রাজনীতি

মানুষ এতটাই ক্ষুব্ধ ছিল উড়ন্ত হেলিকপ্টারের দিকে জামা-জুতো ছুড়ছিল

আজমল হক হেলাল, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। সেদিন জনতার উত্তাল জোয়ারে মুখর ছিল সবুজ গাছ-গাছালি ঘেরা রেসকোর্স ময়দান। সেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ শুনতে যুব-তরুণের অনেকেই এসেছিলেন রেসকোর্সে; ওই সব যুব তরুণদের কেউ কেউ এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একেকজন কিংবদন্তি। এদের কেউ ছিলেন উত্তাল জনতার জোয়ারে মিশে, কেউ ছিলেন মঞ্চের পাশে।

বিজ্ঞাপন

৭ মার্চ ভাষণ শুনতে এসেছিলেন ওই সময়ের ২৫ বছর বয়সী তরুণ খালেকুজ্জামান। যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক।

৭ মার্চে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন ছিল জানতে চাইলে কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, ‘৭ মার্চ গোটা দেশটা তো অগ্নিগর্ভ ছিল। মানুষের মনে আশা দানা বেঁধেছিল যে, আজকে নিশ্চয় স্বাধীনতার ঘোষণা করা হবে। মানুষের চোখেমুখে আশা ছিল, মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল।’

বিজ্ঞাপন

‘৭ মার্চ ভাষণের দিন আপনি কোথায় ছিলেন’ জানতে চাইলে বাসদের এই নেতা বলেন, ‘ওই সময় আমার বয়স ২৫ কি ২৬ বছর হবে। আমি ভাষণ শোনার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। এরপর রেসকোর্স ময়দানে এসে হাজির হই। দেখি মানুষ আর মানুষ। প্রতিটি মানুষের চোখে-মুখে বঙ্গবন্ধুর জন্য অধীর অপেক্ষা দেখেছি। এ সময় উত্তাল জনসমুদ্রের সামনে দৃঢ়-দীপ্ত ভঙ্গিতে হাজির হন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’

বঙ্গবন্ধু ভরাট কণ্ঠে শুরু করলেন তার সেই কালজয়ী ভাষণ, “ভাইয়েরা আমার…ভাষণের মাঝখানে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভেসে আসছিল স্লোগান, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো।’ আমিও স্লোগান ধরেছিলাম। ওই সময়ে গোটা পরিস্থিতি সাংঘাতিকভাবে উদ্বেলিত হলো।”

বিজ্ঞাপন

খালেকুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ পাকিস্তান সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল। মানুষ মনে করছিল এতদিন ধরে যে অনাচার-অবিচার চলে এসেছে এখন তার প্রতিবাদ করার সময় চলে এসেছে। এখন চলে এসেছে দেশ স্বাধীন করার সময়। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ চলাকালে রেসকোর্স ময়দান এলাকায় একটি হেলিকপ্টার উড়ছিল। মানুষ এতটাই ক্ষুব্ধ ছিল যে সেটিকে শত্রুপক্ষের হেলিকপ্টার মনে করে উড়ন্ত হেলিকপ্টারের দিকে জামা-জুতো ছুড়ে মারছিল।’

৭ মার্চের প্রেক্ষাপট ও প্রভাব উল্লেখ করে বাসদের ওই প্রবীণ নেতা বলেন, ‘মানুষ আসলে স্বাধীনতার ঘোষণার অপেক্ষা করছিল। ৭ মার্চের এই ভাষণ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল। মানুষ সত্যিকার অর্থেই একটি স্বাধীন দেশের জন্য অপেক্ষায় ছিল। ৭ মার্চের পর আর পাকিস্তানের সঙ্গে আপস করার কোনো প্রশ্নই আসে না, সেই সুযোগও ছিল না। যে বাঁধভাঙা জোয়ার তৈরি হয়েছিল তা ঠেকিয়ে রাখা আসলেই কঠিন ছিল।’

বিজ্ঞাপন

৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার আহ্বান ছিল, মুক্তির আহ্বান ছিল। ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার ডাক ছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি বলেও মন্তব্য করেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/একে


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button