শিক্ষা

কলিমউল্লাহর দেখা না পেয়েই ক্যাম্পাস ছাড়তে হলো তদন্ত দলকে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল দেড় শতাধিক। সেসব অভিযোগ তদন্ত করতে বেরোবি ক্যাম্পাসে গিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত দল। কিন্তু ষে পর্যন্ত উপাচার্যের সাক্ষাৎ না পেয়েই ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছে তাদের।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বেরোবি ক্যম্পাসে অবস্থান করে এই তদন্ত দল। এই সময়ের মধ্যে অভিযোগকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ ৩০ জনের সাক্ষ্য নেয় এই তদন্ত কমিটি।

রাত ১০টায় অধ্যাপক ড. বিশ্বজিত চন্দের নেতৃত্বে তদন্ত করতে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হয়ে যান। গোটা সময়েই উপাচার্য কলিমউল্লাহর দেখা পায়নি তদন্ত কমিটি। এদিন উপউপাচার্য সরিফা সালোয়া ডিনাসহ ‘উপাচার্যপন্থি’ বেশিরভাগ শিক্ষকই অনুপস্থিত ছিলেন ক্যাম্পাসে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- ৭৯০ পৃষ্ঠার শ্বেতপত্রে ভিসি কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ ১১১টি

এর আগে, ‍দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ইউজিসির তদন্ত দলের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভাকক্ষে এসে প্রবেশ করেন। এরপর দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ধরে তারা সাক্ষ্য নেন শিক্ষক-কর্মচারীদের। অভিযোগকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল, তারা ছাড়াও অভিযোগের সঙ্গে জড়িত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও শিক্ষকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত কমিটি।

বিজ্ঞাপন

উপাচার্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা না মেনে ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক অনুপস্থিত থাকা, একাডেমিক-প্রশাসনিক কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ বিভিন্নভাবে উত্থাপিত দাবিনামা, শিক্ষক সমিতির ১৮ দফা, বঙ্গবন্ধু পরিষদের ৪৫ দফা, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের ১১ দফা ও অধিকার সুরক্ষা পরিষদের ১১০ দফাসহ সব অভিযোগের ব্যাপারেই তথ্য-প্রমাণ ও স্বাক্ষ্যগ্রহণের কথা জানায় তদন্ত কমিটি।

ইউজিসির এই তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. বিশ্বজিত চন্দ সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের শতাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, উপাচার্যের একান্ত সচিবসহ ৩০ জনেরও বেশি প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক নিয়োগ শর্ত না মেনে রংপুরে থাকেন না, নিয়োগে দুর্নীতি, ডিন ও বিভাগের প্রধান নিয়োগসহ বিভিন্ন যেসব অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি, সবই গভীরভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

এসময় ড. বিশ্বজিৎ চন্দ ছাড়াও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. আবু তাহের, ইউজিসির জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জামাল উদ্দীন এবং আমিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ভিসি কলিমউল্লাহর অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা তদন্তের জন্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এই তদন্ত কমিটি গঠন করে ইউজিসি।

এর আগে, শনিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদে’র ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে উপাচার্য ড. কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়। ৭৯০ পৃষ্ঠার এই শ্বেতপত্রে বেরোবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির ১১১টি অভিযোগ তুলে ধরেন শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

বিজ্ঞাপন

এরও আগে, গত ৪ মার্চ ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলন করেন উপাচার্য কলিমউল্লাহ। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বেরোবি’র বর্তমান অবস্থার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে দায়ী করেন। স্পিকার-মন্ত্রীর তদবির না শোনায় তারা রুষ্ট হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘেরাও কর্মসূচি থেকে বাঁচতে তিনি ঢাকায় সিন্ডিকেট সভা করে থাকেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন কলিমউল্লাহ।

আরও পড়ুন-

ভিসি কলিমউল্লাহর বক্তব্য সবই মিথ্যা: ইউজিসি

কলিমউল্লার অভিযোগ বানোয়াট: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

স্পিকার-মন্ত্রীর তদবির না শোনায় তারা রুষ্ট হয়েছেন

যা করেছি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে করেছি: কলিমউল্লাহ

বেরোবির পরিস্থিতির জন্য দায়ী শিক্ষামন্ত্রী: কলিমউল্লাহ

১৩৫২ কর্মদিবসে ১১১৫ দিনই অনুপস্থিত ভিসি কলিমউল্লাহ

ভিসি কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে ইউজিসির কাছে ১০৮ অভিযোগ

উপাচার্য কলিমউল্লাহকে বেরোবি ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ভিসি কলিমউল্লাহর ‘দুর্নীতির ৭৫৮ পৃষ্ঠার শ্বেতপত্র’ প্রকাশ কাল

ঘেরাও কর্মসূচি থেকে বাঁচতে ঢাকায় সিন্ডিকেট সভা করি: কলিমউল্লাহ

সারাবাংলা/টিআর


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button