অর্থ-বাণিজ্য

পদ্মার তীর রক্ষা প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ৩২০ কোটি টাকা, সময় ১ বছর

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষায় ব্যয় বাড়ছে ৩১৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের ২৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। সেইসঙ্গে প্রকল্পটির মেয়াদও বাড়ছে এক বছর। এজন্য সংশোধন হচ্ছে ‘শরীয়তপুর জেলার জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা’ প্রকল্প। প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবটি আগামী মঙ্গলবার (২ মার্চ) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এতে গণভবন থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ‘প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ১ হাজার ৯৭ কোটি ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এখন প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ৩১৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪১৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এদিকে প্রকল্পের মূল অনুমোদিত মেয়াদ ছিল ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটি ২০২১ সাল পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫০৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা, যা মূল অনুমোদিত ব্যয়ের ৪৬ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পানি উন্নযন বোর্ড।

সূত্র জানায়, শরীয়তপুর জেলা পদ্মা, মেঘনা, কীর্তিনাশা ও আড়িয়াল খাঁ নদী দ্বারা বেষ্টিত। গঙ্গা আরিচার কাছে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মা নাম ধারণ করে চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে। পদ্মা ও যমুনা নদীর মিলিত বিশাল জলরাশির প্রবাহ এবং নদীর অবকাঠামো পরিবর্তনের কারণে নদীতে বিভিন্ন স্থানে চর জেগে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। এছাড়া জোয়ার-ভাটা, তীব্র স্রোত, প্রবল ঢেউ ও উজান থেকে নেমে আসা পানি প্রবাহের সম্মিলিত প্রভাবে নদীর তীর ভাঙনের সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে নদীর তীরবর্তী ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, হাট-বাজার, ফসলি জমিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এই এলাকায় নদীর তীর অবতল হয়ে ক্রমান্বয়ে স্থলভাগের দিকে অগ্রসর হয়ে আরও অবতল হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১২ সালে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেস্ট কনসালটেন্ট লিমিটেডের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং ২০১৫ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে। এই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং কারিগরি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মূল প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। মূল প্রকল্পটি মোট ১ হাজার ৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৭ সালের অক্টোবর হতে ২০২১ সালে জুনে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি একনেকে অনুমোদিত হয়। শরীয়তপুর জেলার জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ডান অবস্থিত বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়া থেকে রক্ষাসহ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে ২০২১ সালের জানুয়ারি আইডব্লিউ ও সিইজিআইএসকে অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত কমিটির সুপারিশে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, প্রকল্প অনুমোদনের পর ২০১৮-১৯ সালে ভাঙনের তীব্রতার জন্য প্রকল্প এলাকায় পুনরায় সার্ভে করে নকশা সংশোধন করা হয়। সংশোধিত নকশা অনুযায়ী জিও ব্যাগের ডাম্পিং ভলিউম ৭৬ ঘনমিটারের পরিবর্তে ৭৬ থেকে ১৩২ ঘনমিটার এবং ব্লকের ডাম্পিং ভলিউম ২৫ ঘনমিটারের পরিবর্তে ৪০ থেকে ৫০ ঘনমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থার জন্য নদী তীর সংরক্ষণ কাজ ৪৫০ মিটার ও নদী ড্রেজিংয়ের দৈর্ঘ্য ২ দশমিক শূন্য ৫ কিলোমিটার বাড়ানো হয়েছে। কিছু নতুন অংশ যেমন, ব্রিজ নির্মাণ ও নদী তীর সংরক্ষণ কাজ পুনর্বাসন সংযোজন এবং প্রস্তাবিত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে- ৮ দশমিক ৯০ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ, নদী তীরসংরক্ষণ কাজ পুনর্বাসন, শূন্য দশমিক ৮৯ কিলোমিটার এন্ড টার্মিনেশন, ৯ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, আটটি অন্যান্য স্থাপনা এবং ব্রিজ নির্মাণ।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদ্য সাবেক সদস্য (সাবেক সচিব) জাকির হোসেন আকন্দ সারাবাংলাকে বলেন,  ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন অবকাঠামো নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে, নদীগুলোর নাব্যতা ও পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক ও মূল চ্যানেল বজায় রাখা সম্ভব হবে।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেজে/পিটিএম


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button