সারাদেশ

চেয়ারম্যান প্রার্থীর কাজ, ফসলি জমির মাটি কেটে বানাচ্ছেন পুকুর

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

রাজবাড়ী: ফসলি জমির মাটি কেটে পুকুর খনন বা মাটি বিক্রি করা নিষিদ্ধ হলেও সরকারি সেই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের ডিক্রিচর চাঁদপুর গ্রামে তিন ফসলি জমি থেকে মাটি কাটছেন মো. আতিক আল আলম নামে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি। কেটে নেওয়া এসব মাটি যাচ্ছে স্থানীয় ইটভাটায়।

বিজ্ঞাপন

আতিক আল আলম আসন্ন খানখানাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। গত নির্বাচনেও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, ডিক্রিচর চাঁদপুর মৌজার বি.এস ৮৩৮ নম্বর দাগের ৫০ শতাংশ তিন ফসলি জমি থেকে আতিক আল আলম প্রকাশ্যে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে নিলেও কার্যকর কোন ভূমিকা পালন করছেন না স্থানীয় প্রশাসন।

আশেপাশের জমির মালিকরা মাটি কাটতে বার বার নিষেধ করলেও তা তোয়াক্কা করছেন না আতিক।
পার্শ্ববর্তী জমির মালিক কৃষক মো. আলমগীর শেখ বলেন, আমার তিন ফসলি জমির পাশের বি.এস ৮৩৮ নম্বর দাগের ৫০ শতাংশ ফসলি জমির মালিক আমাদের এলাকার মো. আব্দুল করিম শেখ। এই জমিটি আব্দুল করিম শেখ আমার কাছে বিক্রি করেন। আমি তাকে দুই লাখ টাকা বায়না দেই। জমি রেজিস্ট্রি করার পর বাকি টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু আব্দুল করিম শেখ আমাকে জমি রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে সম্প্রতি চেয়ারম্যান প্রার্থী আতিক আল আলমের কাছে তা বিক্রি করেন। আতিক আল আলম জানতেন যে, আমি আব্দুল করিম শেখের কাছ থেকে জমিটি কিনেছি। জেনে শুনে তিনি ফসলি জমি কিনে এখন ওই জমিতে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খনন করছেন এবং মাটি ইটভাটায় বিক্রি করছেন। এতে আমার ফসলি জমির পার ভেঙে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, শুধু আমি একাই নই, আমার মতো এমন অনেক কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া ইটভাটার মাটিবাহী ট্রাক চলাচলের ফলেও আমাদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। আমি বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমরা দরিদ্র কৃষকরা চাই এই অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ হোক। আমাদের ফসলি জমি সুরক্ষিত থাকুক।

ভেকু দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খনন করার কথা স্বীকার করে মো. আতিক আল আলম বলেন, আমি আব্দুল করিম শেখের কাছ থেকে ৫০ শতাংশ জমি কিনে পুকুর খনন করছি। নিজের জমিতে পুকুর কাটা কোনো অপরাধ নয়।

বিজ্ঞাপন

রাজবাড়ী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান বলনে, শুনেছি ভুক্তভোগী কৃষকরা বিষটি নিয়ে ডিসি স্যার এবং ইউএনও স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্যারদের কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই আমি প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেব।

সারাবাংলা/এনএস


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button