স্বাস্থ্য

‘গরমে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেছেন, করোনার সংক্রমণের নিচু একটা ঢেউ গরম কালে আসতে পারে। কিন্তু সেটা অত বড় আকারে আসবে না। তবে এটা খুব বেশি বাড়বে না বলে আশা করছি। খেয়াল করলে দেখা যাবে যে, ১ মার্চ থেকে কিন্তু আমাদের এখানে সংক্রমণের ঢেউ কিছুটা বাড়ছে। এর আগেও এটি দুই শতাংশের ঘরে ছিল।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৮ মার্চ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ‘করোনার এক বছরে বাংলাদেশ: সফলতা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) আয়োজনে ও বিএসএমএমইউ’র সহযোগিতায় এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার শুরুতেই মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মিডিয়া সেলের প্রধান অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশে ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলছে। এক্ষেত্রে ইমিউন রেসপন্স তৈরি হবে। অন্যান্য দেশে যখন কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়ছিল তখন আমাদের এখানে কমে আসছে। আসলে করোনা গতি প্রকৃতি কেমন তা জানতে গবেষণার প্রয়োজন। গবেষণার জন্য টাকা প্রয়োজন। এই টাকা জোগানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাই।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, “অন্যান্য দেশে করোনার বিস্তার লাভ করলেও আমাদের দেশে নিয়ন্ত্রণে আসছে। আবার আমাদের এখানে অনেকেই অনেক কথা বলেছে কোভিড-১৯ পরীক্ষা নিয়ে। সঠিক পরিমাষণে সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে কিনা সে বিষয়েও অনেকে কথা বলেছে। ২০২০ সালের এপ্রিলের ২৪, ২৫, ২৬ তারিখের দিকে দেশে ‘ঈদ’ হলো। অনেক মানুষ ঢাকায় এলো, আবার চলে গেলো। তখন আমি বলেছিলাম, এর প্রভাব বোঝা যাবে ১০ মে অর্থাৎ ১৫ দিন পরে। কারণ এই ১৫ দিন হলো কোভিড-১৯ এর সুপ্তিকাল। এটা আমার বেশ কয়েকজন স্টুডেন্টকে বলছিলাম। কিন্তু আবার মনে মনে ভাবলাম, আমরা তো বেশি নমুনা পরীক্ষা করতে পারছি না। তাই কী হবে বুঝতে পারছিলাম না। ৯ মে দেখি সংক্রমণের হার ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। ১০ মে সেটি বেড়ে হলো ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। এই বিষয়টি দেখে বুঝলাম, আমাদের যে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হচ্ছে সেটি ডিপেন্ডেবল। ২৫ মে এই সংক্রমণের হার ২০ শতাংশের উপরে চলে যায়, যা ২০ আগস্ট পর্যন্ত ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘শীতকালে অন্যান্য অনেক দেশে যখন সংক্রমণ বেড়েছে তখন আমাদের দেশে কমেছে। বিশ্বে যখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিল তখন আমাদের দেশে কমেছে। সবসময় আমাদের দেশে করোনা ভাইরাসটি একটি রহস্যময় আচরণ করেছে। এখন সংক্রমণ বাড়ছে। বড় মাত্রার না হলেও সংক্রমণের অল্প ঢেউ সামনে আমাদের জন্য হয়তো অপেক্ষা করছে। সেই বিষয়ে প্রস্তুতি রাখতে হবে। করোনার সংক্রমণের প্রকৃত চিত্রটি বুঝতে গবেষণা জরুরি। এরজন্য বাজেট দরকার।’

বিজ্ঞাপন

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন- সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আফম রুহুল হক, বিএসএমএমইউর সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুলফিকার আহমেদ আমিন, স্বাচিপ সভাপতি ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বিএমএ মহাসচিব ডা. এহতেসামুল হক, ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ প্রমুখ।

আলোচনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএইচআরএফের সভাপতি তৌফিক মারুফ ও সভাপতিত্ব করেন বিএইচআরএসের সহ-সভাপতি জান্নাতুল বাকিয়া কেকা।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসবি/পিটিএম


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button