রাজধানী

‘সরকার নাগরিকদের পোকামাকড় মনে করে’

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘আমরা ভাবতে পারি, আমরা স্বাধীন দেশের মানুষ। কিন্তু সরকার নাগরিকদের পোকামাকড় মনে করে। খেয়াল করলেই দেখবেন ১৪ বছরের বালকও ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের আসামি হয়েছে। নারী, বৃদ্ধ, এমনকি যারা রাজনীতি থেকে দূরে থাকবেন বলে পণ করেছেন, তাদেরও এই আইনের দ্বারা নিপীড়ন করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক থাকা অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ‘সরকার সব দরজা-জানালায় বন্ধ করে দিচ্ছে। কারণ তারা জানে, যদি জনগণ কথা বলতে শুরু করে, তবে তাদের মোমের মিনার গলে যাবে। শোষকরা এসেছে বারবার। চলেও গেছে। কিন্তু জনগণ থেকে যাবে।’

বিজ্ঞাপন

সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বিলুপ্ত করার দাবি জানান।

এর আগে, দুপুর তিনটার দিকে রাজধানীর শাহবাগে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। জানাজা শেষে তারা খালি পায়ে শাহবাগ থেকে মিছিল নিয়ে শহিদ মিনারে আসেন।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভ সমাবেশে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, ‘মুশতাক কিংবা আবরার ফাহাদ আমাদের কথা বলেছেন বলেই তাদের মরতে হয়েছে। কিন্তু আমরা সবাই তাদের জন্য দাঁড়াইনি। এই কাজটা আমাদের করতে হবে। অন্যায় হচ্ছে জেনেও আপনারা যারা এখনও নীরব রয়েছেন, সুবিধা পাওয়ার জন্য চুপ আছেন, তাদের বলতে চাই, মীর জাফরের মতো আপনাদেরও আমরা মনে রাখবো। এই সরকার একদিন ধসে পড়বে। তখন আপনাদের দিকে তাকানোর মতো কেউ থাকবে না। এখনও সময় আছে, সত্যের পাশে দাঁড়ান, ন্যায়ের পথে দাঁড়ান।’

‘সরকার নাগরিকদের পোকামাকড় মনে করে’

বিজ্ঞাপন

প্রধানন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীর উদ্দেশে শহিদুল আলম বলেন, ‘আমার বন্ধু গওহর রিজভীর মতো আরও যারা আছেন, তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই— আপনারা কী সুবিধা পাচ্ছেন জানি না, কিন্তু এই সুবিধা বেশিদিন পাবেন না আপনারা।’

সমাবেশে বর্তমান সরকারের আমলে হওয়া অত্যাচার সামরিক শাসনকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে দেশের যে খারাপ পরিস্থিতি, এমন পরিস্থিতি আগে কখনও হয়নি। এমনকি সামরিক শাসনের আমলেও হয়নি। বর্তমান সময়ে সরকারের অত্যাচার সামরিক শাসনের আমলকেও ছাড়িয়ে গেছে।’

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজীম উদ্দীন খান বলেন, “সম্প্রতি আলজ জাজিরার একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ হওয়ার পর আমরা দেখেছি, কিছু মানুষ নিজেদের ‘প্রধানমন্ত্রীর লোক’ বলে দাবি করছেন। যখন কেউ প্রধানমন্ত্রীর লোক হয়ে যায়, তখন সে আর মানুষ থাকে না। যারা চিন্তা করতে পারে, তারাই এখন সরকারের প্রতিপক্ষ । বিএনপি-জামায়েতের আন্দোলন করার ক্ষমতা আগেই লুপ্ত হয়েছে। কারণ তারা যখন ক্ষমতায় ছিলো, তারাও একই কায়দায় গুম-খুন করেছে।’

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা ফয়জুল হাকিম, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, লেখক গৌরাঙ্গ হালদার, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য হাসনাত কাইয়ুম, মানবাধিকার কর্মী জাকির হোসেন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খানসহ আরও অনেকে।

সারাবাংলা/আরআইআর/এমও


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button