটার মূল ভাগ থেকে নমুনা সংগ্রহের পর তীরের দিকে যাবে। সেখানকার বিভিন্ন পাথরের নমুনা সংগ্রহ করবে এটি। পৃথিবীতে এসব কার্বোনেটেড পাথরে প্রাণের অস্তিত্বের স্পষ্ট প্রমাণ মেলে। ফলে পারসিভিয়ারেন্সের সঙ্গে থাকা যন্ত্রপাতিগুলো এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার তথ্য পাঠাবে। নাসা বলছে, এসব যন্ত্রপাতি আণুবীক্ষণিক স্তর পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবে।

পারসিভিয়ারেন্স রোবটযানটির ওজন এক টন। এর আগে এত ভারি রোভার মাত্র একটিই পাঠিয়েছিল নাসা। ‘কিউরিয়াসিটি’ নামের সেই রোভারটি মঙ্গলের অন্য একটি এলাকায় অবতরণ করেছিল ২০১২ সালে।

সারাবাংলা/টিআর


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button