রাজনীতি

জাতীয় পার্টি পরগাছা হয়ে থাকবে না: জি এম কাদের

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, জাতীয় পার্টি রাজনীতির মাঠে পরগাছা হয়ে থাকবে না। অস্তিত্বহীন রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় পার্টি কখনোই বিলীন হবে না।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান-এর বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের-এর ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দঘন আয়োজন শেষে বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব আছে এবং নিজস্ব রাজনীতি আছে। নিজস্ব রাজনীতি নিয়ে জাতীয় পার্টি সামনে এগিয়ে যাবে। গণমানুষের মাঝে জাতীয় পার্টির গ্রহণযোগ্যতা আছে। তাই দেশ ও জনগণের স্বার্থে কথা বলবে জাতীয় পার্টি। কোনো ভয়-ভীতির কাছে জাতীয় পার্টি মাথা নত করবে না ‘

বিজ্ঞাপন

তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশ ও মানুষের কথা বলতে যদি অত্যাচার ও নির্যাতন সইতে হয়, সে জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রয়োজনে লাঠি ও গুলির সামনে সাহস নিয়ে দাঁড়াতে হবে। নির্যাতন এলে তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অস্তিত্বহীন বা শেকড়হীন রাজনৈতিক দলকে কোনো দলই মূল্যায়ন করবে না। রাজনীতিতে পরগাছা বা শেকড়হীন দলকে মানুষ ঘৃণা করে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘ঘরে বসে হাতি-ঘোড়া মারার দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন রাজনীতির মতো রাজনীতি করবে জাতীয় পার্টি।’

গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, ‘১৯৯১ সালের পর থেকে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্র চলছে। দেশের প্রধান তিনটি স্তম্ভের মধ্যে নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা ও বিচার বিভাগ-এর নিম্ন আদালত এক ব্যক্তির হাতে। তাছাড়া উচ্চ আদালতের নিয়োগও রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে তার হাতেই। তাই দেশের সকল ক্ষমতাই এখন এক ব্যক্তি হাতে, তিনি যাই বলেন তার বাইরে কিছুই হয় না। এটাকে কখনোই গণতন্ত্র বলা যায় না। এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা থাকার কারণে ক্ষমতার অপব্যবহার হচ্ছে, এটাকেই বলে স্বৈরতন্ত্র। সাধারণ মানুষের স্বার্থ ভুলুণ্ঠিত করে দুর্নীতি ও দলীয়করণ চলছে। সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা অঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এর উপদেষ্টা শেরিফা কাদের এর তত্ত্বাবধানে এবং সদস্য সচিব আলাউদ্দিন আহমেদ এর পরিচালনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সদস্যরা। পুরো অনুষ্ঠান তত্বাবধান করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চেয়ারম্যান এর বিশেষ সহকারী মীর আবদুস সবুর আসুদ।

এ সময় জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বক্তৃতায় বলেন, ‘ভাষার মাসে মানুষের কথা বলার অধিকার নেই। দেশের মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। সকল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জাতীয় পার্টি গণমানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।’

বিজ্ঞাপন

পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘দেশের মানুষ জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে। দেশের মানুষ জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায়। জাতীয় পার্টিই দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে।’

কো-চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি আগামী দিনের রাজনীতিতে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক শক্তি।’ তাই দলকে আরও শক্তিশালী করতে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কো-চেয়ারম্যান এডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আদর্শেই গণমানুষের মুক্তি। গোলাম মোহাম্মদ কাদের এর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি বন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়বে।’

ফুলেল শুভেচ্ছা জানান প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, সাহিদুর রহমান টেপা, এস.এম. আব্দুল মান্নান, মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, মো. আজম খান, সোলায়মান আলম শেঠ, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলহাজ মিজানুর রহমান, আলহাজ্ব মো. সাত্তার মিয়া, এমরান হোসেন মিয়া, মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি, সৈয়দ দিদার বখত, একেএম সেলিম ওসমান এমপি, মো. জহিরুল ইসলাম জহির, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য শেরিফা কাদের, রওশন আরা মান্নান এমপি, এম.এ. কুদ্দুস খান, ড. নুরুল আজহার শামীম, মনিরুল ইসলাম মিলন, সরদার শাহজাহান, অ্যাডভোকেট লাকী বেগম, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আরিফুর রহমান খান, নিগার সুলতানা রানী, মেজর (অব.) আব্দুস সালাম, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, মোস্তফা আল মাহমুদ, সুলতান আহমেদ সেলিম, এইচ.এম. শাহরিয়ার আসিফ, তারেক এ আদেল, যুগ্মমহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, আমির উদ্দিন আহমেদ ঢালু, ফখরুল আহসান শাহজাদা, মো. জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. বেলাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল দাস, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, মো. সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, মো. হুমায়ন খান, এ কে এম আশরাফুজ্জামান খান, আনোয়ার হোসেন তোতা, আনিস উর রহমান খোকন, সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসান হাসান, মো. সাইফুদ্দিন খালেদ, মাখন সরকার, মিজানুর রহমান, কাজী আবুল খায়ের। কেক কেটে শুভেচ্ছা জানায় জাতীয় যুব সংহতি, জাতীয় মহিলা পার্টি, জাতীয় কৃষক পার্টি, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি, জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টি, জাতীয় তরুণ পার্টি, জাতীয় শ্রমিক পার্টি, জাতীয় পেশাজীবী পার্টি, জাতীয় ছাত্রসমাজ, জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন, জাতীয় মৎস্যজীবী, জাতীয় তাঁতী পার্টি, জাতীয় মোটর শ্রমিক পার্টি, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পার্টি, জাতীয় হকার্স পার্টি, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পার্টি।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/একে


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button