খেলা

হালকা ব্যায়াম, ইন্টারনেট ব্রাউজ, ঘুম- এভাবেই কাটছে তামিমদের সময়

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

মহামারী করোনাভাইরাসের সময়টা থেকে এখনো মুক্তি পায়নি বিশ্ব। খেলোয়াড়দের কাটাতে হচ্ছে কঠিন সময়। করোনাকালে মাঠে নামতে দীর্ঘদিন জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। নিউজিল্যান্ড সফরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকেও মোকাবিলা করতে হচ্ছে জৈব সুরক্ষা বলয়ের কঠিন নিয়ম। নিউজিল্যান্ড সরকারের নিয়ম অনুযায়ী টানা ৭ দিন বাধ্যতামূলক আইসোলেশনে থাকতে হচ্ছে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমদের। এই ৭টা দিন ‘খাচায় বন্দি’ থাকার মতো কাটছে ক্রিকেটারদের।

বিজ্ঞাপন

প্রথম ৪৮ ঘণ্টা থাকতে হয়েছে রুমবন্দি। তারপর কয়েক জনে গ্রুপ করে দিনে ৩০ মিনিট করে বাইরে বেরুনোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু একজনের সঙ্গে অন্যজনকে মিশতে দেওয়া হয়নি। তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হয়েছে। অস্বস্তির এই সময়টা কেটে গেলেই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন ক্রিকেটাররা!

সোমবার (১ মার্চ) তামিম ইকবাল বলছিলেন কীভাবে কাটছে তাদের সময়, ‘কেমন লাগছে এটা… (হাসি), ঠিক আছি। এটা তো এখন আসলে মেনে নিতে হবে। যেখানেই যাব সেখানেই এই নিয়ম-কানুন থাকবে। ঠিক আছে, অত খারাপ না। আসলে রুমের মধ্যে অলমোস্ট আমাদের সাড়ে ২৩ ঘন্টাই থাকতে হয় ২৪ ঘন্টার মধ্যে। আধা ঘন্টা আমরা ফ্রেশ এয়ারে যেতে পারি। ভাগ্যভালো রুমের মধ্যে আমাদের সাইকেল দিয়েছে, সাথে আমাদের কিছু ব্যান্ড দিয়ে দিয়েছিল বিসিবি থেকে। আমরা ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করতে পারি, সাইক্লিং এখানে আমরা করতে পারি। তাছাড়া আমার সময় কাটছে নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম এসব দেখেই। আর ঘুমাই, এছাড়া তো আর কিছু করার নেই। কারণ আপনি অন্য কারো সাথে দেখাও করতে পারবেন না, অন্য কোন রুমেও যেতে পারবেন না। তো এভাবে করে চলে যাচ্ছে আরকি।’

বিজ্ঞাপন

হালকা ব্যায়াম, ইন্টারনেট ব্রাউজ, ঘুম- এভাবেই কাটছে তামিমদের সময়

প্রথম দুই দিন পুরোপুরি ঘরবন্দি থাকার পর যখন আঘা ঘণ্টার জন্য বাইরে বেরুতে দিয়েছিল তখন অজব লেগেছিল তামিমের কাছে। শুনুন তার মুখেই, ‘প্রথমবারের মত যখন ফ্রেশ এয়ারে গেছিলাম একটু আজবই লাগছিল। কারণ, দুই-তিনদিন আমরা রুমের মধ্যে ছিলাম। তারপরে হঠাৎ করে আমাদের অনুমতি দেওযা হলো যে নিচে যেতে পারব। তখন সবার সাথে দেখা হয়ে ভালো লাগল। মনে হল অনেক বছর পর দেখছি একেকজনকে। যেহেতু নিচে ফ্রেশ এয়ারের জন্য একটা গ্রুপ সেট করা থাকে, পাচ-সাত জনের গ্রুপে আমরা যাই। তো এখনো অনেক টিমমেট আছে যাদের সাথে আমাদের দেখা হয়নি। তো যেটা বললাম, এটা ডিফারেন্ট, চ্যালেঞ্জিং, তবে পাস হয়ে যাচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টি ম্যাচের এই সিরিজে বাংলাদেশ যে ভালো খেলতে চায় সেটা জানাতেও ভুলে গেলেন না বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক, ‘আমার এটা প্রথম বিদেশ সফর অধিনায়ক হিসাবে। আমি আশাবাদী। আমি নিশ্চিত প্রথম ওয়ানডে শুরু হবার আগে আমাদের যে প্র্যাকটিস সেশন আছে সেখানে আমরা দল হিসাবে তৈরি হতে পারব। সত্যি কথা দলের সবার সাথে কথা বলে আমি যা অনুভব করি, সবাই ভালো করতে চায় বাংলাদেশ দলের জন্য। আমরা আশাবাদী ইনশাআল্লাহ, দেখা যাক। যেটা আমি সবসময়ই বলি বাংলাদেশ দলের ঐ সক্ষমতা সবসময়ই আছে। যদি আমরা আমাদের প্ল্যান এক্সিকিউট করি, সবাই যদি আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী খেলতে পারি, সবাই একসাথে ভালো পারফর্ম করি আমরা যেকোন দলকে হারাতে পারি। এটা আমি বিশ্বাস করি, আমি নিশ্চিত দলের সবাই-ই এটা বিশ্বাস করে। আমরা সবাই আশাবাদী।’

সারাবাংলা/এমআরএফ/এসএইচএস


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button