আইন-বিচার

বুড়িগঙ্গা নদীর ৭৪ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেল (হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীর চর) এলাকায় ৭৪টি অবৈধ স্থাপনা আগামী তিন মাসের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করে আগামী ২৬ জুন হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

একইসঙ্গে নদীর সিএস/আরএস জরিপ অনুসারে ঢাকার জেলা প্রশাসক, বিআইডব্লিউটিএর’র চেয়ারম্যানকে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। তাদের সহযোগিতা করতে পুলিশের আইজি, ডিএমপি‘র কমিশনার এবং র‌্যাবের মহাপরিচালককেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন মনজিল মোরসেদ। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দু রায়। পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে ছিলেন আমাতুল করিম।

এর আগে, ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেল (হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীর চর) এলাকায় নদীর জায়গা দখলকারিদের চিহ্নিত করার জন্য জরিপের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নদীর আদি চ্যানেলের সিএস/আরএস পর্চা অনুসারে জরিপ করে অবৈধ দখলকারিদের তালিকাসহ রিপোর্ট দাখিলের জন্য জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

নির্দেশনা অনুসারে জরিপের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয় এবং কয়েকমাস জরিপ কার্যক্রম শেষে নদীর জায়গা দখলকারীদের তালিকা এফিডেফিট আকারে হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে- টিনশেড বাড়ি, চারতলা ভবন, একতলা ভবন, মাটি ভরাট, মসজিদের আংশিক স্থাপনাসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়ি, সরকারি হাসপাতাল, ইন্ডাস্ট্রি, সুপার মার্কেটও।

উল্লেখ্য, নদীর অবৈধ দখল বন্ধ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য এইচআরপিবি ২০১৯ সালে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ও বিচারপতি মো. মমতাজ উদ্দিন আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ নদীর সীমানা জরিপ ও দখলকারিদের উচ্ছেদসহ ৯ দফা নির্দেশনা দেন। ওই রায় অনুসারে জরিপের সময় হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীর চর এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর অংশ ‘আদি চ্যানেল’ জরিপের বাইরে রাখা হয়।

বিজ্ঞাপন

সেই জরিপ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রায় ৭৪টি প্রতিষ্ঠান বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেলের জায়গা দখল করে রেখেছে এবং রায় অনুসারে তা উচ্ছেদ/অপসারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই সেসব স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য এইচআরপিবি নতুন করে রিট দায়ের করে।

সারাবাংলা/কেআইএফ/এমও


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button