রাজধানী

দাবি আদায়ে রাস্তায় জনকণ্ঠের সাংবাদিকরা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: শতাধিক সাংবাদিক ও কর্মচারীকে চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে জনকণ্ঠ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির সাংবাদিক ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৫ মার্চ) বিকাল ৪টা থেকে সাংবাদিকরা জনকণ্ঠ ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। মালিকপক্ষ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করলে সন্ধ্যায় জনকণ্ঠ ভবনের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এতে বাংলামোটর থেকে মগবাজার যাওয়ার রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সমাবেশে ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে যাব না। আগামী পরশু (১৭ মার্চ) দেশে বিদেশি মেহমান আসবে। আর এই সুযোগে যখন সমাবেশ করা যাবে না তখন তিনি চাকরিচ্যুতি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন-জনকণ্ঠে গণছাঁটাইয়ের অভিযোগ

তিনি বলেন, ভেজাল মাসুদ যতদিন থাকবে গণমাধ্যমের সংকট শেষ হবে না। তিনি অন্যায় ও অন্যায্যভাবে সব করেন। জনকণ্ঠের সার্কুলেশন কত সবাই জনে। তিনি পেপার নিয়ে তা বিক্রি করে টাকা কামান। সরকারের সব বিজ্ঞাপন নেন। কিন্তু সাংবাদিকদের সঙ্গে অন্যায় করেন।

বিজ্ঞাপন

সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, পদোন্নতি ও ইনিক্রিমেন্ট ছাড়া আন্দোলন বন্ধ হবে না। আপনাকে ছাড়াই এই পত্রিকা আরও ভালো চলবে। আমরা আপনার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আপনি কথা বলেননি। আসুন আলোচনায় বসুন।

সমাবেশে ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি মুরসালিন নোমানীসহ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব), ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের নেতারা উপস্থিত আছেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের জনকণ্ঠ ইউনিট চিফ ও জনকণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার রাজন ভট্টাচার্য সারাবাংলাকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনকণ্ঠের সাংবাদিক ও কর্মচারীদের প্রমোশন নেই। ইনক্রিমেট দেওয়া হচ্ছে না। অষ্টম ওয়েজ বোর্ড পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য আমরা জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। কয়েকদিন আগে জনকণ্ঠ ভবনে এক বৈঠকে সবার সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা চিঠিতে জানিয়েছিলাম ১৫ মার্চের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু সাংবাদিক কর্মচারীদের মেইলে ছাটাইয়ের চিঠি দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিক কর্মচারীদের ভবনে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ভাড়াটে গুন্ডা মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ প্রহরা বসানো হয়েছে।

প্রায় শ’ খানেক সাংবাদিককে চাকরিচুত্য করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন জনকণ্ঠে কর্মরতরা। তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত সহকর্মী যাদের সঙ্গে কথা বলছি তাদেরই চাকরি নেই।

বিজ্ঞাপন

চাকরিচ্যুত জনকন্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার বিভাষ বাড়ৈ সারাবাংলাকে বলেন, আমার চাকরি কী কারণে গেছে আমি জানি না। অন্যদের চাকরিও কী কারণে গেছে আমরা জানি না। একটা কারণ হতে পারে, এখানে মালিক তিন চার জন লোকের দ্বারা প্রভাবিত হয়। যারা একজনও সাংবাদিক নন। যারা গ্লোবের কয়েকটি ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। যারা গত এক যুগ ধরে প্রতিষ্ঠানে লুটপাট ও দুর্নীতি করে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করেছে। আমরা সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তাদের এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম। এ কারণে তারা মালিককে ভুল বুঝিয়ে প্রতিষ্ঠানকে অস্থির করে থাকতে পারে। কারণ ছাঁটাইয়ের এ ঘটনা জনকণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক তোয়াব খান, প্রধান বার্তা সম্পাদক কামরুল ইসলাম এবং প্রধান প্রতিবেদক ওবায়দুল কবির ভাই- কেউ জানে না।

সারাবাংলা/ইএইচটি/এসএসএ


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button