আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে কৃষকদের বিজেপিবিরোধী প্রচারণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দিল্লির সীমানায় কৃষক বিক্ষোভ চলছে তার মধ্যেই নেতারা গেলেন পশ্চিমবঙ্গে। মানুষের কাছে তুলে ধরলেন তাদের আবেদন, বিজেপিকে ভোট দেবেন না। খবর ডয়েচে ভেলে।

বিজ্ঞাপন

সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, আসানসোল, কলকাতায় ঘুরে ঘুরে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার জন্য আবেদন জানালেন কৃষক আন্দোলনের নেতারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন কৃষকনেতা রাকেশ টিকায়েত, যোগেন্দ্র যাদব, মেধা পাটকর, বলবীর সিং রাজেন্দ্রওয়ালরা। তারা কয়েকটি জনসভা, বৈঠক, মহাপঞ্চায়েত করেছেন; সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। সবখানে তারা একটাই আবেদন জানিয়েছেন, বিজেপিকে ভোট দেবেন না। কারণ, বিজেপি কৃষকদের স্বার্থের বিপরীতে দাঁড়িয়েছে। তারা তিনটি কৃষি আইন বাতিল করছে না আবার ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্যকেও আইনি করছে না।

বিজেপির বিরুদ্ধে বললেও পশ্চিমবঙ্গে নির্দিষ্ট করে কোনো দলকে ভোট দেয়ার কথা বলেননি কৃষকনেতারা। রাজ্যে বিজেপির বিরোধী দল মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামদলগুলোর নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত মোর্চা। কংগ্রেস ও আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট এই জোটের শরিক। সিপিএমের কৃষক সংগঠন দিল্লি আন্দোলনের সঙ্গে আছে। কৃষক ফ্রন্টের নেতা হান্নান মোল্লা কৃষক আন্দোলনের সাত সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটিতেও আছেন। কিন্তু শনি ও রোববার (১৩ ও ১৪ মার্চ) নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর, কলকাতায় তাকে বা সিপিএমের নেতা-কর্মীদের দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

তার কারণ, এই সফরের আয়োজন করেছিল কলকাতার কয়েকটি গুরুদুয়ারা সদস্য। তাদের মধ্যে তৃণমূলের প্রভাব রয়েছে। হান্নান মোল্লা জানিয়েছেন, ৫০০ কৃষক সংগঠন আন্দোলনের সঙ্গে আছে। সেখানে একটাই সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সব রাজ্যে কৃষক নেতারা যাবেন। তারা বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বলবেন। এর মধ্যে নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেছে। তাই যে রাজ্যগুলিতে ভোট আসন্ন সেখানে গিয়ে তারা বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার কথা বলবেন। তারা কোনো দলকে ভোট দেওয়ার কথা বলবেন না। পশ্চিমবঙ্গে এসে তারা পরিকল্পনা মাফিকই কাজ করেছেন।

এদিকে, এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। সব দলই প্রচারে নেমে গেছে। প্রধান দুই প্রতিপক্ষ তৃণমূল এবং বিজেপি। তবে যত দিন যাচ্ছে, শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে বাম এবং কংগ্রেস।

বিজ্ঞাপন

এই কৃষকনেতারা যে পশ্চিমবঙ্গে গেলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার কথা বললেন, তাতে কার লাভ হবে? পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে কি আদৌ তারা কোনো প্রভাব ফেলতে পারবেন? প্রবীণ সংবাদিক শুভাশিস মৈত্র মনে করেন, দিল্লির কৃষকনেতাদের কথার কোনো প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে পড়বে না। তবে তারা একটা দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলন করছেন। তার অংশ হিসেবে এটাকে দেখা যেতে পারে।

ডয়চে ভেলেকে শুভাশিস বলেছেন, কৃষকনেতারা বলছেন, বিজেপিকে হারাতে। ধরা যাক, যারা মমতাকে ভোট দেবেন, তারা এমনিতেই দেবেন। রাজেশ টিকায়েত বা যোগেন্দ্র যাদবের কথায় দেবেন না। আর কৃষক নেতারা শহরের দিকেই সভা করেছেন। নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুর বাদ দিলে। শহুরে শিক্ষিত মানুষের তাদের সম্পর্কে উৎসাহ আছে। তারা কীভাবে আন্দোলন করছেন, তাও মানুষ জানতে চান। ওই পর্যন্ত। ভোটে তাদের প্রভাব কিছু পড়বে বলে মনে হয় না।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/একেএম


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button