সারাদেশ

নির্যাতনের পর মেয়ের মাথা ন্যাড়া করায় মুক্তিযোদ্ধা পিতার মামলা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

নড়াইল: জেলার পৌর এলাকার দূর্গাপর গ্রামের এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুরির নামে মামলা করেছেন গৃহবধূর মুক্তিযোদ্ধা পিতা মো. হোসেন ইমাম ওরফে তৈমুর।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১৪ মার্চ) সদর আদালতে নির্যাতিত গৃহবধূর জবানবন্দি নেওয়া হয়। এর আগে, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইনে শনিবার (১৩ মার্চ) রাতে নড়াইল সদর থানায় এই মামলা দায়ের করেন হোসেন ইমাম। মামলার আসামিরা হলেন- নির্যাতিতা গৃহবধূর স্বামী সজিব, শ্বশুর বিএম নজরুল ইসলাম এবং শাশুরি স্বপ্না বিশ্বাস।

বাঁশগ্রাম বিট অফিসার এসআই মো. আমিন উদ্দিন লিটন এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। তিনি জানান, গতকাল শনিবার এ মামলা দাখিল করা হয়। আমাকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি ইতোমধ্যে মামলার তদন্তের কাজ শুরু করেছি। তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে পারব।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, এ মামলাটি পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ২০১০, ৩০ ও প্যানাল কোডের ৩০৭, ৩২৩, ৩২৫ ৩২৬, ৩২৮, ১১৪ ধারায় করা হয়েছে।

নির্যাতিতার মা জানান, সজিব (২৮) ও তার পরিবারের লোকজন গত শুক্রবার গভীর রাতে তার মেয়ে জান্নাত আরা সেতুকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে এবং মাথা ন্যাড়া করে দেয়। পরে পুলিশের সহাতায় মেয়েকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

নড়াইল সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে বেডে শুয়ে মুমূর্ষ জান্নাত আরা সেতু অচেতন অবস্থায় বার বার ভয়ে কেঁপে কেঁপে উঠছেন। ডাক্তার এসে তাকে স্পর্শ করা মাত্রই ব্যথায় কাতরাতে থাকেন।

ভুক্তভোগী সেতু জানান, তার শরীরের নানা জায়গায় নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি সব কিছু ভুলে যাচ্ছেন। তাকে জোর করে একসঙ্গে অনেকগুলো ঘুমের বড়ি খাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয় জানতে চাইলে সজিব বলেন, জান্নাত আরা সেতু আমার স্ত্রী। তার মাথার চুল কখন কিভাবে কাটা হয়েছে, আমি তার কিছুই জানি না। এসব তারই (স্ত্রী) বানানো কথা।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি ইউনিয়নের কালডাঙ্গা গ্রাম, বর্তমান নড়াইল পৌরসভার দূর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা বিএম নজরুল ইসলামের ছেলে সজিবের সঙ্গে জান্নাত আরা সেতুর বিবাহ হয়। জান্নাত আরার আদি নিবাস কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রাম, বর্তমান নড়াইল পৌরসভার দক্ষিণ নড়াইল গ্রামে তার বাবার বাড়ি। তাদের ঘরে ১টি ছেলে ও ১টি মেয়ে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সেতু সজিবের দ্বিতীয় স্ত্রী। এর আগে মাগুরা জেলায় বিয়ে করেছিলেন সজিব। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। পরে সেতুকে বিয়ে করেন তিনি।

সারাবাংলা/এনএস


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button