জাতীয়

জঙ্গিবাদ থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে থাকার আহ্বান আইজিপি’র

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘চেতনভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে। ছাত্রজীবনে জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকতে হবে। ইসলাম কখনও জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। জঙ্গিবাদ ইসলামের শত্রু। তাদের হাতেই সবচেয়ে বেশি মুসলমানরা নিগৃহীত হয়েছে, সবচেয়ে বেশি মুসলমানদের রক্ত ঝরেছে, সবচেয়ে বেশি খুন হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

পুলিশ প্রধান বলেন, ‘আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ তোমরাই। তোমরা ভাগ্যবান যে তোমরা স্বাধীন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছ। এখন আমাদের শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়তে গেলে পড়া শেষ করে দেশে চলে আসে। কারণ বাংলাদেশ এখন অমিত সম্ভাবনার দেশ।’

সোমবার (১৫ মার্চ) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে ‘শিক্ষাবৃত্তি প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন। সভাপতিত্ব করেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ডিআইজি ও বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

আইজিপি বলেন, ‘চার-পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য বিদায় নেবে। দারিদ্র্য যে কত ভয়ানক তা যারা না দেখছে তারা বিশ্বাস করবে না। অর্ধাহারে-অনাহারের কী জীবন তা না দেখলে বিশ্বাস হবে না। এক সময় এই বস্তিবাসী ডাস্টবিন থেকে খাবার টুকিয়ে খেতো। এগুলো এখন নেই। গত ১২ বছরে বাংলাদেশে যুগান্তকারী পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষায় বেশি বরাদ্দ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ানো হচ্ছে। বই ফ্রি পাচ্ছে। আমরা বই পেতাম তিন চার মাস পর। এখন এই পরিস্থিতি নেই।’

মানবিক গুণাবলী থাকতে হবে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকতে হবে। এজন্য তোমার ইসলামকে জানতে হবে। অনেক বই রয়েছে, সেগুলো পড়তে হবে। তবে ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দুই লাইন নিয়ে নয়। ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় ধর্মীয় গ্রন্থ পাওয়া যায় সেগুলো পড়তে হবে।’

বিজ্ঞাপন

যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়াতে শিশুদের একাকীত্ব বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে গেছে অর্থনৈতিক কারণে। যৌথ পরিবারের একটা সুবিধা ছিল, সেখানে মুরব্বিদের কাছ থেকে অনেক কাউন্সিলিং পেত শিশুরা। এটা এখন হয় না। আমি আমার সন্তানদের দিয়ে বুঝি সে কত একাকীত্ব বোধ করে। কিন্তু যদি যৌথ পরিবার থাকতো তাহলে তার দাদা-দাদি, নানা-নানি, কাজিন, চাচা-চাচি থাকতো। তাহলে তাদের সঙ্গ পেতো সে।’

ছাত্রজীবন থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘এ সময় জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকতে হবে। সচেতনভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে। মাদক থেকেও দূরে থাকতে হবে। অঙ্কুরেই শেষ করে দেয় মাদক। আমাদের ভেতরে আত্মমর্যাদা থাকতে হবে। দেশের প্রতি সম্মান থাকতে হবে। দেশের অতীত-ইতিহাসকে জানতে হবে। বাংলাদেশের জাতি হিসেবে অহংকার করার মতো অনেক কিছু আছে। কিছু কুলাঙ্গার দেশের বিরুদ্ধে কথা বলে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলে। একজন সভ্য, ভালো মানুষ কখনো অশ্লীল কথা বলতে পারে না। বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে তাদের কোনো ইজ্জত নেই। তারা পরগাছা, পরগাছাদের আমাদের দরকার নেই।’

বিজ্ঞাপন

নগরবাসীকে অনুরোধ করে আইজিপি বলেন, ‘ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। পাঁচ দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানেরা আসবেন তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেবে ডিএমপি।’ ১৭-২৬ তারিখ পর্যন্ত খুব বেশি প্রয়োজন না হলে পথে বের না হওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। এই ক‘দিন রাজনৈতিক দলগুলোকে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি না দেওয়ারও জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

‘বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস ফাউন্ডেশন শিক্ষাবৃত্তি-২০২০’ প্রদান অনুষ্ঠানে মোট ১২৪ শিক্ষার্থীকে ১৩ লাখ ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এদের মধ্যে পিএসসি’র জনপ্রতি ১২ হাজার, জেএসসি ১০ হাজার এসএসসি ১২ হাজার, ‘ও’ লেভেল ১০ হাজার এবং উচ্চ শিক্ষাবৃত্তি জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন ও অপারেশনস্) ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান ও ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) কৃষ্ণপদ রায়সহ অন্যরা।

সারাবাংলা/ইউজে/এমও


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button