সারাদেশ

বাবা-মা বুকে নেওয়ার আগেই হারিয়ে গেল বুকের ধন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

সিরাজগঞ্জ: জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ২৩ দিনের নবজাতক চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও একই ঘটনা ঘটেছে। এবার সলঙ্গা থানার শাখাওয়াত এইস. মেমোরিয়াল হাসাপাতাল থেকে জন্মের ৬ ঘণ্টা পর আরও একটি নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে ওই হাসপাতাল থেকে নবজাতকটি চুরি হয়। নবজাতকটি জেলার তাড়াশ থানার নওগা গ্রামের মাজেদ মোল্লা (৩৫) ও সবিতা খাতুন (৩০) দম্পতির। দীর্ঘ ১২ বছর পরে এটাই তাদের প্রথম সন্তান। কিন্তু বাবা-মা বুকে তুলে নেবার আগেই হারিয়ে গেল তাদের বুকের ধন।

হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাবনা জেলার চাটমোহর থানার স্থল গ্রামের বাসিন্দা নবজাতকের নানি শিশুটিকে কোলে রাখাকালীন সময়ে বোরকা পরিহিত একজন নারী তাকে দীর্ঘ সময় ধরে কোলে নিয়ে ঘোরাফেরা করেন। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে নবজাতকসহ পালিয়ে যান তিনি।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে নবজাতকের নানি বলেন, একজন মহিলা বলল- এই হাসপাতালেই তার ভাইয়ের ছেলে হয়েছে। কিন্তু তাকে কোলে নিতে দিচ্ছেন না। তাই শিশুটিকে কোলে নিতে চাইলে আমি দেই। কিন্তু ভিতরে ডাকছে বলে আমাকে পাঠিয়ে দিয়ে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি ওই নারীকে চেনেন না বলেও জানান।

নবজাতকের বাবা মো. আব্দুল মাজেদ বলেন, আমরা গতরাত ৩টার দিকে হাসপাতালে এসে আমার স্ত্রীকে ভর্তি করেছি। ১২ বছর প্রচেষ্টার পরে আমার প্রথম একটি সন্তান হলো। পুত্র সন্তান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাকে কোলে পর্যন্ত নিতে পারলাম না। আমার শ্বাশুড়ি ও স্ত্রীর বোনের কাছেই শিশুটি ছিল।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত ৩টার দিকে প্রসূতি সবিতাকে ভর্তি করানো হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার একটি পুত্র সন্তান হয়। কিন্তু প্রায় ৬ ঘণ্টার মধ্যেই বিকাল সোয়া ৩টার দিকে শিশুটি চুরি হয়ে যায়।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, আমি ৩টার দিকে অফিসে এ ঘটনা শুনি। আমি পুলিশের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ সরবরাহ করছি। এ বিষয়ে তাদের কোনো অবহেলা নেই।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সাখাওয়াত এইস. মেমোরিয়াল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, শিশুটি তার নানির কোলে ছিল। তার কাছ থেকে একজন নারী কোলে নিয়ে রাখেন। তারপর ওই নারী সুকৌশলে পালিয়ে যান। আমরা পুলিশকে অবগত করেছি। তারা এখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
হাসপাতালের নিরাপত্তায় কিছুটা ভুল থাকতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্তে যদি আমার স্টাফের কেউ জড়িত থাকে তবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, আমরা শুনেছি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। শিশুটিকে খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি আপনার কাছেই শুনলাম। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

সারাবাংলা/এনএস


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button