সারাদেশ

হাসপাতালে মারধর, অভিযুক্তদের ধরতে পারছে না পুলিশ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

ঠাকুরগাঁও: জেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর অবস্থায় আধুনিক সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ঢুকে চিকিৎসাধীন রেজাউল ইসলামকে (৫০) আবারও হামলা চালানো হয়। গত মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটলেও হাসপাতালে সিসি ক্যামেরা না থাকায় আজ পর্যন্ত অভিযুক্তদের আটক করতে পারেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটস্থলে আসলেও কাউকে আটক করতে পারেনি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ বলছে, জরুরি বিভাগে সিসি ক্যামেরা না থাকায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শহরের এসিল্যান্ড বস্তিতে আদম আলী ও রইসুল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রইসুল গ্রুপের সদস্য রেজাউল ইসলামকে জরুরি বিভাগে পেয়ে দ্বিতীয় দফায় প্রচণ্ড মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। এ সময় সন্ত্রাসীদের মারধরের কারণে শয্যাটিও দুমরে-মুচড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত কয়েকজন কর্মচারী বলেন, হামলার সময় জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত কর্মচারী ও চিকিৎসক নিজের প্রাণ বাঁচাতে অন্যদিকে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সদর হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তাদের নিরাপত্তা কে দেবেন বলেও প্রশ্ন করেন তারা।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মেইসাম সোহবান বলেন, জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেজাউলকে ছয়-সাতজনের একটি দল এসে ব্যাপক মারধর করতে থাকে। এ সময় পুলিশ এসেও তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল না।

বিজ্ঞাপন

সরকার পাড়ার বাসিন্দা রাসেল, ইব্রাহীমসহ আরও অনেকে বলেন, হাসপালের ভিতরে ঢুকে যদি সন্ত্রাসীরা হামলা চালাচ্ছে। আমরা কোথায় বাস করছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসন কি ভূমিকা পালন করছে। এ ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পৌর শহরের বাসিন্দা মোন্তাজুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ছাড়া কিছুই নয়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে বিউটি বেগম বলেন, ওই সন্ত্রাসীরা গত বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আমার ছোট দেবর রুবেলকে জামুরী পাড়া থেকে তুলে এনে মারপিট করে সঙ্গাহীন অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তিনিও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রকিবুল আলম জানান, ঘটনার সময় আমি অনুপস্থিত ছিলাম। জরুরি বিভাগ থেকে রোগীকে মারধর করা হচ্ছে জানালে- তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দ্রুতই ঘটনাস্থালে পৌঁছায়। সন্ত্রাসীদের ধরার বিষয় পুলিশের, আমাদের নয়। তবে জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের প্রতিটিস্থান সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গণ্ডগোলের কথা জানামাত্র সেখানে পুলিশ পাঠাই। তবে পুলিশ গিয়ে মারামারির ঘটনা পায়নি।

সারাবাংলা/এনএস


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button