শিক্ষা

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা করতে ঢাবিতে নতুন ইনস্টিটিউট

রাহাতুল ইসলাম রাফি, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা হয়েছে অসংখ্য বই, হয়েছে অসংখ্য গবেষণা। এবারে দেশে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গবেষণার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। এর জন্য আলাদা একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর অধীনে ১৮তম সংবিধি সংযোজনের মধ্য দিয়ে ঢাবিতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে স্বতন্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি’।

বঙ্গবন্ধুর জীবন, দর্শন ও তার অনন্য অবদান এবং নেতৃত্বের ওপর উচ্চতর গবেষণা ও চর্চা, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রাম এবং বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা, সাহিত্য, দর্শন, প্রত্নতত্ত্ব, অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজবিজ্ঞান, ভূগোল, সংগীত, শিল্পকলা, আইন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নের জন্য একাডেমিক মিউজিয়াম, সংগ্রহশালা, পরীক্ষাগার, কর্মশিবির স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

বিজ্ঞাপন

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষক ইউজিসি অধ্যাপক ড. ফকরুল আলম। ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান তিন বছরের জন্য তাকে এই পদে নিয়োগ দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. ফকরুল আলম সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন পরিকল্পনা আছে। আমরা এখনো সব শুরু করতে পারিনি। এরই মধ্যে আমরা বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন দিক ও তার আদর্শ নিয়ে বক্তৃতামালা শুরু করেছি। দু’টি প্রোগ্রাম হয়েছে। আরও একটি এই মাসের শেষে হবে।’

বিজ্ঞাপন

বার্ষিক কর্মশালা আয়োজনসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউটগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা আছে প্রতিষ্ঠানটির। এই প্রসঙ্গে অধ্যাপক ফকরুল আলম বলেন, ‘প্রতিবছর একটি বার্ষিক কর্মশালা করার পরিকল্পনা আছে আমাদের। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, যেমন— ভারতের জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নেলসন ম্যান্ডেলা ইনস্টিটিউট কিংবা নেহেরু ইন্সটিটিউটসহ এ ধরনের ইনস্টিটিউটগুলোর সঙ্গে প্রোগ্রাম করার ইচ্ছা আছে। পিস অ্যান্ড লিবার্টি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর যে বিশ্বাস, চিন্তাধারা ও অভিজ্ঞতা, তার সঙ্গে অন্য যারা এই ধরনের বিশ্বাস-অভিজ্ঞতা লালন করেছেন এবং যাদের নামে এই ধরনের প্রতিষ্ঠান আছে, সেগুলোর সঙ্গে তুলনামূলক স্টাডি করার পরিকল্পনা আমাদের আছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস (কারাস) ভবনে দু’টি কক্ষ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে শিগগিরই স্থান পরিবর্তন করা হবে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একটি ভবনে স্থানান্তরিত হওয়ার পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ফকরুল আলম। তিনি বলেন, ‘কোভিড পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত কারাসেই দু’টি কক্ষ নিয়ে আছি। তবে শিগগিরই স্থান পরিবর্তন করা হবে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কয়েকটি সাইট পরিকল্পনায় আছে।’

বিজ্ঞাপন

এর আগে, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি’ প্রতিষ্ঠার প্রথম প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সিনেট সদস্য সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল। ২০১৯ সালের ২৬ ও ২৭ জুন অনুষ্ঠিত সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে ইনস্টিটিউট করার প্রস্তাবের পাশাপাশি এটি নিয়ে তার নিজস্ব পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর অধীনে ১৮তম সংবিধি সংযোজনের মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি’ নামে একটি গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর একাডেমিক পরিষদের সভায় গবেষণা ইনস্টিটিউট অনুসমর্থিত হয়। ১৮তম সংবিধি সংযোজনের সংবিধি তৈরি করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপউপাচার্য (শিক্ষা) ড. নাসরীন আহমাদ, বর্তমান উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম শামসুজ্জামান খান।

বিজ্ঞাপন

পরে ২০২০ সালের ১৪ জুন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের বার্ষিক অধিবেশন-২০২০-এ সিন্ডিকেটের প্রস্তাব পেশ করা হলে সর্বসম্মতভাবে তা পাস হয়। সিন্ডিকেট প্রস্তাবিত ১৮তম সংবিধি সংযোজন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর অধীনে। পরে ২০২০ সালের ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন করে।

গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সারাবাংলাকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একে অন্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। এই ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমরা আরও বিশদ জানতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।’

সারাবাংলা/এসএসএ


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button