অর্থ-বাণিজ্য

গৃহায়নের ৫ প্রকল্পে গতি বাড়ানোর তাগিদ

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপনডেন্ট

ঢাকা: খতিয়ে দেখা হয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্তের পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্প। গত বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে এসব প্রকল্পের বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়। প্রকল্পগুলোর গতি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়াও হয়েছে পর্যালোচনা সভায়।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পগুলো হলো ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া ও বিভিন্ন হলের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন ও পরিবর্ধন কাজ’ এবং ‘ঢাকাস্থ সোবহানবাগ মসজিদের আধুনিকায়ন এবং উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্প। এ ছাড়া ‘ঢাকা শহরে গুলশান,ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে ২০টি পরিত্যক্ত বাড়িতে ৩৯৮টি সরকারি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ প্রকল্প, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন, সংসদ সদস্য ভবন ও এমপি হোস্টেলসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনার নির্মাণ ও আধুনিকায়ন এবং ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গণভবনের প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যান্ত্রিক সিস্টেমের আধুনিকায়ন’ প্রকল্প।

রাজধানীতে বাস্তবায়ানাধীন এসব প্রকল্প দ্রুত ও সময়মতো শেষ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে বৈঠকে। পর্যালোচনা সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীর সভাপতিত্বে প্রতি ৩ মাস অন্তর অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক। প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রকল্পের সহজ বাস্তবায়নের জন্য এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট যে কোনো সমস্যা উপযোগী সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ, কার্যক্রম বিভাগ, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, এনইসি-একনেক সমন্বয় অনুবিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাস্তবায়ন-পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। এ ছাড়া অর্থমন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা সেলের প্রতিনিধি, গণপূর্ত ও স্থাপত্য অধিদফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন।

বিজ্ঞাপন

উন্নয়ন প্রকল্পের পর্যালোচনা বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসল আলম সারাবাংলাকে বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পে গতি বাড়াতে মনিটরিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরকম পর্যালোচনা বৈঠক নিয়মিত হওয়া উচিত। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নকালীন কোন সমস্যা থাকলে সেগুলোর সমাধান সহজ হয়ে যায়।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া ও বিভিন্ন হলের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন ও পরিবর্ধন কাজ প্রকল্প: ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া ও বিভিন্ন হলের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন ও পরিবর্ধন কাজ’ শীর্ষক প্রকল্পটির আওতায় শাপলা হলের অভ্যন্তরীণ সংস্কার কাজ সমাপ্ত হয়েছে। প্রকল্পের কিছু অংশের চলমান রয়েছে এবং কিছু সংখ্যক অংশের কাজ সিদ্ধান্তের জন্য বিলম্ব হচ্ছে। প্রত্যাশী সংস্থা তথা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকল্পের কিছু অংশের কাজের পরিবর্তন করে অন্য কাজ করার নির্দেশনা দেয়। ফলে কাজের স্কোপ অব ওয়ার্ক পরিবর্তনসহ প্রকিউরমেন্ট প্ল্যান ও প্যাকেজের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং আন্তঃখাত সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে।

বিজ্ঞাপন

এ প্রকল্পটির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হিসেবে বলা হয়, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। প্রত্যাশী সংস্থার চাহিদার আলোকে স্কোপ অব ওয়ার্ক পরিবর্তনসহ প্রত্রিকউরমেন্ট প্ল্যানে প্যাকেজের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

ঢাকাস্থ সোবহানবাগ মসজিদের আধুনিকায়ন এবং ঊর্ধ্বমুখি সম্প্রসারণ প্রকল্প: ‘ঢাকাস্থ সোবহানবাগ মসজিদের আধুনিকায়ন এবং ঊর্ধ্বমুখি সম্প্রসারণ’ প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনার সময় প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলেন, ‘অস্থায়ী মসজিদের পাইলিংয়ের কাজ চলছে। অস্থায়ী মসজিদের কাজ ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হবে। এ ছাড়া বর্তমানের বিদ্যমান পুরনো সোবহানবাগ মসজিদ ভাংতে ২ মাস সময় লাগবে যা মসজিদ কমিটির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এরপর মূল মসজিদেও কাজ শুরু হবে। এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হচ্ছে- অস্থায়ী মসজিদের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। বর্তমান বিদ্যমান পুরনো মসজিদ ২ মাসের মধ্যে ভেঙে মূল মসজিদেও কাজ শুরু করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

গুলশান, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে ৩৯৮টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প: ‘ঢাকা শহরে গুলশান, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে ২০টি পরিত্যক্ত বাড়িতে ৩৯৮টি সরকারি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনার সময় প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০টি বাড়ির মধ্যে ১৫টি বাড়ির কাজ চলমান রয়েছে। ৪টি বাড়ি এখনও খালি করা সম্ভব হয়নি এবং একটি বাড়ি স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্থাপত্য ও স্ট্রাকচারাল নকশা পাওয়া গেছে, প্রাক্কলন অনুমোদন পাওয়া গেছে। আরও জানানো হয়, অর্থ বরাদ্দের অপ্রতুলতা বিদ্যমান। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে আরএডিপিতে ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকার পরও প্রকল্পটি নিম্ন ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এই অর্থ বছরে মাত্র ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

নতুন অর্থ বছরে ২০২০-২১ অর্থ বছরে এডিপিতে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। এর মধ্যে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কাজের গতি স্বাভাবিক রাখার জন্য অবশিষ্ট ২০ কোটি টাকা দ্রুত বরাদ্দের প্রয়োজন।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘৪টি বাড়ির কাজ শুরু করা যায় নাই, প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হবে।’

এ পরিপ্রেক্ষিতে সভায় বলা হয়, এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। তাই সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নসহ প্রকল্পের কাজের গতি বৃদ্ধি করতে হবে। প্রকল্পটির ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তা হলো যে বাড়িগুলো এখনো খালি করা সম্ভব হয়নি, সেগুলো দ্রুত খালি করার ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রকল্পের কাজের গতি বৃদ্ধি করতে হবে।

এমপি হোস্টেলসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনার নির্মাণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্প: ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন,সংসদ সদস্য ভবন ও এমপি হোস্টেলসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনার নির্মাণ ও আধুনিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনার সময় প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটিতে মোট ৩৪টি প্যাকেজের মধ্যে পণ্য ১২টি এবং কাজ ২২টি। এর মধ্যে ২২টি প্যাকেজের কাজ চলমান রয়েছে। ২টি প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন। অবশিষ্ট ১০টি প্যাকেজের প্রাক্কলন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পটির পরিচালক বলেন, ‘ন্যাম ভবনের ২ থেকে ৬ নং পর্যন্ত মোট ৫টি ভবনের সংস্কার কাজ একসঙ্গে শুরু করা যাচ্ছে না। কারণ একটি ভবন সম্পূর্ণ খালি করে বসবাসকারীদের অন্য ভবনে স্থানান্তর করে ভবনের কাজ শুরু করতে হয় এবং সম্পন্ন করতে ৬ মাস সময় লেগে যায়। এর ফলে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করতে প্রায় ২ বছর ৬ মাস সময়ের প্রয়োজন হবে। এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হচ্ছে প্রকল্পের কাজের গতি বৃদ্ধি করতে হবে। প্রকল্পের মেয়াদ উর্ত্তীর্ণ হওয়ার ৩ মাস আগে মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গণভবনের প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যান্ত্রিক সিস্টেমের আধুনিকায়ন প্রকল্প: ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গণভবনের প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যান্ত্রিক সিস্টেমের আধুনিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটির ক্ষত্রে বলা হয়েছে, অগ্রাধিকার বিবেচনায় সাবস্টেশন ইক্যুইপমেন্ট সহ মোট ১১টি অংশের সর্বমোট ১ কোটি ৪০২ লাখ ৩৩ হাজার টাকার ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবস্টেশন ইক্যুইপমেন্ট স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। গণভবনের সাবস্টেশন ইক্যুপমেন্ট গুলো ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সাইটে আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন ব্লকে এলইডি লাইট প্রতিস্থাপন, স্ট্রিট লাইট ও সিকিউরিটি লাইট প্রতিস্থাপন, কেমিক্যাল আর্থিং, লাইটিং এরেষ্টারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় শীততাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার যন্ত্রপাতি গুলো সাইটে রক্ষিত আছে। প্রকল্পটিতে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ফায়ার হাইড্রেন্টের জন্য আন্ডার গ্রাউন্ড ওয়াটার রির্জাভারের অংশ ডিপিপিতে না থাকার কারণে দ্রুত ডিপিপি রিভাইজড করতে হবে।

সারাবাংলা/জেজে/একে


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button