রাজধানী

মেয়ের চিকিৎসা করাতে এসে বাসচাপায় মায়ের মৃত্যু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘আমি অসুস্থ। আমার চিকিৎসা করাতে এসে সুস্থ মা মারা গেল। আমি মারা গেলেই ভালো হতো। আমি আমার মাকে দেখব। আমাকে মায়ের কাছে নিয়ে যাও।’- কথাগুলো বলছিলেন গুলিস্তান মাজারের সামনে দুই বাসের চাপায় নিহত পারভীন বেগম (৪৮) এর মেয়ে সুরাইয়া আক্তার।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৭ মার্চ) দুপুর একটার দিকে ঘটনাটি ঘটে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুইটার দিকে মৃত ঘোষণা করে।

মেয়ে সুরাইয়া আক্তর জানান, তাদের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার রাজদিয়া গ্রামে। বাবা আব্দুল বাসেদ ঢাকার পাটুয়াটুলির একটি দোকানে কাজ করে। সুরারাইয়া অনেক দিন ধরে বাতজ্বরে ভুগছে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিল। আজ সুরাইয়া তার মা পারভীনকে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যায়। সেখানে চিকিৎসা শেষ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়।

বিজ্ঞাপন

সুরাইয়া আরও জানায়, তারা হাসপাতালের সামনে থেকে বাসে উঠে গুলিস্তান নামে। এর পর মাজারের সামনে দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিল তারা। সুরাইয়া ছিল পিছনে। আর মা পারভীন বেগম সামনে ছিলেন। এমন সময় দুইটি তাকে বাস চাপা দেয়। এতে গুরুত্বর আঘাত পায় সে। পরে সেখান থেকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রেডক্রিসেন্টের কর্মী জান-ই আলম জাহিদ জানান, তারা কয়েকজন গুলিস্তানে ভলেন্টিয়ারের কাজ করছিল। বেলা একটার দিকে মাজারের সামনে দিয়ে দুই নারী রাস্তা পার হচ্ছিল। এমন সময় এন. মল্লিকের একটি বাস পিছনের দিকে আসছিল। তখন আরাম পরিবহনের আরেকটি বাস পারভীন বেগমকে সাথে চাপা দেয়।

বিজ্ঞাপন

পারভীন বেগমের স্বামী আব্দুল বাসেদ জানায়, সে নিজে পাটুয়াটুলির একটি বোরকার দোকানে কাজ করে। সুরাইয়া বিবাহত। মুন্সিগঞ্জেই থাকে। সে বেশ কিছুদিন ধরে বাতজ্বরে ভুগছে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসা নেয়। আজকেও হাসপাতালে গিয়েছিল। চিকিৎসা শেষে মুন্সিগঞ্জে ফেরার কথা ছিল তাদের।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন অর রশীদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত জানান, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে। একটি বাসের চালক পালিয়ে গেছে। আরেকটি বাসের চালককে আটক করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএসআর/পিটিএম


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button