আন্তর্জাতিক

ইয়েমেন যুদ্ধের ইতি টানতে সৌদি আরবের শান্তি প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইয়েমেনে প্রায় অর্ধযুগের যুদ্ধে ইতি টানতে এবার শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছে সৌদি আরব। সোমবার (২২ মার্চ) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান রাজধানী রিয়াদে নতুন এই শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

সৌদির এ প্রস্তাবে বলা হয়, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ইয়েমেনজুড়ে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে। এছাড়া ইয়েমেনকে জরুরি আকাশপথ ও সমুদ্রপথ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে। রাজধানী সানায় অবস্থিতি প্রধান বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগ ও পশ্চিমাঞ্চলের লোহিত সাগরের হদেইদাহ সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে পণ্য আমদানি করতে পারবে ইয়েমেন। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতার পথও খুলে যাবে।

ফারহান বলেন, জাতিসংঘের বিশেষ দূত মার্টিন গ্রিফিথস ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছেন। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরে বেসামরিক উড়োজাহাজ ব্যবহার করতে পারবে ইয়েমেন এবং আলোচনাও শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন

ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকার এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে হুতি বিদ্রোহীরা বলছে সৌদির এমন উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়। সৌদির তরফ থেকে পেশ করা এমন শান্তি প্রস্তাব যথেষ্ট নয় বলে প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে তারা।

হুতিদের মুখপাত্র মোহাম্মদ আব্দুসসালাম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আমরা আশা করেছিলাম সৌদি আরব বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দেরর অবরোধ পুরোপুরি উঠিয়ে নেবে এবং জোটের অধীনে থাকা ১৪টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে। সৌদির তরফ থেকে প্রতিবছরই এমন শান্তি প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তিনি বলেন, আমরা সৌদি, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী ওমানের সঙ্গে শান্তি সমঝোতার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাব।

বিজ্ঞাপন

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুতিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা চাই সব বন্ধুক পুরোপুরি শান্ত হয়ে যাক। যুদ্ধবিরতি কবে থেকে কার্যকর হবে তা হুতিদের হাতে। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত। কিন্তু তাদের এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে— তারা কার স্বার্থ আগে দেখবে, ইয়েমেনের নাকি ইরানের?

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে কথিত আরব বসন্তে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের শাসক আলি আব্দুল্লাহ সালেহকে তার উপ-রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান মানসুর হাদির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হয়। তবে প্রেসিডেন্ট হাদি ইয়েমেনে অর্থনৈতিক দুর্বলতা, জঙ্গি তৎপরতা, দুর্নীতিসহ নানামুখী সংকটে পড়েন। দুর্বল সরকারের সুযোগ নিয়ে দেশটিতে তখন জায়েদি শিয়া বিদ্রোহীদের হুতি আন্দোলনের কর্মীরা দেশ দখল শুরু করে। হুতিদের আক্রমণে প্রেসিডেন্ট হাদি পদচ্যুত হন। হাদিকে ফের ক্ষমতায় বসাতে ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। হুতি বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে ইরান।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আইই


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button