জাতীয়

নানা জটিলতায় আটকে যাচ্ছে ৩৬ মন্দিরের সংস্কার

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নানা জটিলতায় আটকে যাচ্ছে ৩৬টি মন্দিরের সংস্কার কাজ। ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অন্তর্ভুক্ত ১ হাজার ৮১২টি মন্দিরের মধ্যে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই ৩৬টি মন্দিরের অবস্থান। এগুলোর বিষয়ে দরপত্র কার্যক্রম করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সব মন্দিরের জমি সংক্রান্ত মামলা, ব্যক্তিগত মন্দির, নামের গড়মিল, দ্বৈততা, প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ ও সরকারি সংস্থার ভূমিতে প্রস্তাবিত মন্দিরের অবস্থান হওয়ায় এবং আপত্তি পাওয়ায় ডিপিপি সংশোধন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ মন্দিরগুলোর নাম ও অবস্থান সংশোধন করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে সংশোধন ও সংযোজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

‘সমগ্র দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কার’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মন্দিরগুলো সংস্কারের কথা ছিল। গত ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রকল্পটির স্টিয়ারিং কমিটির সভায় জটিলতার বিষয়টি উঠে আসে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনলাইনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা হয় সভার কার্যবিবরণী। সম্প্রতি এটি পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। কার্যবিবরণীটি চলে এসেছে সারাবাংলার হাতে।

ধর্ম সচিব নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, সভায় জানানো হয় ২০১৯-২০ অর্থবছরের মোট ১৩৮টি প্যাকেজে ৪৯৩টি মন্দিরের ৫০ কোটি ৭০ লাখ টাকার চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে। এগুলোর কাজ চলমান। এ ছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরের এ পর্যন্ত মোট ৩১৫টি প্যাকেজে ১ হাজার ৭০টি মন্দিরের ১১৫ কোটি ১১ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান ও চুক্তি সম্পন্ন হয়ে কার্যক্রম চলমান। ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট ৪৫৩টি প্যাকেজের বিপরীতে ১ হাজার ৫৬৩টি মন্দিরের মধ্যে ৭০০টি মন্দিরের ১০০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ২৪৯টি মন্দিরের টেন্ডার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সভার বিস্তারিত আলোচনার পর প্রকল্পের বর্তমান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

সভায় আলোচনার মধ্যে আরও বলা হয়, অনুমোদিত ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) দরপত্র আহ্বানের জন্য প্যাকেজের সংখ্যা ছিল ১৫৯টি। অনুমোদিত ডিপিপি অনুসারে প্যাকেজ সংখ্যা ঠিক রেখে দরপত্র প্রকাশ করা হলে প্রতি প্যাকেজে কাজের পরিধি ও সময় বেশি প্রয়োজন হওয়ায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের ২০২০ সালের ৭ জুলাই এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ৯ জুলাই ৫০০টি প্যাকেজের অনুমোদন পাওয়া যায়।

এ টেন্ডার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ টেন্ডার কার্যক্রম চলমান অবস্থায় মাঠপর্যায়ের তথ্যাদি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, ৫০০টি প্যাকেজে সংখ্যা দিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংকুলান করা সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে আর ৭০টি প্যাকেজ সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

সভায় সদস্যরা বলেন, প্যাকেজ সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হলে প্রকল্প সংশোধন করতে হবে। প্রকল্প সংশোধন সময় সাপেক্ষ বিষয়, তাই পরবর্তী সময়ে ডিপিপি সংশোধন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার শর্তে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সারাবাংলা/জেজে/একে


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button