রাজনীতি

‘জিয়ার খেতাব বাতিল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিল করলে, সেটা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (১৫ মার্চ) গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা বার বর বলছি, জামুকার (জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল) কোনো এখতিয়ার নেই এই বিষয়ে (জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিল) সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আর সরকার যদি এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে স্বাধীনতা যুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হবে। এই সরকার যে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশ্বাস করে না এর মধ্যে দিয়ে সেটাই প্রমাণ হবে।’

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থায়ী কমিটির সদস্য করোনায় আক্রান্ত সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রআপ্ত মেজর জেনারেল রুহুল আলম চৌধুরীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়াও চান বিএনপি মহাসচিব।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন বিএনপির জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এই সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা মুক্তিযুদ্ধে ও স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও তথ্য তুলে ধরছি। মুক্তিযুদ্ধের তথ্য ও উপাত্ত যেভাবে আমরা উপস্থাপন করছি তাতে আমরা দেখতে পারছি যে, যারা এখন সরকারে আছেন আওয়ামী লীগ তারা নানাভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। তারা প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে আবার ইতিহাসকে খণ্ডিত করছে, ইতিহাসকে বিকৃত করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে।’

‘মুক্তিযুদ্ধের যদি প্রকৃত ইতিহাস বলতে যাই সেখানে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেউ লিখতে পারবে না। আমরা বিভিন্ন সভায় বক্তব্যে বলেছি, বাংলাদেশে কোনো একজন সেনা অফিসার পাকিস্তানের ছাউনি থেকে প্রথম পাকিস্তান ও তার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রিভোল্ড করেছে তার নাম অস্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের জিয়াউর রহমান’— বলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমরা যে প্রকৃত সত্যগুলো তুলে ধরছি, সেটা আওয়ামী লীগের সহ্য হচ্ছে না, বর্তমান সরকারের সহ্য হচ্ছে না। সেই কারণে তারা বিকৃত ইতিহাস দিয়ে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে স্বাধীনতার ৫০ বছরে যত গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস যদি আমরা পর্যালোচনা করি সেখানে আওয়ামী লীগ আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যায়। সেখানে বিএনপির সকল ক্ষেত্রে সফলতা। যেমন স্বাধীনতার স্বপ্ন ছিল গণতন্ত্র, সেই গণতন্ত্রকে কারা হত্যা করেছে? আজকে যারা ক্ষমতায় তারা ৭৫ সালে বাকশাল করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।’

‘কে এই গণতন্ত্রকে পুণঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন? যিনি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন সেই জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন বাকশালকে মাটি দিয়ে। আবার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন সংগ্রাম করে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। এই যে ইতিহাস তাতে প্রত্যেক জায়গায় আওয়ামী লীগ পেছনে পড়ে যায়’— বলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মজিবর রহমান সারওয়ার, নজরুল ইসলাম মনজু, ফরিদা ইয়াসমীন, রিয়াজ উদ্দিন নসু, শায়রুল কবির খান, শাহজাহান সম্রাট, রিটা আলী, মনিরুজ্জামান মনির, এনামুল হক জুয়েল, মিজানুর রহমান, রফিক লিটন, আরিফুর রহমান মোল্লা প্রমুখ।

সারাবাংলা/এজেড/এনএস


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button