রাজধানী

মশা নিধনে ১২শ কর্মী নিয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশনে নামবেন মেয়র আতিক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মশার উৎপাতে অস্থির রাজধানীবাসী। মশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনই রীতিমতো গলদঘর্ম। এ পরিস্থিতিতে মশা নিধনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা নিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। জানিয়েছেন, ‘র‌্যাপিড অ্যাকশন ক্র্যাশ প্রোগ্রামে’র আওতায় ১২শ কর্মী নিয়ে মশা নিধনে নামছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৬ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বনানী ১ নম্বর সড়কে শহিদ যায়ান চৌধুরী মাঠ উদ্বোধন শেষে মেয়র আতিকুল ইসলাম নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন। বলেছেন, আগামী ৮ মার্চ মিরপুর অঞ্চলে একযোগে এই ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করবেন।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমাদের সব অঞ্চলে মশককর্মীরা কাজ করছে। তাদের আরও মনিটরিংয়ে একটি ইন্টেন্সিভ প্রোগ্রামের জন্য আমরা অঞ্চলভিত্তিক কাজ করব। আমাদের ১০টি অঞ্চলের যত কর্মী আছে, সবাইকে একটি অঞ্চলে নিয়ে আসব। আমাদের সঙ্গে মশা বিশেষজ্ঞ থাকবেন। আমরা যে মশক নিধন করছি, তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য পৃথক একটি তৃতীয় পক্ষ থাকবে। এই তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তারা দেখবে কোন কোন জায়গাতে কাজ হচ্ছে, আর কোন কোন জায়গাতে লার্ভা রয়েছে। তারা স্বতন্ত্রভাবে একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করবেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা এই প্রোগ্রামটি করতে যাচ্ছি। এই প্রোগ্রামে আমাদের ১০টি অঞ্চলকে আমরা যেভাবে ১০ ভাগে বিভক্ত করে কাজ করতাম, এবার আমরা তার থেকে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে কাজ করতে চাই। সেজন্য আমরা এবার একটি অঞ্চলে একদিনে ১২শ কর্মীকে নিয়ে সারাদিন কাজ করব। এজন্য আমরা প্রথম দিন অঞ্চল ২-এর মিরপুর এলাকাতে কাজ শুরু করব। এ এলাকায় একদিনে এমন কার্যক্রম শুরু হওয়া কাজ শেষ হওয়ার পর পরের দিন অন্য আরেকটি অঞ্চলে একইভাবে কাজ করব। এভাবে ১০ দিনে ১০টি অঞ্চলে কাজ করে আমরা দেখতে চাই যে আমাদের কার্যক্রমের ফলাফল কী। এ ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে আমরা পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে সিদ্ধান্ত নেব। তবে এ কাজে আমরা মনে করি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, ক্লাব-প্রতিষ্ঠান ছাড়াও সব ধরনের মানুষ আমাদের সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, এ কার্যক্রমে আমরা সকাল বেলা ফগিং করব। আমরা সাধারণত বিকেলে ফগিং কার্যক্রম করে থাকি। কিন্তু এই কার্যক্রমে আমরা এবার সকালে একবার, বিকেলে আরেকবার ফগিং করব। তবে সকালে ফগিং করার পর লার্ভিসাইডিং করব।

বিজ্ঞাপন

একদিনে এক অঞ্চলে ডিএনসিসির সব কর্মী নিয়ে কাজ করার কারণে অন্য অঞ্চলে কোনো প্রভাব পড়বে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছি। কারণ আমরা তো কন্টিনিউয়াসলি একই অঞ্চলে  টানা ১০ দিন কাজ করছি না। আমরা একেক দিন একেক অঞ্চলে সব কর্মী নিয়ে কাজ করব। এতে করে যে অঞ্চলে একদিন কাজ করেছি, সে অঞ্চলে ১০ দিন পর এলেও তেমন একটা প্রভাব পড়বে না বলেই বিশেষজ্ঞরা আমাদের ধারণা দিয়েছেন‌।

মেয়র আতিক বলেন, আমরা এখনই আমাদের এই ক্র্যাশ প্রোগ্রামে ড্রোন ব্যবহার করছি না। এটি নিয়ে আমাদের আরও সার্ভে করার কাজ চলছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন আমাদের অঞ্চলে প্রচুর জলাশয় রয়েছে। ডোবা রয়েছে। সেসব জলাশয় ও ডোবায় মশার ওষুধ সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। সে জন্য আমরা ড্রোন নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করেছি। তবে এ ক্র্যাশ প্রোগ্রামে আপাতত আমরা ড্রোন নিয়ে কাজ করব না।

সারাবাংলা/এসএইচ/টিআর


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button