জাতীয়

শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু: পথ দেখানো কৃষকে গর্বিত প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মুজিববর্ষ ও বিজয়ের মাসে ফসলের মাঠে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ফুঁটিয়ে তোলার পথ দেখানো ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কৃষক আবদুল কাদিরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যে কৃষক প্রথম শস্যক্ষেত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছবি ও স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ থেকে শুরু করে যে কাজটি করে পথ দেখিয়েছেন, আমরা সত্যিই তার জন্য গর্বিত।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মুজিববর্ষ ও বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে ফসলের মাঠে অভাবনীয় শিল্পকর্ম আঁকেন কৃষক আবদুল কাদির। নিজ জমির ক্যানভাসে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি, স্মৃতিসৌধ, জাতীয় ফুল শাপলা ও নৌকা চিত্র ফুটিয়ে তোলেন। লালশাক ও সরিষা ক্ষেতকে ছবি আঁকার মাধ্যম হিসেবে তিনি ব্যবহার করেছেন। উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের পাড়া খালবলা গ্রামের কৃষক কাদির ৩৩ শতক জমিতে তুলে ধরেছেন বাংলা ও বাঙালির প্রতিচ্ছবি। পরে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক সাড়া পড়ে।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সময়ে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বালেন্দা গ্রামে শস্যচিত্রে আাঁকা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পায়। এ প্রকল্পের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ছিল ন্যাশনাল অ্যাগ্রোকেয়ার ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট লিমিটেডের পরিচালক ইয়ালিদ বিন রহমান। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বালেন্দা গ্রামে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে চীন থেকে আনা ডিপ ভায়োলেট রঙের হাইব্রিড ও দেশের ডিপ গ্রিন ধানের চারা রোপণ করা হয়। এখন সেই চারাগুলো বড় হয়ে তাতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রূপ নেয়। এ শস্যচিত্রের জন্য স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে সাত মাসের জন্য ১০০ বিঘা জমি ইজারা নেওয়া হয়েছিল। ফসল ওঠার পর মে মাসের দিকে জমিগুলো ফেরত দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শস্যক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর চিত্র করে সেটা গিনেস বুক অব রেকর্ডে নিয়ে আসার জন্য কৃষি ইনস্টিটিউট, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে যারা এর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই সেই কৃষককে যিনি প্রথম শস্যক্ষেত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছবি, আমাদের স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজ করে পথ দেখিয়েছেন। আমরা সত্যি এই কৃষকের জন্য গর্বিত। একজন সাধারণ কৃষকের যে চিন্তা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার যে ভালবাসা, আমাদের স্বাধীনতার প্রতি তার যে আন্তরিকতা- এই তো বাংলাদেশ। এইতো বাংলাদশের মানুষ; যে বাংলাদেশের মানুষের জন্য জাতির পিতা তার নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন।’

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু নিজের জীবনের সব সুখ আহ্লাদ ত্যাগ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি রক্ত দিয়ে সেই ঋণ শোধ করে গেছেন। তার ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে। কৃষক, শ্রমিক, দুঃখী ও মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার মাধ্যমে। সেই কাজটি আমাদের আন্তরিকতার সঙ্গে করতে হবে। এবং আমরা তা করতে পারব।

আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ, এই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। সারাবিশ্বের বুকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। বাঙালি জাতি বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে। সম্মানের সাথে চলবে। সম্মানিত জাতি হিসেবে সারাবিশ্বে সমাদৃত হবে।’

বিজ্ঞাপন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মশতবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সভায় সূচনা বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এছাড়া বক্তৃতা করেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মির্জা আজম, অর্থবিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, শিক্ষা সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান এবং দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির। এছাড়া সভায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরাসহ ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গণভবন প্রান্তে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button