অর্থ-বাণিজ্য

ইস্কাটনে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য হচ্ছে ৪৮০ ফ্ল্যাট

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকারি কর্মকর্তাদের রাজধানীর ইস্কাটনে ৪৮০টি ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে। ইস্কাটনের অফিসার্স কোয়ার্টার ক্যাম্পাসে এসব ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। সেইসঙ্গে স্থাপন করা হবে বেশকিছু স্থাপনাও। এজন্য ‘ঢাকাস্থ ইস্কাটন অফিসার্স কোয়ার্টার এলাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতর। এতে ব্যয় হবে ৭৪৭ কোটি ১১ লাখ টাকা।
প্রস্তাবিত প্রকল্পটির প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে গণপূর্ত অধিদফতর। এর আগে গত বছরের শেষদিকে অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্পটির পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা। ওই সভার কার্যবিবরণী সারাবাংলার এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
এর আগে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সারাবাংলাকে বলেছিলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে উত্তম সেবা পেতে তাদের আবাসন সংকট কাটানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই জাতীয় সংসদ ভবন ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের আবাসিক ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি কর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন এবং কোনো কোনোটি বাস্তবায়নও হয়েছে। এটিও সেরকম একটি প্রকল্প।’
এদিকে গণপূর্ত অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা শহরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৫ জন। তাদের বসবাসের জন্য ১৩ হাজার ৫২টি ফ্ল্যাট রয়েছে, যা মোট চাহিদার মাত্র ৮ শতাংশ এবং প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি বাসা না পাওয়ার কারণে অধিক ভাড়া দিয়ে বেসরকারি বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের আর্থিক অসুবিধার মধ্যে ফেলছে। আবার অনেকে নিম্নমানের বাসায় বসবাস করছেন, যা তাদের জীবনযাত্রার মানকে ব্যাহত করছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংক্রান্ত এ সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তাদের আবাসন সুবিধা ৮ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীতকরণের অনুশাসন দেন।
জানা গেছে, ইস্কাটন অফির্সাস কোয়ার্টার ক্যাম্পাসে ১১ দশমিক ৫ একর জমির ওপর ৩১টি ৪, ৫, ৬ তলা ভবন এবং কিছু অস্থায়ী স্থাপনা রয়েছে। স্থাপনাগুলোর কিছু ৬০ বছর আগে এবং কিছু ২৪ বছর আগে নির্মিত। এই ভবনগুলোতে বর্তমানে ১৯৮টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ পুরাতন ভবনগুলো ভেঙে ১৮০০ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট ৫টি ১৩তলা ভবন এবং ১৮০০ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট ৫টি ১৩তলা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ৪৮০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং অন্যান্য কিছু স্থাপনা নির্মাণের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
পিইসি সভায় গণপূর্ত অধিদফতরের পক্ষ থেকে প্রকল্প এলাকার প্রস্তাবিত লে-আউট প্ল্যান প্রদর্শন করা হয়। লে-আউট প্ল্যানে দেওয়া, সেকেন্ডারি ডাম্পিং শেডের অবস্থানের পাশে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় শেডটি প্রকল্প সাইটের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে সিটি করপোরেশনের নির্মিতব্য ডাম্পিং স্টেশনের কাছাকাছি রাখার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য স্থাপত্য অধিদফতর এবং গণপূর্ত অধিদফতরকে পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতিটি ভবনের আলো-বাতাস চলাচলের বিষয়ে বিবেচনা করে ভবনগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমপক্ষে ২৫ ফুট রেখে ডিজাইন প্রণয়নের বিষয়ে সভায় একমত পোষণ করা হয়। লে-আউট প্ল্যানে দেওয়া ছোট বাচ্চাদের খেলার স্থানে বাচ্চাদের উপযোগী কিছু রাইডের সংস্থান রাখার বিষয়ে উপস্থিত সকলে একমত পোষণ করেন। সভায় উপস্থিত সকলে জায়গার অপচয় রোধের জন্য প্রস্তাবিত ছয়টি দুই তলা ক্লাব ভবন নির্মাণের পরিবর্তে ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রেখে দুটি ছয়তলার ভিত বিশিষ্ট তিনতলা ক্লাব ভবন নির্মাণের বিষয়ে একমত হয়।
সভায় গণপূর্ত অধিদফতরের পক্ষ থেকে আবাসিক ভবনগুলোর টিপিক্যাল ফ্লোর প্ল্যান উপস্থাপন করা হয় এবং কক্ষগুলোর অবস্থানের বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় বলা হয়, সরকারি বিভিন্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান সার্কুলার অনুযায়ী ভবনের আকার যুগপোযোগী নয়। এক্ষেত্রে সচিবদের জন্য নির্মিত ৩৫০০ বর্গফুট আবাসিক ভবনের সাথে তুলনা করে অন্যান্য গ্রেডের জন্য নির্ধারিত আবাসিক ইউনিটের আয়তন বাড়ানোর বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়।
বৈঠকে অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০০৩ সালের ২২ জানুয়ারিতে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রণয়ণের সময় প্রকল্পের প্রয়োজন অনুসারে লোকবলের সংখ্যা নির্ধারণের জন্য হলেও অর্থ বিভাগের জনবল কমিটির সুপারিশ নেওয়া প্রয়োজন।’
পিইসি সভায় আইএমইডির প্রতিনিধি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট প্যাকেজের প্রাক্কলিত ব্যয় অনুযায়ী ক্রয় অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কে হবেন তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া লিফটের জন্য ছয়টি প্যাকেজ রাখার কারণ ডিপিপিতে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রকল্প শেষে নিরাপত্তা প্রহরী, লিফটম্যান, মালি ইত্যাদি পদে কতজন জনবল প্রয়োজন ডিপিপিতে উল্লেখ করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেজে/পিটিএম


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button