খেলা

আটালান্টার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে কোয়ার্টারে রিয়াল

স্পোর্টস ডেস্ক

টানা দুই মৌসুম উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোল থেকে বিদায়ের পর অবশেষে কোয়ার্টারের টিকিট নিশ্চিত করল রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাফল্য পাওয়া দলটি যেন হারিয়ে ছিল চিরচেনা পথটা। শেষ ষোলর প্রথম লেগে আটালান্টার মাঠ থেকে ১-০ গোলের জয়ও রিয়ালের বর্তমান ওঠা নামা করা ফর্মের কারণে স্বস্তি দিচ্ছিল না। তবে মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আটালান্টাকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টারের টিকিট কেটে জানান দিয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগে আবারও ফিরেছে রিয়াল।

বিজ্ঞাপন

আলফ্রেডো ডি স্টেফানো স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে করিম বেনজেম, সার্জিও রামোস আর মার্কো অ্যাসেন্সিওর গোলে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছে রিয়াল আর দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছে জিনেদিন জিদানের দল।

প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, খেলতে হবে আক্রমণাত্মক-এমন ফুটবল দর্শনেই পরিচিত হয়ে উঠেছে আটালান্টা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে প্রতিযোগিতার রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে সেই কৌশলে সুবিধা করতে পারল না গত আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে চমকে দেওয়া দলটি।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়েই শুরু করে আটালান্টা, বিপরীতে রিয়াল কিছুটা ধীরে শুরু করে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণের ধারও বাড়াতে থাকে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। ম্যাচের ২৭তম মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় স্বাগতিকরা কিন্তু ডি বক্সে বেনজেমার কাটব্যাক ভিনিসিয়াস জুনিয়র ফাঁকায় পেয়েও প্রথম প্রচেষ্টায় শট নিতে ব্যর্থ হওয়ায় হতাশ হতে হয়।

আটালান্টার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে কোয়ার্টারে রিয়াল

বিজ্ঞাপন

তবে আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় গ্যালাক্টিকোদের। ম্যাচের ৩৪তম মিনিটে সতীর্থের ব্যাকপাস পেয়ে মার্কো স্পোর্তিয়েল্লো সরাসরি তুলে দেন সামনে লুকা মদ্রিচের পায়ে। ক্রোয়াট এই মিডফিল্ডার দ্রুত ডি বক্সে ঢুকে বাঁয়ে ফাঁকায় বেনজেমাকে খুঁজে নেন। আর ডান পায়ের নিচু শটে বল জালে পাঠান তিনি। সেই সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে ৫ম খেলোয়াড় হিসেবে ৭০ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন এই ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার। বেনজেমার আগে এই রেকর্ড স্পর্শ করেন রাউল গঞ্জালেজ এরপর একে একে লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং রবার্ট লেভান্ডোস্কি এই রেকর্ড ছুঁয়ে দেখেন।

প্রথমার্ধে ওই এক গোলেই এগিয়ে থেকে শেষ করে রিয়াল। বিরতির পর ফিরেই সাত মিনিটের মাথায় দারুণ এক গোল করতে পারতেন ভিনিসিয়াস। নিজেদের ডি বক্সের বাইরে থেকে বল ধরে ছোটার পথে সতীর্থকে পাস দিয়ে এগুতে থাকেন। ফিরতি পাস ধরে দ্রুত ডি বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড; কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে হতাশ করেন তিনি। নিশ্চিত গোলের সুযোগ এভাবে নষ্ট হওয়ায় মাঝমাঠে হতাশায় নুইয়ে পড়েন রামোস।

বিজ্ঞাপন

তবে লিড বাড়াতে আর খুব বেশি সময় নেয়নি রিয়াল। ভিনিসিয়াসের এমন হতাশা করার মিনিট ছয়েক পরে দ্রুত গতির আক্রমণের পর পেনাল্টি পায় রিয়াল। ডি বক্সে ভিনিসিয়াসকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় রিয়াল। আর স্পট কিক থেকে গোল করে দলের লিড ২-০ করেন অধিনায়ক সার্জিও রামোস।

ম্যাচের ৬৮ মিনিটে রিয়ালের ব্যবধান ৩-০ করতে বেনজেমার দুর্দান্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় আটালান্টার গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে, ফিরতি বলে শট নিলে গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসলে হতাশ হন বেনজেমা। ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া আটালান্টা এর আগে ও পরে দারুণ দুটি সুযোগ পায়। কিন্তু থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করতে পারেনি তারা। দুবারই দুভান জাপাতার শট পা দিয়ে ঠেকান বেলজিয়ান গোলরক্ষক।

বিজ্ঞাপন

তবে ম্যাচের ৮৪ মিনিটের মাথায় জাল খুঁজে পায় আটালান্টা। দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে রিয়ালের রক্ষণ প্রাচীরের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড মুরিয়েল। অবশ্য এই খুশি খুব বেশি চওড়া হতে দেয়নি আটালান্টার মুখে। গোল হজমের মিনিট দুই পরে লুকাস ভাস্কেজের অ্যাসিস্ট থেকে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন মার্কো অ্যাসেন্সিও। তাতেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে রিয়াল মাদ্রিদ।

সারাবাংলা/এসএস


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button