জাতীয়

‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে ১০ দিনের অনুষ্ঠান ঘোষণা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে দশ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আগামী ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী এসব বিশেষ অনুষ্ঠানমালা হবে। বিদ্যমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিরা অংশ নেবেন।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১২ মার্চ) বিকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এ তথ্য জানান। রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে দশ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রতিদিন পৃথক থিমভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অডিও ভিজ্যুয়াল এবং অন্যান্য বিশেষ পরিবেশনার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।”

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, দশ দিনের অনুষ্ঠানমালার থিম হিসাবে থাকবে, ১৭ মার্চ ‘ভেঙেছে দুয়ার সেজেছো জ্যোতির্ময়’, ১৮ মার্চ ‘মহাকালের তর্জনি’, ১৯ মার্চ ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা’, ২০ মার্চ ‘তারুণ্যের আলোক শিখা’, ২১ মার্চ ‘ধ্বংসস্তুপে জীবনের গান’, ২২ মার্চ ‘বাংলার মাটি আমার মাটি’, ২৩ মার্চ, ‘নারী মুক্তি, সাম্য ও স্বাধীনতা’, ২৪ মার্চ ‘শান্তি মুক্তি ও মানবতার অগ্রদূত’, ২৫ মার্চ ‘গণহত্যার কাল রাত্রি ও আলোকের অভিযাত্রা’, এবং ২৬ মার্চ ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর ও অগ্রগতির সুবর্ণ রেখা’ নির্ধারণ করা হয়েছে।

দশ দিনের অনুষ্ঠানমালায় ১৭ মার্চ, ২২ মার্চ এবং ২৬ মার্চ তারিখের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং ১৭ মার্চ, ১৯ মার্চ, ২২ মার্চ, ২৪ মার্চ এবং ২৬ মার্চ তারিখের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন।

বিজ্ঞাপন

এই পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। আগামী ১৭ মার্চের অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসাবে মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ, ১৯ মার্চের অনুষ্ঠানে শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে, ২২ মার্চ নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভান্ডারী, ২৪ মার্চ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং এবং ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থাকবেন।

এই পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানে সীমিত আকারে ৫০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া এই অনুষ্ঠানমালায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ধারণ করা বক্তব্য প্রদর্শন করা হবে। প্রত্যেক দিনের অনুষ্ঠান টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে ১৭ মার্চ বিকাল সাড়ে চারটায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইবরাহিম মোহামেদ সলিহ।

ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমরা চার দিনের যে তথ্য এখনও পর্যন্ত পেয়েছি, তার মধ্যে রয়েছে আগামী ১৭ মার্চ উদ্বোধনী দিনে মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি সরাসরি উপস্থিত থাকবেন। চীনের প্রেসিডেন্ট ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী ভিডিও বার্তা পাঠাবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি থাকবেন এবং সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকাল সাড়ে ৪টায়। অনুষ্ঠান হবে দুটি পর্বে। প্রথম পর্বে আলোচনা সভার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, ১৮ মার্চ অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে। অনুষ্ঠানে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা থাকবে। এছাড়া ভিয়েতনামের একটি প্রোগ্রাম থাকবে। ১৯ মার্চ শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে উপস্থিত থাকবেন। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন শ্রীলঙ্কার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। ২০ মার্চের অনুষ্ঠানে ওআইসির সেক্রেটারি জেনারেল ভিডিও বার্তা দেবেন এবং জাপান একটি অনুষ্ঠান উপহার দেবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এনআর/এমও


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button