সারাদেশ

‘ট্যাক্সের হিসাব চাওয়ায় অফিস করেন না ইউপি চেয়ারম্যান’

স্টাফ রিপোর্টার

ঝিনাইদহ: জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুঞ্জুরুল আলম মনজেরের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া টিআর, কাবিখা ও এলজিএসপি প্রকল্পের টাকা ইউপি সদস্যদের না জানিয়ে ইচ্ছামতো ব্যয় করছেন বলে কয়েকজন ইউপি সদস্য অভিযোগ করেন। এক্ষেত্রে কোনো মাসিক মিটিং করা হয় না বলেও জানান তারা।

বিজ্ঞাপন

ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বর আনিছুর রহমান ও ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বর সাব্বির হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসব অভিযোগ করেন। এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান অফিস না করার কারণে নাগরিক সনদ, ট্যাক্স প্রদান, জন্ম ও মৃত্যু সনদ না পেয়ে মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) নারায়নকান্দি ও ভবানীপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে ইউনিয়ন পরিষদে আসা কাজী মিজানুর রহমান, আতিয়ার রহমান মুন্সি, বাচ্চু মোল্লা, আহম্মদ আলী, খোকন ও উজির আলীসহ অনেকে প্রয়োজনীয় কাজ না করেই ফিরে গেছেন। চেয়ারম্যান মুঞ্জুরুল আলম মনজের ও সচিব আসাদুজ্জামান লিটন বৃহস্পতিবার অফিস করেননি। তবে সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকায় বৃহস্পতিবার পরিষদের যেতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

ইউপি সদস্য ওহিদুল ইসলাম বলেন, তাহেরহুদা ইউনিয়ন পরিষদে কোনো মাসিক মিটিং করা হয় না। টিআর, কাবিখা ও এলজিএসপির কাজ নিজের খেয়াল খুশি মতো করে টাকা আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান। এছাড়াও ২২ লাখ টাকার এলজিএসপি কাজে কোনো গ্রাম কমিটি গঠন করা হয়নি। জাল কাগজপত্র তৈরি করে টাকা তুলে নিচ্ছেন তিনি।

ইউপি সদস্য সাব্বির হোসেন অভিযোগ করেন, গত পাঁচ বছর ধরে ট্যাক্স তুলে চেয়ারম্যান নিজ পকেট ভরেছেন। আমরা হিসাব চাওয়ায় বৃহস্পতিবার তিনি অফিসে আসেননি। কোন খাতে এই টাকা ব্যয় হয়েছে তাও তিনি বলেন না। গায়ের জোরে পরিষদ চালাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান অভিযোগ করেন, তাদের প্রতিমাসের বেতন ট্যাক্সের টাকা তুলে দেওয়ার কথা, কিন্তু চেয়ারম্যান তা দেন না। ২০২০ সালে ১১ মাসের বেতন এখনো বাকি রয়েছে। ট্যাক্সের টাকা তুলে খেয়ে ফেলা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সচিব আসাদুজ্জামান লিটন বলেন, এলজিএসপির টাকা তুলে কাজ না করেই ভাগ করে দিতে চান মেম্বররা। তাদের কথায় রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন অপবাদ দিচ্ছে। মেম্বররা হরিণাকুন্ডু ইউএনও ম্যাডামের কাছেও মৌখিত অভিযোগ করেছেন বলে সচিব স্বীকার করেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মুঞ্জুরুল আলম মনজের বলেন, মেম্বরদের অভিযোগ সব ফালতু। আমি সব সময় অফিস করি। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করায় পরিষদে যেতে পারিনি।

তিনি বলেন, এলজিএসপি, টিআর ও কাবিখার প্রকল্প সঠিকভাবে করা হচ্ছে। মেম্বর সাব্বির ও আনিছুর কাজ না করেই টাকার ভাগ চাচ্ছেন। এতে আমি রাজি না হওয়ায় কতিপয় মেম্বর আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ করছেন। ইতিপুর্বে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করেও যখন তারা বিপদে ফেলতে পারেনি, এখক নতুন করে ষড়যন্ত্রের ছক কষছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে চেয়ারম্যান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ওহিদুল নামে ২নং ওয়ার্ডের এক মেম্বর আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তাহেরহুদা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করবেন। তার ইন্ধনেই এসব করা হচ্ছে।

সারাবাংলা/জেআর/এনএস


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button