সারাদেশ

মুকুলের সমারোহে মৌ গন্ধে সুবাসিত আমের রাজধানী

মো. আশরাফুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাগানে ফুটেছে মুকুল। প্রতিটি গাছ থেকে ভেসে বেড়াচ্ছে মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আম উৎপাদিত হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। অন্যদিকে, গত বছর মহামারি করোনার কারণে হওয়া ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশায় বুক বাঁধছেন আমচাষিরা।
এখন আম গাছের ডালে ডালে শোভা পাচ্ছে হলুদ আর সবুজের মহামিলন। গাছের প্রতিটি ডালপালা মুকুলে ছেয়ে গেছে। চারিদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলে সুবাসিত বাতাস।  মুকুলের আশেপাশে চলছে মৌমাছির আনাগোনা। অনেক চাষিই মুকুল রক্ষা করতে গাছে গাছে ওষুধ স্প্রে করছেন।
সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের পলশা গ্রামের আম চাষি মাসুদ আলী বলেন, ‘গতবছর মহামারি করোনার কারণে আমে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আম পাঠাতে না পেরে বাগানেই নষ্ট হয় বিপুল পরিমাণ আম। এমনকি সার, কীটনাশকের খরচ পর্যন্ত ওঠেনি গত বছর। আশা করছি এবার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবো।’
একদিকে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে, অন্যদিকে চলছে বাগান পরিচর্যা। শ্রমিক মো. সোহেল রানা বলেন, ‘এবছর মুকুল দেখে খুব আনন্দ লাগছে। আশা করা যায় ভালো ফলন হবে। সারাবছর অপেক্ষায় থাকি আমের মৌসুমে ৩ মাস কাজ করার জন্য। কিন্তু গতবছর কাজ করতে পারিনি।’
আমের আড়ৎদার আব্দুর রাকিব জানান, এখন পর্যন্ত সবকিছুই অনুকূলে রয়েছে। গাছে প্রচুর পরিমানে মুকুল এসেছে। গতবছর দোকান ঘরের ভাড়ার টাকাও তুলতে পারিনি। আশা করছি এবছর ফলন যেমন বেশি হবে, তেমনি দামও বেশি পাওয়া যাবে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, জেলার প্রায় ৯৫ শতাংশ আম গাছে মুকুল দেখা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে। আম চাষিদের বিভিন্ন সময় পরিচর্চা বিষয়ে নানা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ছত্রাকনাশক-কীটনাশক ব্যবহারে স্প্রের পরিমান, ফলন অথবা মটর দানা বাঁধার সময়, মার্বেল আকৃতি হওয়ার সময় মোট ৩ বার স্প্রে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চাষিদের প্রতি ২ মাস পর পর আম গাছের পাশে সার দেওয়ার জন্য উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাধ্যমে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্য বিষয়ে পরামর্শের প্রয়োজন হলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করার জন্যও কৃষকদের বলা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, জেলায় ৩৩ হাজার ৩৫ হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ হয়েছে। এবছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আড়াই লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এমও


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button