জাতীয়

আধুনিক হচ্ছে বাঘাবাড়ী বন্দর, ৫৭৩ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আধুনিক হচ্ছে সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী নদীবন্দর। এজন্য ‘বাঘাবাড়ী নদীবন্দর আধুনিকায়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আগামী ২৪ মার্চ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মামুন-আল-রশিদ।

বিজ্ঞাপন

ওই বৈঠকের কার্যপত্রটি সারাবাংলার এই করেসপন্ডেন্টের হাতে চলে এসেছে। বৈঠকে প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তুত করা হবে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে চলতি বছর হতে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিআইডব্লিউটিএ।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে- দুই একর জমি অধিগ্রহণ, এক দশমিক ১৫ লাখ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, ৫৩ দশমিক ৫০ লাখ ঘনমিটার ক্যাপিটাল ড্রেজিং, ২৬ দশমিক ৮০ লাখ ঘন মিটার ড্রেজিং, ৫ হাজার ৫৬১ বর্গমিটার আরসিসি জেটি এন্ড এক্সেস ব্রিজ, ৬২৬ মিটার তীররক্ষা কাজ এবং ৪৫ হাজার ৭০০ বর্গমিটার আরসিসি পেভমেন্ট ইন্টার্নাল পোর্ট রোড তৈরি।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ৯ হাজার ৩০০ বর্গমিটার এক্সেস রোড, ১ হাজার ৮০০ বর্গমিটার স্টাফ কোয়াটার, ৬০০ বর্গমিটার স্টাফ ডরমেটরি, ৪ হাজার ১৩৮ বর্গমিটার উন্মুক্ত ওয়্যারহাউজ, এক হাজার ৬২০ বর্গমিটার বন্দরভবন, ৬০০ বর্গমিটার, এক হাজার বর্গমিটার ড্রেইনেজ, পানি ও সুয়ারেজ সিস্টেমস, ২ হাজার ৮৩৩ বর্গমিটার সীমানা প্রাচীর বারবেড ওয়্যারসহ এবং একটি জিপ, একটি পিক আপ, একটি কেবিন ক্রুজার, দুইটি পোর্টাল, মোবাইল হারবার ক্রেন ও দুইটি লং বুম এক্সাভেটর কেনা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাঘাবাড়ী নদী বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। বন্দরটি চালুর পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোলিয়াম দ্রব্য, সার, খাদ্য সামগ্রী ও অন্যান্য বাল্ক সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে ব্যবসা বাণিজ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতে বাঘাবাড়ি নদীবন্দর আধুনিক ও সেবার পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে আইডব্লিউএম কর্তৃক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়েছিল। এর জন্য ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বরে প্রথম ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই দ্বিতীয় এবং ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাঘাবাড়ী নদী বন্দরের আধুনিকায়নের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হতে প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্দেশনা ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্ম প্রধান আতাউর রহমান খানের সই করা পিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, বিআইডব্লিউটিএ বাস্তবায়িত সমজাতীয় চলমান প্রকল্পে (বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালুনদীর তীর ভুমিতে পিলার স্থাপন, তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রথম সংশোধিত) একটি লং বুম এক্সোভেটারের মূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ হলেও এই প্রকল্পে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, স্টিল স্পাডের মূল্যে ৯ লাখ টাকা হলেও এই প্রকল্পে ১৫ লাখ টাকা, ওজন স্কেল ৬০ লাখ টাকা হলেও এই প্রকল্পে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, টোটাল স্টেশন, লেভেলিং মেশিন, জিপিএসের মূল্য ৮ লাখ টাকা হলেও এক্ষেত্রে ১১ লাখ ১০ হাজার টাকা, ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণে ৭০ লাখ টাকা হলেও এই প্রকল্পে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নির্ধারণের সুস্পষ্ট কারণ থাকা দরকার।

বিজ্ঞাপন

পিইসি সভার কার্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, পরামর্শক খাতের মধ্যে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ অংশে ৪৫ লাখ টাকা, বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি ভাড়া অংশে ৪৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা, দৈনিক ভাতা বাবদ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব অঙ্গ পরামর্শক খাতে না রেখে আলাদা অঙ্গ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এছাড়া পরামর্শকের সংখ্যা, জনমাস ও বেতন-ভাতাদি পর্যালোচনা করে বাস্তবতার নিরিখে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সারাবাংলা/জেজে/পিটিএম


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button