শিক্ষা

রাবির প্যারিস রোডের গাছগুলো বাঁচবে আর ৪ বছর!

আবু সাঈদ সজল, রাবি করেসপন্ডেন্ট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: নির্মল বাতাস। পিচঢালা পরিষ্কার রাস্তা। রাস্তার দুই ধারে সুবিশাল গগনশিরীষ। গাছগুলো যেন একে অপরকে আলিঙ্গন করে দাঁড়িয়ে আছে। এক অদ্ভুত আলো-ছায়ার খেলায় সৌন্দর্যের উপমা হয়ে জেগে আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই রাস্তাটি। সৌন্দর্যমণ্ডিত এই রাস্তার নাম ‘প্যারিস রোড’।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক দিয়ে ঢুকে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে বামদিকে চোখে পড়ে সুবিস্তৃত সড়কের দুই ধারে দাঁড়িয়ে আছে সুবিশাল গাছ। ফিলিপাইন থেকে আনা এই গাছগুলোর নাম গগনশিরীষ। তৎকালীন উপাচার্য এম শামসুল হক এ গাছগুলো এনেছিলেন। পরে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাদিরউজ্জামানের নেতৃত্বে গাছগুলো লাগানো হয়। বর্তমানে গাছগুলো দেখলেই যেকারো মন ভরে যাবে।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের রাস্তার সঙ্গে সাদৃশ্য থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট থেকে শের-ই-বাংলা হল পর্যন্ত এই রাস্তাটি ‘প্যারিস রোড’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই রাস্তাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই গাছগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

গগন শিরীষ (Albizia richardiana) গাছগুলোর আয়ূষ্কাল সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই গাছগুলোর আয়ু সাধারণত ৫০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬৫ সালে লাগানো হয়েছিল গগনশিরীষ গাছগুলো। সেই হিসাবে গাছগুলো জীবনকালের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। আর মাত্র চার বছর বাঁচতে পারে গাছগুলো। এরপর গগনশিরীষগুলো রোগাক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে মরে যাবে।’

এর আগে ২০১৯ সালের এক ঝড়ে অনেকগুলো গাছ উপড়ে পড়েছিল। এতে উপাচার্যের বাসভবনের আশেপাশের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে। এরপর ঝুঁকির বিষয়ে বিবেচনা করে গত কয়েক বছরে রাস্তার পাশের বেশ কয়েকটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে রাস্তার সৌন্দর্য অনেকটাই কমে যায়।

বিজ্ঞাপন

গাছগুলোর জীবনের শেষ পর্যায়ে আছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা। রাস্তাটির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে আনন্দ কুমার সাহা বলেন, “গত বছর প্রণীত বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘৫০ বছর মেয়াদী মাস্টার প্ল্যানে’ ঐতিহ্যবাহী স্থান সংরক্ষণ ও বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। যার মধ্যে প্যারিস রোডকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ এ নিয়ে বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী স্থান সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিভাগের একটি দল কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ঐতিহ্যবাহী স্থান সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা দলটির নেতৃত্বে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্রিনা নাজ। তার নেতৃত্বে দলটি গগনশিরীষের চারা গাছের গাছ বাড়ানোর জন্য এবং বৃদ্ধ এবং মৃত গাছের জায়গায় লাগানোর চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে অধ্যাপক নাজ বলেন, ‘অনেক প্রচেষ্টার পরে বিশেষত, উদ্ভিদ বিভাগের উদ্যানবিদদের কাছ থেকে আমরা গগনশিরীষের চারা পুনরুৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা ধীরে ধীরে উপড়ে পড়া ও কাটা গাছের জায়গায় গাছের চারা রোপণ করব।’

তারা ধারাবাহিকভাবে প্যারিস রোড এবং এর সৌন্দর্য সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. নাজ।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/পিটিএম


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button