জাতীয়

শাল্লায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২০ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, সুনামগঞ্জের শাল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলা ও লুটপাট হয়েছে। দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অসাম্প্রদায়িক শক্তির মধ্যেও বিভিন্ন অপশক্তি ও বিপথগামী শক্তি রয়েছে, যারা জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ড চায়।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এই অপশক্তিগুলোর বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ জানাতে হবে। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে তৎপরতা চালাচ্ছে, হামলা করছে। নাসিরনগর, রামু, সাঁথিয়া, মুরাদনগরেও হামলা হয়েছে। কাজেই আমরা প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

তিনি আরও বলেন, শাল্লার ঘটনায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, পাশাপাশি এই ঘটনার আড়ালে যারা জড়িত বা যারা উসকানিদাতা তাদেরও গ্রেফতার করতে হবে। দ্রুত বিচার আদালতে সংক্ষিপ্ত সময়ে এদের বিচার ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

বিজ্ঞাপন

নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, প্রশাসন গ্রেফতার করলেও শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া দেখা যায় না। এ জন্য সরকারকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে, সংখ্যালঘু কমিশন গঠন এবং অর্পিত সম্পত্তি আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।

সংগঠনের সাবেক সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেন, শাল্লা উপজেলার দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়েও তদন্ত হওয়া উচিত। তারা কি সরকারি নামে বিরোধী দলের কোন এজেন্ট কিনা, সেটা দেখতে হবে। তাদের নজরদারি থাকলে এভাবে শাল্লায় হামলা হতে পারত না।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ফেসবুকে ধর্ম অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ এনে এর আগে কক্সবাজারের রামু, পাবনার সাঁথিয়া, রংপুরের গঙ্গাচড়া, কুমিল্লার হোমনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, ভোলার বোরহানউদ্দিন, মুরাদনগরের কোরবানপুরে হামলা হয়েছে, যার বিচার হয়নি।

মানববন্ধনে সংগঠনের আরেক সাবেক সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, সুনামগঞ্জের যে হামলা, এটা হিন্দুদের ওপর হামলা নয়, এটা স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর হামলা। এর মানে রাষ্ট্রযন্ত্রকে দুর্বল করে সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র। এটা বুঝতে সমস্যা হলে বুঝতে হবে, বাঙালি জাতির অস্তিত্ব হুমকিতে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই ষড়যন্ত্রের পেছনে পরাজিত পাকিস্তানি শক্তি ও তাদের অনুসারীরা রয়েছ বলে উল্লেখ করে রোজারিও বলেন, ওই চক্রের মূল লক্ষ্য হিন্দু-বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান নয়। তাদের লক্ষ্য মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে পরাজিত করা।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন কাজল দেবনাথ, বাসুদেব ধর, জয়ন্তী রায়, জয়ন্ত সেন দীপু, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, জয়ন্ত দেব, তাপস কুমার পাল, নির্মল চ্যাটার্জী, শ্যামল রায়, কিশোর রঞ্জন মণ্ডল, পদ্মাবতী দেবী, রবিন বসু, দিপালী চক্রবর্তী, মতিলাল রায়, শিশির রায়, তাপস বল প্রমুখ।

সারাবাংলা/কেআইএফ/এনএস


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button