রাজনীতি

কোনো কিছুই বিএনপিকে আটকাতে পারবে না: ফখরুল

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কোনো কিছুই বিএনপিকে আটকাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

জিয়াউর রহমানের নামে কটুক্তি ও খেতাব বাতিল, লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু ও সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যাকাণ্ড, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে এই প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করে ঢাকা মহানগর (উত্তর-দক্ষিণ) বিএনপির।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগ করতে হবে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে, নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরকারকেও পদত্যাগ করতে হবে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হব। আসুন আমরা সেই লক্ষ্যে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। কোনো কিছুই আমাদের আটকাতে পারবে না।’

বিজ্ঞাপন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘একটা ভয়াবহ আইন তৈরি করা হয়েছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই সরকার গণতান্ত্রিক সরকার নয়, এই সরকার জনগণের সরকার নয়। তারা জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতাকে ব্যবহার করে, রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোকে ব্যবহার করে বেআইনিভাবে ভোটের আগের রাত্রে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। এই দখলদারি সরকার শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো ভয়াবহ আইন তৈরি করেছে।’

সমাবেশে নেতা-কর্মীদের আসতে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা এত ভয় পান কেন? সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার পরে চতুর্দিকে বন্ধ করে দিয়ে আমাদের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের এখানে আসতে দেন না। কারণ, আপনারা জানেন, নেতা-কর্মী-সমর্থক-জনগণ যদি জেগে ওঠে তাহলে আপনারা এই বেআইনি ক্ষমতা রাখা সম্ভব হবে না। আমরা পরিষ্কারভাষায় বলতে চাই, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করতে হবে। যুব দলের নেতা রফিকুল আলম মজনুসহ যাদেরকে এই আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে সকলকে মুক্তি দিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

কার্টুনিস্ট কিশোরকে সাধুবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, কার্টুনিস্ট কিশোরের ওপরে কী নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। মুশতাক আহমেদ কীভাবে কারাগারে নিহত হয়েছে, এটা তো ফেইসবুকে কথা বেরিয়ে এসছে। আমি সাবাস দিতে চাই কার্টুনিস্ট কিশোরকে। আজকে সে মামলা করেছে তার ওপরে নির্মম নির্যাতনের বিরুদ্ধে। এই সাহস নিয়ে সকলকে বেরিয়ে আসতে হবে, আজকে এই সাহস নিয়ে সকলকে এই অন্ধকারকে দূর করার জন্য, এই স্বৈরাচারকে দূর করার সোচ্চার হতে হবে।’

ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে কাজী আবুল বাশার ও আব্দুল আলিম নকির পরিচালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, নাজিম উদ্দিন আলম, আবদুস সালাম আজাদ, মহানগর উত্তরের বজলুল বাসিত আনজু, এজিএম শামসুল হক, যুব দলের এসএম জাহাঙ্গীর, এসএম জিলানী, গোলাম মাওলা শাহিন, শ্রমিক দলের সুমন ভুঁইয়া ও ছাত্র দলের দলের কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এজেড/একে


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button