আন্তর্জাতিক

মিয়ানমার সংকটের মধ্যস্থতা করতে চায় চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ‍মাধ্যমে প্রতিবেশী মিয়ানমারের চলমান সংকট সমাধানে মধ্যস্থতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তা স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ই রোববার (৭ মার্চ) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষনা দেন। খবর রয়টার্স।

বিজ্ঞাপন

চীনের ন্যাশনাল পিপলস’ কংগ্রেসের (এনপিসি) ফাঁকে ওই সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং আরও বলেন, মিয়ানমারের জনগণের ইচ্ছায় এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে চীন সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। দেশটিতে চলমান উত্তেজনা নিরসনে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চায়।

এর আগে, ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। পশ্চিমা দেশগুলো সেনাঅভ্যুত্থানের কঠোর নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অং সান সু চিসহ তার দলের আটক নেতাদের মুক্তি এবং বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবি জানিয়েছে। তা না হলে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু চীন অভ্যুত্থানের বিষয়ে নীরব থেকে প্রতিবেশী দেশের স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছে।

অন্যদিকে, সেনাঅভ্যুত্থানের পরপরই এর বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সাধারণ মানুষ গণবিক্ষোভে শুরু করেছে। টানা গণবিক্ষোভে এরইমধ্যে প্রায় অর্ধশত বেসামরিক মানুষের প্রাণ গেছে।

বিজ্ঞাপন

মিয়ানমারে সেনাঅভ্যুত্থানের পেছনে চীনের হাত রয়েছে, এ নিয়ে জোর গুঞ্জন রয়েছে। গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেনাভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে চীন নিশ্চিতভাবেই এমনটা দেখতে চায়নি।

অভ্যুত্থানের পর মিয়ামনার সেনাবাহিনী ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যাওয়া সু চি এবং তাদের দলের নেতাদের আটক করে এবং দেশজুড়ে এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে এক বিবৃতিতে সু চি এবং বাকি নেতাদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং জরুরি অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। যার সঙ্গে চীনও একমত পোষণ করেছে।

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে ওয়াং বলেন, ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) সহ মিয়ানমারের সব রাজনৈতিক দল এবং জোটের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। সব সময় মিয়ানমারের সব দলের সর্বসম্মতিক্রমেই চীনের সঙ্গে এ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে।

ওয়াং আরও বলেন, কিভাবে মিয়ানমারের পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় তা চীনের কাছে কোনো বিষয় নয়। বরং চীন সব সময় দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর এবং চীনের এ অবস্থানের পরিবর্তন কখনোই হবে না।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও, মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের খবর আগে থেকেই চীনের কাছে ছিল না বলেও দাবি করেছে বেইজিং।

সারাবাংলা/একেএম


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button