জাতীয়

দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা সবার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই দেশ স্বাধীন করেছি। এই দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা আমাদের সকলেরই দায়িত্ব, সকলেরই কর্তব্য।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘দেশটা যত উন্নতি হবে, অথনৈতিকভাবে যত স্বাবলম্বী হতে পারব বা আমাদের যাত্রীসেবা যত উন্নত করতে পারব, তাতে দেশের লাভ হবে দেশের মানুষের লাভ হবে এবং আমাদের দেশটাও আরও উন্নত হবে।’

রোববার (১৪ মার্চ) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুইটি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ ‘আকাশতরী’ ও ‘শ্বেতবলাকা’ উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ভিআইপি লাউঞ্জ প্রান্তে যুক্ত ছিলেন। গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিসহ বিমান পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বেসামারিক বিমান চলাচল ও পযটন প্রতিমন্ত্রী মাহাবুব আলী এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন।

বিজ্ঞাপন

জাতির পিতার হত্যার পর ২১ বছর এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কথা তুলে ধরে তার সরকারের প্রথম মেয়াদে বিমানের উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করার তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের উড়োজাহাজ তো শুধু আমাদের দেশে না, এটি তো বাংলাদেশের জন্য একটা দৃষ্টান্ত। সারাবিশ্বে যখন ঘোরে, সারাবিশ্বে যায় তখন বাংলাদেশেরই প্রতিনিধিত্ব করে। সে জন্য সবসময় আমাদের প্রচেষ্টা ছিল যে এই বিমান যেন আমরা খুব সুন্দরভাবে-ভালোভাবে গড়তে পারি।’

জাতির পিতার অঙ্গীকার ছিল–প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড হিসাবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করার সে কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অর্থ্যাৎ আমাদের যে ভৌগোলিক অবস্থানটা আছে এবং আমরা ইন্টারন্যাশনাল এয়ার রুটের ভেতরে আছি সেইক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিন্তু প্রাচ্য পাশ্চাত্যের একটা সেতুবন্ধন রচনা করতে পারে।’

বিজ্ঞাপন

‘তা ছাড়া আমরা দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি করা, ব্যবসা বাণিজ্য বাড়ানোর অনেক সুযোগ আমাদের রয়েছে, সেই সুযোগগুলো কাজে লাগানো এটাও জাতির পিতার একটা আকাঙ্ক্ষা ছিল। আমরা সরকারে আসার পর থেকে সেই প্রচেষ্টা চালাই।’

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের মেয়াদে বিমানের বহরে আধুনিক এবং নতুন নতুন বিমান যুক্ত করার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে আমাদের অনেক সুযোগ নষ্ট হয়ে গেছে সেই আক্ষেপও করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর এবং সিলেট বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করাসহ ২০০১ বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতার আসার পর রাজশাহী বিমানবন্দর, বরিশাল বিমানবন্দর, সৈয়দপুর বিমানবন্দর; প্রায় বন্ধই করে দিয়েছি সে কথা স্মরণ করেন। পরবর্তীতে তার সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে এসব বিমানবন্দর পুরনায় চালু করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

পাশাপাশি বৈশ্বিক এয়ার রুটে বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে উন্নীতকরণের চলমান রয়েছে সে বিষয়েও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক এয়ার রুটে এই বিমানবন্দরটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখতে পারবে এবং আর্থিকভাবে বাংলাদেশ আরও উন্নত হতে পারবে।’

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের মেয়াদে বিমান বহরে অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ যুক্ত করার কথা প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগটা বাড়াতে পারব এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও উন্নত হবে। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের যোগাযোগটা বাড়াতে পারব এবং যাত্রীসেবাটাও সুন্দরভাবে করা যাবে। সেই ক্ষেত্রে মনে করি, এ বিমানগুলো যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এই বিমানগুলো অত্যন্ত আধুনিক বিমান।’

‘তা ছাড়া আমাদের যখন হজযাত্রীরা যান, আগে তো আমাদের বাইরে থেকে বিমান নিয়ে আসতে হতো। এখন আর প্রয়োজন হবে না, আমাদের নিজস্ব বিমানেই আমরা এখন হাজীদের খুব পাঠাতে পারি এবং ফেরত আনতে পারি, সেই সুবিধাটাও আমরা পেয়েছি।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালটা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত হিসাবে তৈরি হচ্ছে, যা বাংলাদেশের আধুনিক বিমান সেবার মান উন্নত করণে কাজ করবে আশাবাদ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বিমানে যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্দেশে বলেন, ‘কাজেই বিমানের সঙ্গে জড়িত, সবাইকে অনুরোধ করব, এটা আমাদের দেশ, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই দেশ স্বাধীন করেছি। এই দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা আমাদের সকলেরই দায়িত্ব, সকলেরই কর্তব্য। দেশটা যত উন্নতি হবে, অথনৈতিকভাবে আমরা যত স্বাবলম্বী হতে পারব বা আমরা আমাদের যাত্রীসেবা যত উন্নত করতে পারব, তাতে দেশের লাভ হবে, দেশের মানুষের লাভ হবে এবং আমাদের দেশটাও আরও উন্নত হবে। সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রেখেই আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আপনারা পালন করবেন সেটাই চাই।’

‘এখন আজ কালকার যুগ। গ্লোবাল ভিলেজ হয়ে গেছে। তা ছাড়া প্রযুক্তি ব্যবহার অর্থ্যাৎ এখন যারাই বিমানে যায়, ওয়াইফাই কানেকশন বা ইন্টারনেট সার্ভিস সকলেই চায়। তাই আমাদের নতুন বিমানগুলোতে সব ধরনের সুযোগ রেখেছি। বিমানে বেকার বসে থাকতে হবে না। ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজও চালাতে পারবে।’

আমরা এই পর্যন্ত বিমান বহরের জনগণের টাকায় ১৬টি নিজস্ব আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয় করা হয়েছে এবং সর্র্বমোট এখন আমাদের ২১টি জাহাজ রয়েছে। সেগুলো যেন সুন্দরভাবে সুরক্ষিত থাকে এবং যাত্রীসেবার মান যে উন্নত হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য আপনাদের কাছে আমার আহ্বান থাকল।

‘বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি এবং বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসাবে গড়ে তোলার জন্য।’

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিমানের জয়যাত্রা অব্যাহতের শুভ কামনা করে বিমান বহরে যুক্ত হওয়া নতুন দুটি উড়োজাহাজের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

সারাবাংলা/এনআর/একে


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button