রাজধানী

‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে বার বার প্রশ্ন শুনতে হয়েছে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নারীরা কর্মক্ষেত্রে কত রকমের বাধার সম্মুখীন হয় তার উদাহরণ দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমার আগেও একাধিক ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারা সবাই ছিলেন পুরুষ। তাই আমার সাংবাদিক বন্ধুরা কেউ কোনো দিন তাদের যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি। কিন্তু আমার নামের আগে এ বি সি ডি থাকলেও আমি যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলাম তখনই নানা প্রশ্ন শুনতে হয়েছে। আর এটি আমাকে বারবার শুনতে হয়েছে; সব নারীকেই শুনতে হয়।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৮ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধে নারী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দীপু মনি বলেন, ‘২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বায়িত্ব দিয়েছিলেন। অনভ্যস্ততার একটা বিষয় তো ছিলই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চেয়ারে সাংবাদিকরা সব সময় বয়স্ক একজন পুরুষকে দেখেই আসছে। কিন্তু হঠাৎ করে একজন নারী আসায় সেটা দেখে একটা ধাক্কা লাগতেই পারে। কিন্তু আমার আগে বা পরে কারও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা আছে কিনা সেই প্রশ্ন কোনো সাংবাদিক বন্ধু করেননি।

বিজ্ঞাপন

নির্যাতনের শিকার নারীর প্রতি আরেক প্রকার নির্যাতন হয় উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, ‘এটি একটি চরম বৈষম্য। এখন ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে আদালতের নির্দেশনা আছে ধর্ষণের শিকার নারীর ছবি ছাপানো যাবে না। কিন্তু অনেক সময় ছাপা হয়ে থাকে। ধর্ষক বিচারের রায়ে শাস্তি পায়। কিন্তু যে নারী ধর্ষণের শিকার হয় তার জন্য প্রতিদিনই মৃত্যুদণ্ড। সারাটা জীবন তাকে অস্পৃশ্য ভাবা হয়। এটা পুরোপুরি মানসিকতার ব্যাপার। একাত্তরে যা হয়েছিল তার থেকে ঘৃণ্য একটি জায়গায় আমরা পৌঁছেছি।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ভাষা একটি খুব জরুরি বিষয়। আমরা ভাষা দিয়ে কীভাবে একটি নারীকে দাবিয়ে রাখি। যখন কেউ ধর্ষণের শিকার হয় আমরা বলি সম্ভ্রমহানি হয়েছে। আমাকে কুকুর কামড় দিলে তো সম্ভ্রমহানি হয় না। একটা পুরুষ ধর্ষণ করল একটা নারীর কীভাবে সম্ভ্রমহানি হয়। সম্ভ্রমহানি তো সেই পুরুষের হওয়ার কথা। আমরা কেন সম্ভ্রমহারা পুরুষ বলি না ধর্ষককে।’

বিজ্ঞাপন

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, কবি হাসান হাফিজ, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু প্রমুখ।

সারাবাংলা/এসএইচ/পিটিএম


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button